সুনামগঞ্জ , সোমবার, ০৪ মে ২০২৬ , ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অপরিকল্পিত বাঁধে বিপদ, উন্নয়নের নামে আত্মঘাতী পথচলা অপরিকল্পিত বাঁধ ও উন্নয়ন এখন হাওরের গলার কাঁটা ক্ষেতে-খলায় নষ্ট হচ্ছে ধান যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান মে দিবস পালিত প্রতিপক্ষের হামলায় কৃষক নিহত অপরিকল্পিত বাঁধে হাওরে সর্বনাশ জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত লক্ষাধিক হেক্টর জমির ফসল শনিবার সিলেট আসছেন প্রধানমন্ত্রী শান্তিগঞ্জে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সিসি ব্লক চুরির অভিযোগ উন্নয়ন প্রকল্পে বদলাচ্ছে ৫ বিদ্যালয়ের অবয়ব দিরাইয়ে ৬ দোকান পুড়ে ছাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন এমপি কামরুজ্জামান কামরুল আজ মহান মে দিবস তাহিরপুরে ভাঙারখাল নদীর উপর টোল-ফ্রি বাঁশের সেতু নির্মাণ, স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে ৬৪৭৬ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল ডিসি সম্মেলন শুরু ৩ মে, থাকছে ৪৯৮ প্রস্তাব সুনামগঞ্জসহ ৫ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস উদযাপিত জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেল ছায়ার হাওর কাটা ধানে গজাচ্ছে চারা জলাবদ্ধতায় ডুবছে হাওরের ধান, অসহায় কৃষক

শহরের খালগুলো উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

  • আপলোড সময় : ১৪-০৭-২০২৫ ০৯:০০:৩০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৪-০৭-২০২৫ ০৯:০০:৩০ পূর্বাহ্ন
শহরের খালগুলো উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নিন
সুনামগঞ্জ শহরের খালগুলো একসময় ছিল এর প্রাণসঞ্চারী শিরা-উপশিরার মতো। কামারখাল, বলাইখাল, তেঘরিয়া খাল, বড়পাড়া খাল, নলুয়াখালি খাল, ধোপাখালি খাল ও গাবরখালি খাল - এই সাতটি খাল শুধু পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমই ছিল না; এগুলো পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও শহরের ভারসাম্য রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ছিল। দুঃখজনক হলেও সত্য, ধারাবাহিক প্রশাসনিক অবহেলা, প্রভাবশালীদের দখলদারিত্ব এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালগুলো আজ অস্তিত্ব হারানোর পথে। ২০২৩ সালের ১৫ জুলাই জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে যে খাল উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছিল, তা ছিল জনমনে আশার সঞ্চারকারী। দেড় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রশাসন একটি সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিল। কিন্তু সেই অভিযান অল্প সময়ের মধ্যেই থেমে যায়। তার ফলস্বরূপ, খালগুলো আবারও বেদখলে চলে গেছে- লাল দাগ মুছে ফেলে, নতুন করে স্থাপনা গড়ে তোলে খাল গিলে খাচ্ছে দখলদাররা। উদ্বেগজনক হলো, এসব অবৈধ দখলের সঙ্গে জড়িত রয়েছে প্রভাবশালী বাসিন্দা, পৌরসভা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এমনকি সরকারি ও ধর্মীয় স্থাপনাও। এই অবস্থা কেবলমাত্র প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি নয়, বরং এটি আমাদের সামষ্টিক মূল্যবোধ ও নাগরিক দায়িত্ববোধের প্রশ্নও তুলে ধরে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এর আইনি উদ্যোগ ও আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও খাল উদ্ধারে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা না থাকায় দখলদারদের সাহস বেড়েছে। তারা জানে, দুদিনের উচ্ছেদের পর কর্তৃপক্ষ আর ফিরে তাকায় না। তাই অবাধে তারা আবারো দখলে নামে। আমরা মনে করি, অভিযান কেবল খাল উদ্ধারে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; এটি হতে হবে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনার অংশ। অসচ্ছল দখলদারদের পুনর্বাসনের বিকল্প ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করলে মানবিক সংকট তৈরি হয়। এটি দখল পুনরাবৃত্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। খালপাড় সংরক্ষণ ও বনায়ন উচ্ছেদকৃত জায়গায় দ্রুত গাছ লাগানো ও খালপাড়ের স্থায়ী ঘেরা বাঁধ দিলে আবার দখলের সাহস পাবে না কেউ। এছাড়া খাল দখলকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি। সুনামগঞ্জকে একটি বসবাসযোগ্য, পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হলে খাল উদ্ধার কেবল জরুরি নয়- এটি একান্ত অবশ্যম্ভাবী। এখন আর আশ্বাসে নয়, জনগণ চায় কার্যকর পদক্ষেপ। তাই সময় এসেছে শক্ত অবস্থান গ্রহণের - না হলে অচিরেই এই শহরের নামও কেবল একটি ডুবে যাওয়া স্মৃতি হয়ে থাকবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স