সুনামগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ , ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামালগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির প্রস্তুতিমূলক সভা বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারির দাফনে বাধা, সুনামগঞ্জে তীব্র ক্ষোভ সুরমা নদীতে টোল আদায় করতে না পেরে বিপাকে ইজারাদার ফুটবল খেলা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত তরুণ-তরুণীর বিয়েকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ : আহত ২০ হাওরে বোরোর মনগড়া লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ক্ষোভ নির্মাণকাজে অনিয়মের সত্যতা মিলেছে, বন্ধ ঠিকাদারের বিল শ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ ৪৬৯ পোশাক কারখানা প্রতি মাসে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ১০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ডিলারের লাইসেন্স ব্যবহার করে সরকারি কার্যালয়ে বীজের মজুত ও বিক্রির অভিযোগ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মওসুমের এক মাস আগেই শুকিয়েছে বীজতলা, বিপাকে হাওরের কৃষক সড়ক নির্মাণে দুর্নীতি আড়াল করতেই এমপি’র বিরুদ্ধে অপপ্রচার, লুটপাটকারীদের বিচারের দাবি জন্মান্ধ স্বামী, এক চোখে দেখেন স্ত্রী, মানুষের সাহায্যে চলে সংসার শঙ্কা মাথায় নিয়ে বোরো আবাদের প্রস্তুতি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে প্রস্তুতি সভা পোশাক কারখানা সচল রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাবা-মা-ভাইবোনসহ ছাত্রলীগ নেতার পুরো পরিবার গ্রেফতার, সঙ্গে ৩ বন্ধুও শীতকালীন সবজি চাষে নেই প্রণোদনা, ভালো দাম, প্রকৃতি ভরসা কৃষকের জাতীয় যুব দিবস পালিত ছাতকে আমন ধান কাটা উৎসব

তাহিরপুরে স্পীডবোট ঘাটে ৫০ টাকার টোল ২শ টাকা দাবী

  • আপলোড সময় : ১১-০৬-২০২৫ ০৮:৪৩:১৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১১-০৬-২০২৫ ০৮:৪৯:০০ অপরাহ্ন
তাহিরপুরে স্পীডবোট ঘাটে ৫০ টাকার টোল ২শ টাকা দাবী ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ রিপোর্টার::
তাহিরপুরের থানার সামনের স্পীডবোট ঘাটের টোল আদায় নিয়ে ইজারাদার ও বোট মালিকদের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। এখানে আগে টোল নেওয়া হতো ৫০ টাকা, এখন ২০০ টাকা দাবি করা হচ্ছে। টোল আদায়কারীরা বলছেন, এবার যেহেতু ইজারাদারের শরিক বেশি এবং ইজারা মূল্যও বেড়েছে, সুতরাং টোলের পরিমাণও বাড়াতে হবে। এবার বোট প্রতি টোল ২০০ টাকা দেওয়া লাগবে। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে মঙ্গলবার সারাদিন স্পীডবোট চলাচল বন্ধ ছিলো। পরে সন্ধ্যায় তাহিরপুরের ইউএনও আপোস করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সমাধান হয়নি।
মঙ্গলবার তাহিরপুর থানার সামনে স্পীডবোট ঘাটে আসেন বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী। এরমধ্যে ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়ার ভাই শাহ আলম, শিপুল, আবু জহুর, শাহজাহান ও মিলনসহ কয়েকজন। তারা ঘাটে এসে প্রতি ট্রিপে বোট চালকদের ২০০ টাকা দেবার কথা জানান।
এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বোট মালিকরা ২০০ টাকা দিতে অপারগতা জানান। এসময় স্পীডবোট থেকে যাত্রী নামিয়ে দেন নেতাকর্মীরা। পরে সারাদিন বোট চলাচলা বন্ধ রাখেন স্পীডবোট মালিক শ্রমিকরা।  বোট মালিকদের দেয়া তথ্যমতে, তাহিরপুরে স্পীডবোট আছে ৫২ টি। এরমধ্যে ছয়টি টাঙ্গুয়ার হাওরসহ অন্যান্য এলাকায় পর্যটকদের নিয়ে যাতায়াত করে। অন্য বোটগুলো তাহিরপুর থেকে মধ্যনগরে যাত্রী নিয়ে চলাচল করে। এজন্য প্রতিযাত্রীর কাছ থেকে তারা ৪০০ টাকা করে ভাড়া আদায় করেন। তিনদিনে সিরিয়ালে থেকে একটি বোট ট্রিপ পায়।

একজন স্পীডবোট চালক জানান, মঙ্গলবার সকালে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী এসে জানালেন প্রতি টিপে ২শ’ টাকা করে দিতে হবে। আমরা ৫০ টাকা করে দিয়ে আসছি। চার গুণ বেশি টাকা দিতে অপারগতা জানালে মিলন নামের একজন যাত্রীদের বোট থেকে নামিয়ে দেয়। পরে সারাদিন বোট চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

তাহিরপুর স্পীডবোট মালিক সমিতির সভাপতি শাহআলম বলেন, এতোদিন আমরা প্রতি ট্রিপে ৫০ টাকা করে দিয়েছি। এবার ইজারাদারের লোকেরা এসে ২০০ টাকা দাবি করেছেন। ২০০ টাকা দিলে আমাদের পুষাবে না। এতো টাকা খরচ করে বোট নিয়েছি আয়ের আশায়। আয় না হলে, নিজের খরচের টাকা তুলতে না পারলে বোট চালাবো না। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ইজারাদার ও আমাদের নিয়ে বসেন। ওই বৈঠকে সবোর্চ্চ ৭০ টাকা আদায় করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সিন্ধান্তও মানে নি ইজারাদারের লোকজন।
বুধবার সকালেও ঘাটে এসে ঝামেলা করেছে তারা। ইজারাদারের পক্ষের আলী রাজা নামের একজনের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, এবছর ভ্যাটসহ ২৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এই ঘাট ইজারা আনতে। এর আগের বছর রাজস্বসহ খরচ হয়েছে ১৬ লক্ষ টাকা। এবছর ঘাটে ৫০ থেকে ৬০ জনের শেয়ার বেড়েছে। সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়ার ভাই ইজারাদার শাহ আলম বলেন, বোট চলাচল বন্ধ ছিলো না। আমরা দিনে স্পীডবোট প্রতি ২০০ টাকা দাবি করেছিলাম। তারা দেয়নি। পরে সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে বসে বিষয়টির সমাধান হয়েছে। ইউএনও’ বলেছেন ৭০ টাকা করে দিতে। পরে আমরা বলেছি, গতবছর যত ছিলো তত করেই নেবো। এনিয়ে পরে আর কোনো ঝামেলা তৈরি হয়নি।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল হাসেম বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুই পক্ষই আমার কাছে এসেছিলেন। ইজারাদার পক্ষ ২০০ টাকা করে দাবি করছেন। আমি বলেছি এতো টাকা নেওয়া যাবে না। শেষে ৭০ টাকা নিতে বলা হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়া বলেন, ঘাট কারা ইজারা নিয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তবে ২০০ টাকা টোল আদায় অতিরিক্ত হয়ে যায়। এজন্য উপজেলা নির্বাহী কর্তকর্তা সিন্ধান্ত দিয়েছেন, ইউএনও সাহেবের সিদ্ধান্ত দু’পক্ষের জন্যই ভালো হয়েছে বলে মন্তব্য তাঁর।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
হাওরে বোরোর মনগড়া লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ক্ষোভ

হাওরে বোরোর মনগড়া লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ক্ষোভ