বিশেষ প্রতিনিধি::
দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করেছিল স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের এক কঠোর শাসন।
জনগণের কণ্ঠ রোধ করতে তখন জারি ছিল জেল, জুলুম আর হুলিয়ার শাসন। রাজনৈতিক মতপ্রকাশ ছিল প্রায় নিষিদ্ধের মতো, আর গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলাটাই হয়ে উঠেছিল অপরাধ। ঠিক সেই সময়, রাজপথে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন কিছু সাহসী মানুষ। তারা ছিলেন বয়সে তরুণ, কিন্তু মননে পরিণত। তাদেরই একজন-জাহাঙ্গীর আলম, সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক এবং বর্তমান স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব।
জাহাঙ্গীর আলম রাজনীতিতে এসেছেন আদর্শ আর আত্মত্যাগের অগ্নিমশাল চেতনা নিয়ে। তাঁর বক্তৃতা বরাবর ধারালো, সরল আর জনমন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো। রাজনৈতিক সমাবেশগুলোতে তাঁর সপ্রাণ উপস্থিতিই উজ্জীবীত করে শ্রোতাদের। কথার তেজে, বারুদ স্লোগানে তিনি জাগিয়ে তুলেন রাজপথ, উজ্জীবিত করেন নেতা-কর্মীদের। ক্ষোভে, আহ্বানে এবং প্রেরণায় ভরা তাঁর বক্তব্যে সমাবেশস্থল হয়ে উঠে হাততালিতে মুখর। তার কণ্ঠে জাতীয়তাবাদী স্লোগান অন্যরকম আবহ তৈরি করে।
মোহনপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মো. সেলিম বলেন, ‘স্লোগানে স্লেগানে রাজপথ কাঁপিয়েছেন জাহাঙ্গীর। যখন মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করেন, তখন শ্রোতারা মোহাবিষ্ট হয়ে শোনেন। সময়ের দাবি মিটিয়ে বক্তব্যে ধারাবাহিকতা রক্ষা করে সংগঠনের নীতি ও আদর্শের ফেরি করেন তিনি। তাঁর বলার ভঙ্গি ও কণ্ঠের জোরেই চারপাশ আলোড়িত হয়।’ তাঁর এই অনমনীয় অবস্থান আর রাজপথকেন্দ্রিক দৃঢ় ভূমিকার জন্যই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার তাঁর নামে দিয়েছে ১৫টি ‘গায়েবি’ মামলা। দীর্ঘদিন কাটাতে হয়েছে কারাগারে। অবশেষে ৫টি মামলা প্রত্যাহার হলেও এখনও ১০টি মামলা রয়েছে ঝুলে। তবে এসব নিপীড়ন তাঁকে দমাতে পারেনি। বরং প্রতিটি বাধাই তাঁকে করেছে আরও দৃঢ়, আরও অগ্রগামী। রাজনীতির কণ্ঠকাকীর্ণ পথে ধির পায়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে আমি কারাবরণ করেছি, নির্যাতিত হয়েছি। মৃত্যুভয়ের সঙ্গে নানা বৈয়ষিক লোভও দেখানো হয়েছিল। তবু কখনও পিছু হটিনি। জাতীয়তাবাদী শক্তিকে এগিয়ে নিতে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। ‘স্বাধীনতাবিরোধীদের সম্প্রতি প্রতিরোধের কঠিন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাহাঙ্গীর।
সম্প্রতি সুনামগঞ্জ জেলা শহরসহ আশপাশের এলাকায় একাধিক রাজপথকেন্দ্রিক কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম। তাঁর ভাষণ ও অবস্থানে উঠে এসেছে স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে কঠিন হুঁশিয়ারি। তিনি স্পষ্ট জানান, ‘বাংলাদেশ নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র, কিংবা একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করা হলে স্বেচ্ছাসেবক দল তা রূখে দেবে। দিল্লী বা পিন্ডি নয় একটি সুখি ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশই আমাদের লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, এখন তৃণমূলে তারেক রহমানের রাষ্ট্রসংস্কার কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর সুনামগঞ্জ জেলায় স্থানীয় নেতৃত্বে আছেন জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের বলিষ্ঠ মুখ, রাজপথের ‘বারুদ’ নূরুল ইসলাম নূরুল ভাই। তিনিই আমাদের মধ্যে সাহসের সঞ্চার করে চলছেন।
জাহাঙ্গীর আলম দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে রাজপথে সংগ্রামই একমাত্র পথ। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগকে মর্যাদা দিতে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার আকাঙ্খাকে রক্ষা করতেই তিনি রাজনীতি করছেন।
জাহাঙ্গীর আরো বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। আমরা সে পথেই এগিয়ে যাচ্ছি বাঁধা যতই আসুক, থামবো না।’
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
রাজপথে স্বৈরাচারবিরোধী এক প্রত্যয়ী কণ্ঠস্বর জাহাঙ্গীর আলম
- আপলোড সময় : ২৯-০৮-২০২৫ ০৯:৫৩:২০ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৯-০৮-২০২৫ ১০:০০:৩৩ পূর্বাহ্ন

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ