সুনামগঞ্জ , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ , ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব : আইনমন্ত্রী জামায়াতের এমপির ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ভাইরাল, ফেসবুকে যে ব্যাখ্যা দিলেন চেলা নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন ২৬ জনের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলা ৪৮ পদের মধ্যে ৩৬টিই শূন্য জামালগঞ্জে নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে শতাধিক বসতভিটা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পাহাড়ি ঢলের তান্ডবে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, চরম দুর্ভোগে সীমান্তবাসী একদিনেই দুই শিশুর মৃত্যু, জেলায় মৃতের সংখ্যা ৪৭ মধ্যনগরের ১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমপি কামরুলের অর্থায়নে নৌকা বিতরণ পথে যেতে যেতে: পথচারী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে সওজকে আদালতের নির্দেশ ‎আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন পাঁচ মিনিটের বক্তব্যে মুগ্ধ করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ বর্ষায় নজরুল : শিল্পকলা একাডেমিতে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা মৃত্যুর শীর্ষে সুনামগঞ্জ, ৭ মাসে প্রাণ গেল ৪৫ শিশুর মধ্যনগরে শিশু ধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার ১ শান্তিগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ‎জামালগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু

পর্যটন বিকাশের নামে টাঙ্গুয়ার হাওর ভয়াবহ দূষণের শিকার

  • আপলোড সময় : ২৯-০৮-২০২৫ ০৯:১২:১১ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৯-০৮-২০২৫ ০৯:১২:১১ পূর্বাহ্ন
পর্যটন বিকাশের নামে টাঙ্গুয়ার হাওর ভয়াবহ দূষণের শিকার
অমূল্য সম্পদ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন জীববৈচিত্র্যের ভা-ার টাঙ্গুয়ার হাওর আমাদের জলবায়ু, পরিবেশ ও অর্থনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমানে পর্যটন বিকাশের নামে এই হাওর ভয়াবহ দূষণের শিকার হচ্ছে। প্রতিদিন হাজারো পর্যটক নৌকা ও হাউসবোট নিয়ে হাওরে ভ্রমণে আসছেন। কিন্তু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো পরিকল্পনা নেই। প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের প্যাকেট, ওয়ান-টাইম প্লাস্টিক এসব অপচনশীল বর্জ্য নিয়মিত পানিতে ফেলা হচ্ছে। এর সাথে যোগ হয়েছে হাউসবোটের রান্নাঘরের জৈব বর্জ্য এবং সবচেয়ে ভয়াবহ হলো- সেফটি ট্যাংক না থাকায় শত শত পর্যটকের পয়ঃবর্জ্য সরাসরি হাওরের পানিতে মিশে যাচ্ছে। এতে পানির মান দ্রুত নষ্ট হচ্ছে, দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, আর জলজ প্রাণীর জীবনচক্র হুমকির মুখে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইঞ্জিনচালিত নৌকার তেল, সাবান-শ্যা¤পু মিশ্রিত পানি এবং প্লাস্টিক একত্রে হাওরের জন্য নীরব ঘাতক হিসেবে কাজ করছে। ইতিমধ্যে অনেক দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হয়েছে। একই সাথে পর্যটকদের অসচেতন আচরণের কারণে হাওরের সৌন্দর্যও ক্ষুণœ হচ্ছে। এতে পর্যটনের স্থায়িত্বশীল বিকাশও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা দেখেছি, প্রশাসন নানা সময়ে অভিযান চালালেও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। কারণ, প্রয়োজনীয় যানবাহন ও সমন্বয়ের অভাব প্রকট। ফলে, যারা হাওর থেকে লাভবান হচ্ছেন, বিশেষ করে হাউসবোট মালিক ও পর্যটন ব্যবসায়ী, তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে প্রকৃতি ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থায় আমাদের করণীয় স্পষ্ট- ১. হাউসবোটে সেফটি ট্যাংক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাধ্যতামূলক করতে হবে। প্রয়োজনে ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন করা জরুরি। ২. প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করতে হবে। বিকল্প পরিবেশবান্ধব প্যাকেট ও কাপ ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে হবে। ৩. সচেতনতা কার্যক্রম বাড়াতে হবে। পর্যটক ও স্থানীয়দের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। ৪. প্রশাসনের অভিযান নিয়মিত করতে হবে। ৫. স্থানীয় মৎস্যজীবী ও পরিবেশকর্মীদের স¤পৃক্ত করতে হবে। টাঙ্গুয়ার হাওর কেবল প্রাকৃতিক স¤পদ নয়, এটি আমাদের সাংস্কৃতিক ও জাতীয় ঐতিহ্য। আজ যদি আমরা অবহেলা করি, কাল হয়তো আর ফিরিয়ে আনা যাবে না এই জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। তাই সময় এসেছে কথার ফুলঝুড়ি নয়, বরং কঠোর বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ