সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬ , ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামালগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির প্রস্তুতিমূলক সভা বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারির দাফনে বাধা, সুনামগঞ্জে তীব্র ক্ষোভ সুরমা নদীতে টোল আদায় করতে না পেরে বিপাকে ইজারাদার ফুটবল খেলা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত তরুণ-তরুণীর বিয়েকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ : আহত ২০ হাওরে বোরোর মনগড়া লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ক্ষোভ নির্মাণকাজে অনিয়মের সত্যতা মিলেছে, বন্ধ ঠিকাদারের বিল শ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ ৪৬৯ পোশাক কারখানা প্রতি মাসে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ১০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ডিলারের লাইসেন্স ব্যবহার করে সরকারি কার্যালয়ে বীজের মজুত ও বিক্রির অভিযোগ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মওসুমের এক মাস আগেই শুকিয়েছে বীজতলা, বিপাকে হাওরের কৃষক সড়ক নির্মাণে দুর্নীতি আড়াল করতেই এমপি’র বিরুদ্ধে অপপ্রচার, লুটপাটকারীদের বিচারের দাবি জন্মান্ধ স্বামী, এক চোখে দেখেন স্ত্রী, মানুষের সাহায্যে চলে সংসার শঙ্কা মাথায় নিয়ে বোরো আবাদের প্রস্তুতি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে প্রস্তুতি সভা পোশাক কারখানা সচল রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাবা-মা-ভাইবোনসহ ছাত্রলীগ নেতার পুরো পরিবার গ্রেফতার, সঙ্গে ৩ বন্ধুও শীতকালীন সবজি চাষে নেই প্রণোদনা, ভালো দাম, প্রকৃতি ভরসা কৃষকের জাতীয় যুব দিবস পালিত ছাতকে আমন ধান কাটা উৎসব

শিক্ষায় পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর প্রতি বিশেষ নজর দিন

  • আপলোড সময় : ০৯-০৯-২০২৫ ০৮:২১:৪৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৯-০৯-২০২৫ ০৮:২১:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিক্ষায় পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর প্রতি বিশেষ নজর দিন
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য আমাদের সামনে একটি স্পষ্ট বাস্তবতা তুলে ধরেছে- বাংলাদেশে এখনও প্রায় ২২ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ নিরক্ষর। অর্থাৎ সাত বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠীর প্রায় এক-চতুর্থাংশ এখনো পড়তে-লিখতে জানে না। জাতীয় অগ্রগতির এই যুগে এমন একটি চিত্র দুঃখজনক, আবার একই সঙ্গে আমাদের জন্য সতর্কবার্তাও বটে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪ অনুযায়ী, দেশে সাক্ষরতার হার বর্তমানে ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। নিরক্ষর জনগোষ্ঠী মূলত বিদ্যালয় বহির্ভূত শিশু, ঝরে পড়া শিক্ষার্থী এবং শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ। তাদের জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো নানা কার্যক্রম হাতে নিলেও সমস্যা এখনো সমাধান হয়নি। ২০২২ সালে মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে ৪৪ লাখ মানুষ সাক্ষরজ্ঞান অর্জন করেছে, আবার ২০২৪ সালে সমাপ্ত উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচির আওতায় অনেক শিক্ষার্থী মূল ধারায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এসব কার্যক্রম প্রশংসনীয় হলেও এগুলোকে আরও বিস্তৃত ও টেকসই করতে হবে। এই প্রেক্ষাপটে হাওর জেলা সুনামগঞ্জের অবস্থার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয়। ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং আর্থসামাজিক বঞ্চনার কারণে এখানকার শিক্ষার হার জাতীয় গড়ের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। বর্ষাকালে স্কুলে যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ে, অনেক শিশু পড়াশোনা ছেড়ে মাছ ধরা বা কৃষিকাজে যুক্ত হয়। ফলে ঝরে পড়ার হার বেড়ে যায়। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা বিদ্যালয়মুখী না হয়ে অল্প বয়সেই শ্রমজীবনে প্রবেশ করতে বাধ্য হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার অভাব। সব মিলিয়ে সুনামগঞ্জে শিক্ষার উন্নয়নে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। দেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করতে হলে কোনো জনগোষ্ঠীকেই পিছিয়ে রাখা যাবে না। সাক্ষরতার পাশাপাশি দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ও জীবনমুখী প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এজন্য হাওরাঞ্চলসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিকল্প শিক্ষা ব্যবস্থা, নৌকা-স্কুল, প্রি-ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল লার্নিং সেন্টার এবং পরিবারভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম চালু করা যেতে পারে। আমরা মনে করি, সাক্ষরতা কেবল অক্ষর জ্ঞান নয়; এটি একটি জাতির সম্ভাবনা ও মর্যাদার প্রতীক। তাই নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে আলোয় আনার দায়িত্ব আমাদের সবার। সরকার, এনজিও, সমাজসেবী সংগঠন ও স্থানীয় জনসমাজের সমন্বিত উদ্যোগই পারে শিক্ষার বৈষম্য কমিয়ে একটি সত্যিকার অর্থে জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
হাওরে বোরোর মনগড়া লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ক্ষোভ

হাওরে বোরোর মনগড়া লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ক্ষোভ