সুনামগঞ্জ , শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ , ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উদ্বোধনেই থমকে আছে সদর হাসপাতালের আইসিইউ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ নরেন্দ্র মোদির শহরে জলাবদ্ধতাসহ নাগরিক দুর্ভোগ নিরসনের দাবি অপরাধমুক্ত সুনামগঞ্জ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জামালগঞ্জে বাঁধ ভেঙে ঢুকছে পানি, প্লাবিত হচ্ছে বসতভিটা, আমন ফসল নিয়ে শঙ্কায় কৃষক জামায়াতে ইসলামী থেকে ‘ইসলামী’ শব্দ বাদ দেওয়ার দাবি যুবদল সভাপতির জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালনে প্রস্তুতিমূলক সভা জেলা পুলিশের অনলাইনভিত্তিক কুইজে প্রথম জেলা ছাত্রদলের সভাপতি পাহাড়ি ঢলে ভেঙেছে আছিয়ার শেষ আশ্রয়, অনিশ্চয়তায় জীবন ছাতক পৌরসভার টেকসই উন্নয়নে আইইউজিআইপি’র সভা জগন্নাথপুর পৌরসভার ২২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার বাজেট ঘোষণা অস্তিত্ব সংকটে পান্ডারখাল বাঁধ ওয়ার্ল্ড ভিশনের শিশুদের বার্ষিক সমাবেশ, ২ হাজার ৭৫০ শিশুর মাঝে উপহার বিতরণ সক্রিয় মাদক কারবারি চক্র মাদক, ছড়িয়ে পড়ছে শহর থেকে গ্রামে দিরাই বিএনপিতে বিরোধ চরমে একপক্ষের বহিষ্কারের সুপারিশ, অপরপক্ষের উন্নয়ন সভার ডাক এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব : আইনমন্ত্রী জামায়াতের এমপির ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ভাইরাল, ফেসবুকে যে ব্যাখ্যা দিলেন চেলা নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন ২৬ জনের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলা ৪৮ পদের মধ্যে ৩৬টিই শূন্য জামালগঞ্জে নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে শতাধিক বসতভিটা
গিরিধর উচ্চ বিদ্যালয়

বিদ্যালয়ের মাঠে প্রাণ ফেরাল শিক্ষার্থীরা

  • আপলোড সময় : ০২-০৮-২০২৫ ০৮:৫৩:২১ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০২-০৮-২০২৫ ০৮:৫৫:৩৯ পূর্বাহ্ন
বিদ্যালয়ের মাঠে প্রাণ ফেরাল শিক্ষার্থীরা
স্টাফ রিপোর্টার ::
শাল্লা উপজেলার গিরিধর উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে প্রাণ ফিরিয়ে এনেছে শিক্ষার্থীরা। গত তিন বছর ধরে দিরাই-শাল্লা সড়ক নির্মাণে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন বালু, পাথর রেখে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত করে খেলার মাঠটি দখলে নিয়েছিল। তারা নির্মাণসামগ্রী রেখে মাঠটিকে খেলাধুলার অনুপযোগী করে ফেলে রেখে যায়। দিনের পর দিন বালু, পাথর রাখার কারণে মাঠ খেলাধুলার জন্য বিপজ্জনক হয়ে পড়ে।
গত জুন মাসে মাঠে ভিটবালু ফেলে খেলাধুলার উপযোগী করে দেয়ার কথা থাকলেও, কথা রাখেনি সড়কের পুনঃর্নির্মাণ কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারের লোকজন। এমনকি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো আবারও দু’বছরের জন্য মালামাল রাখতে এলাকায় মাইকিং করে অভিভাবক সভার আয়োজন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। জানাযায়, ওই সভায় মাঠ সংস্কারের কথা না বলে আবারও মাঠে মালামাল রাখার দাবি করে বসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এনিয়ে গত ২৬ জুলাই গিরিধর উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি ক্লাস রুমে অনুষ্ঠিত সভায় চলে পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল বিতর্ক। এক পর্যায়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন বলেন, আমরা দু’বছর পর আড়াই লাখ টাকা দিব। কিন্তু অভিভাবকদের পক্ষে কেউ একজন প্রস্তাব করেন পাঁচ লাখ টাকার। পরে এনিয়ে একটি বোর্ড গঠনও করা হয়। বোর্ডেও ৫ লাখ টাকার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন পাঁচ লাখ টাকা দিতে রাজি হয়নি। বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ নিয়ে এমন দরকষাকষি চলতে থাকে। ফলে ওই সভায় দু’বছরের জন্য মাঠ ভাড়ার বিষয়ে উভয়পক্ষই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে মাঠ সংস্কারে নেমে পড়েন। সরেজমিনে দেখা যায়, শুক্রবার সকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উড়া-কোদাল নিয়ে গিরিধর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে বালু, পাথর সরানোর কাজ করছেন। তারা নিজেরা কাজে হাত লাগানোর পাশাপাশি নয়জন শ্রমিককেও কাজে লাগান।
দুপুরের খাবারও তাদেরকে উন্মুক্ত মাঠেই খেতে দেখা যায়। বিকেলে তারা আনন্দপুর বাজার থেকে বাঁশ এনে গোলপোস্টও তৈরি করে ফেলেন। দিনব্যাপী উৎসাহ উদ্দীপনার নিয়ে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার মাঠকে সংস্কার কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীরা জানান, এক সপ্তাহ তারা প্র্যাকটিস করবে। এরমধ্যে মাঠটিকে আরও সংস্কার করতে চায় তারা। কারণ, মাঠে ড্রামট্রাক দিয়ে মালামাল নেয়ার সময় অনেক গর্ত হয়ে গেছে। এসব ঠিক করতে কিছু বালুর প্রয়োজন। সপ্তাহখানেক পরে তারা একটি টুর্নামেন্টের আয়োজন করবে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে সিলেট জজকোর্টের আইনজীবী সুব্রত দাশ বলেন, খেলাধুলা শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ। খেলাধুলা শিক্ষার সাংঘর্ষিক নয়। বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ইজারা দেয়ার জন্য নয়, এটি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য। খেলার মাঠ নিয়ে যেন কোনো বাণিজ্য না হয়। একারণে শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে মাঠ সংস্কারের ডাক দিয়েছে। আমিও তাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য সিলেট থেকে আজ এসেছি। তারা গোলপোস্টও তৈরি করেছে। মাঠে আমিও তাদের সহযোগিতা করেছি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যেন দ্রুত মাঠ সংস্কার করে দেয়। যেনতেনভাবে নয়, মাঠকে মাঠের মতো করে দিতে হবে। এখন সংস্কার না করলে ৭ লাখ টাকার দাবি জানান তিনি। এদিকে, মাঠ সংস্কারের যাবতীয় খরচ বহন করেন অ্যাডভোকেট সুব্রত দাশ। এছাড়া মাঠ সংস্কারের সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনন্দ মোহন চৌধুরী শিক্ষার্থীদের চা-বিস্কুটও খেতে দেন।
এ বিষয়ে পুনর্নির্মাণাধীন দিরাই-শাল্লা মহাসড়ক নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার সুখরঞ্জন বলেন, হেমন্ত সিজনে মাঠ সংস্কারের চেষ্টা করবে তারা। কারণ, এখন ভিটবালু পাওয়া যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, শিক্ষার্থীরা আমার কাছে মাঠে খেলাধুলা করার বিষয়টি জানানোর জন্য এসেছিল। তাদেরকে বলেছি তোমরা যদি খেলাধুলা করতে চাও - তাহলে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ কাউকে ব্যবহার করতে দেব না। আমি তাদেরকে খেলাধুলা করার জন্য একটি ফুটবলও দিয়েছি। আমি ঠিকাদারকে বলব দ্রুত সময়ের মধ্যে মাঠটিকে খেলাধুলার উপযোগী করে দেয়ার জন্য।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
উদ্বোধনেই থমকে আছে সদর হাসপাতালের আইসিইউ

উদ্বোধনেই থমকে আছে সদর হাসপাতালের আইসিইউ