সুনামগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ , ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামালগঞ্জে ৬৭ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার ‎জামালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সঙ্গে নবনিযুক্ত ইউএনওর মতবিনিময় সভা নিজের অর্থে গড়া বাড়িতেই উঠতে পারছেন না মেক্সিকো প্রবাসী সাজেদা ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’র ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী লিবিয়া-গ্রিসে মানবপাচার, ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার ১ চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছে না সুনামগঞ্জ সংখ্যালঘু নিরাপত্তায় পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের ৭ দফা দাবি যারা ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলছে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী দোয়ারাবাজারে ভিডিও কনফারেন্সে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী গোবিন্দগঞ্জে স্কুলছাত্রকে মারধর ‎ক্ষতিগ্রস্ত বর্গাচাষীদের পাশে ইউএনও সঞ্জয় ঘোষ ইরা’র ‘লাইট’ প্রকল্পের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী আহত, প্রতিবাদে মানববন্ধন লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ, ডিম নিক্ষেপ দিনে ৭-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং অতিষ্ঠ জনজীবন বিশ্বকাপের উন্মাদনায় আর্জেন্টাইন সমর্থকদের আনন্দ মিছিল ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, জামালগঞ্জে সুরমা নদীর ওপর হচ্ছে সেতু সরকারের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাজেট প্রত্যাখ্যান করে এনডিএফ’র বিক্ষোভ পাটের বস্তা সংকটে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ, ভোগান্তিতে কৃষক

লোককবিদের স্মৃতিচিহ্ন রক্ষায় উদ্যোগী হতে হবে

  • আপলোড সময় : ২৭-০৭-২০২৫ ০৮:৫৫:২৩ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৭-০৭-২০২৫ ০৮:৫৫:২৩ পূর্বাহ্ন
লোককবিদের স্মৃতিচিহ্ন রক্ষায় উদ্যোগী হতে হবে
‘লোকে বলে বলেরে, ঘরবাড়ি ভালা না আমার’ - অমর মরমি কবি দেওয়ান হাসন রাজার এই আত্মবিন্যস্ত গানের পঙক্তির মতোই আজ সত্যি হয়ে উঠেছে তাঁর শূন্যতাময় পৈতৃক জমিদার বাড়ির অবস্থা। সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা গ্রামে অবস্থিত এই প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন এখন ধ্বংসের মুখে। বাংলা সাহিত্যে এবং আধ্যাত্মিক চর্চায় হাসন রাজার অবদান অবিস্মরণীয়। শুধুই একজন জমিদার নয়, তিনি ছিলেন বাউল-ভক্ত, আধ্যাত্মিক সাধক, মরমী কবি এবং গণমানুষের ভাবজগতের ভাষ্যকার। অথচ তাঁর জীবনঘনিষ্ঠ স্মৃতি, তাঁর বসতভিটা আজ পড়ে আছে অবহেলায়, অযতেœ - একটি লতাগুল্মে ঢাকা ধ্বংসপ্রায় ভবন, দরজা-জানালাবিহীন দুটি কক্ষ, একটি দীঘি ও পারিবারিক কবরস্থান - এসবই দাঁড়িয়ে আছে এক করুণ অপেক্ষায়। এ দুঃখ শুধু একটি বাড়ির নয়, এটি আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনার ক্ষয়িষ্ণু দৃষ্টান্ত। শুধু হাসন রাজাই নন, এই হাওর অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে আছেন বহু মরমী সাধক, বাউল, বৈষ্ণব কবি ও সুফি কবিদের পদচিহ্ন - যাদের গানে, সাধনায় গড়ে উঠেছিল লোকধর্ম, সহনশীলতা ও মানবিকতার ঐক্যসূত্র। কিন্তু হতাশার বিষয়, এই ইতিহাস সংরক্ষণে নেই সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ, নেই সংস্কৃতিমনা নেতৃত্বের আন্তরিকতা। বিশ্বনাথের ইউএনও সুনন্দা রায় জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হলেও উত্তরাধিকারীদের অভ্যন্তরীণ জটিলতা এবং অনাগ্রহের কারণে অগ্রগতি হয়নি। প্রশ্ন হচ্ছে - একটি জাতির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য কি শুধুই ব্যক্তিগত মালিকানার দ্বারস্থ থাকবে? রাষ্ট্রের কি কোনো দায় নেই এই মহামূল্যবান স্মৃতিচিহ্নগুলো রক্ষা করার? আমরা দাবি জানাই, হাসন রাজার রামপাশার পৈতৃক বাড়ি দ্রুত সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় এটি সংরক্ষণ করে একটি লোকসংগীত গবেষণা কেন্দ্র, মরমি সংগ্রহশালা বা আধ্যাত্মিক সাংস্কৃতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। সুনামগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মরমি কবিদের স্মৃতিচিহ্ন যেমন রাধারমণ দত্ত, দুর্বিন শাহ, শাহ আবদুল করিম, সৈয়দ শাহনূরদের ঘর-বসতিও একইভাবে সংরক্ষণযোগ্য। বাংলার লোকজ ইতিহাস কেবল বইয়ের পাতায় নয়, জড়িত রয়েছে জীবন্ত স্থাপনা, পদচিহ্ন ও ঐতিহ্যে। আজ যদি আমরা তা হারিয়ে ফেলি, কাল আর শুধুই ফাঁকা গান গাইতে হবে- ‘ঘরবাড়ি ভালা না আমার...”। এই দেশ, এই মাটি, এই গান - সবই আমাদের। দায়িত্বটাও আমাদেরই।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
নিজের অর্থে গড়া বাড়িতেই উঠতে পারছেন না মেক্সিকো প্রবাসী সাজেদা

নিজের অর্থে গড়া বাড়িতেই উঠতে পারছেন না মেক্সিকো প্রবাসী সাজেদা