সুনামগঞ্জ , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬ , ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সুরমা নদী ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের দাবি ধীরে চলছে চারলেন প্রকল্পের কাজ ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই কিশোর আটক জন্মজয়ন্তীতে কবি নজরুল ইসলামকে স্মরণ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‌্যালি গাছের সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কায় শ্রমিক নিহত, অটোরিকশার চাপায় প্রাণ গেল ৬ বছরের শিশুর পুশইনে মরিয়া বিএসএফ, সীমান্তে উত্তেজনা মে মাসে গণপিটুনি ও সহিংসতায় নিহত ৩১, ধর্ষণের শিকার ৮৩ নারী ও শিশু বাদাম চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ালেও ফলন নিয়ে শঙ্কা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে ছাড় দেওয়া হবে না ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় অনিয়ম, ক্ষোভে ফুঁসছেন বঞ্চিতরা টাঙ্গুয়ার হাওরে নিভে গেল ছোট্ট সৌম্যতার জীবনপ্রদীপ তাহিরপুরে ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভায় এমপি কামরুল মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ”

দুর্যোগে আতঙ্ক নয়, সতর্ক থাকতে হবে

  • আপলোড সময় : ০২-০৬-২০২৫ ১২:৩৬:৩৩ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০২-০৬-২০২৫ ১২:৩৬:৩৩ পূর্বাহ্ন
দুর্যোগে আতঙ্ক নয়, সতর্ক থাকতে হবে
প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বন্যা আমাদের জন্য নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষত সুনামগঞ্জ, সিলেট ও আশপাশের হাওর অঞ্চল বরাবরই বন্যার ঝুঁকিতে থাকে। তবে প্রাকৃতিক এই বাস্তবতা আমাদের আতঙ্কিত না করে সচেতন ও প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানায়। সাম্প্রতিক খবরে দেখা যাচ্ছে, মেঘালয়ে টানা ভারী বর্ষণের কারণে সুনামগঞ্জের নদ-নদীতে পানির স্তর বাড়লেও, হাওরগুলোতে এখনো কাক্সিক্ষত পরিমাণে পানি প্রবেশ করেনি। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, আপাতত বন্যার আশঙ্কা নেই। তবুও অতীত অভিজ্ঞতা বলে দেয়, হঠাৎ করে পাহাড়ি ঢল নামলে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যেতে পারে। তাই আতঙ্ক নয়, চাই বাস্তবভিত্তিক প্রস্তুতি ও সর্বোচ্চ সতর্কতা। এই প্রেক্ষাপটে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমাদের মনোযোগী হওয়া দরকার- প্রথমত, তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। আবহাওয়া বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যকার তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় আরও জোরদার করতে হবে। বন্যা-পূর্বাভাস, নদীর পানির উচ্চতা, পাহাড়ি অঞ্চলের বৃষ্টিপাত ইত্যাদি তথ্য প্রতিনিয়ত হালনাগাদ করে জনসাধারণের কাছে পৌঁছাতে হবে। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় জনগণের প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় জনগণই প্রথম প্রতিরক্ষা। স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা, খাদ্য ও ওষুধ মজুদ, শিশু ও বৃদ্ধদের নিরাপত্তায় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তৃতীয়ত, নগর ও গ্রামীণ অবকাঠামোর টেকসই রক্ষণাবেক্ষণ অপরিহার্য। ফসলরক্ষা বাঁধ, সড়ক, কালভার্টসহ সবকিছু সময়মতো মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে না পারলে পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হতে পারে। চতুর্থত, সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ চালু রাখা জরুরি। আতঙ্ক ছড়ানো নয়, বরং মানুষকে গুজব থেকে দূরে রেখে বাস্তবসম্মত তথ্য ও দিকনির্দেশনা দেওয়া জরুরি। আমরা জানি, প্রকৃতিকে পুরোপুরি থামানো যায় না, কিন্তু এর প্রভাবকে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সঠিক প্রস্তুতি, দ্রুত পদক্ষেপ এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে। তাই আসুন, বন্যাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগকে ভয় নয়, বরং প্রস্তুতি ও সচেতনতার হাতিয়ার দিয়ে মোকাবিলা করি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স