সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ , ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ দিরাইয়ে নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌরসভার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী খুন নির্মাণ হচ্ছে জয়কলস হাইওয়ে পুলিশের নিজস্ব ভবন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কার্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন জামালগঞ্জে ৬৭ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার ‎জামালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সঙ্গে নবনিযুক্ত ইউএনওর মতবিনিময় সভা নিজের অর্থে গড়া বাড়িতেই উঠতে পারছেন না মেক্সিকো প্রবাসী সাজেদা ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’র ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী লিবিয়া-গ্রিসে মানবপাচার, ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার ১ চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছে না সুনামগঞ্জ সংখ্যালঘু নিরাপত্তায় পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের ৭ দফা দাবি যারা ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলছে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী দোয়ারাবাজারে ভিডিও কনফারেন্সে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী গোবিন্দগঞ্জে স্কুলছাত্রকে মারধর ‎ক্ষতিগ্রস্ত বর্গাচাষীদের পাশে ইউএনও সঞ্জয় ঘোষ ইরা’র ‘লাইট’ প্রকল্পের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী আহত, প্রতিবাদে মানববন্ধন লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ, ডিম নিক্ষেপ

হাওরের বুক চিরে বিশ্ববিদ্যালয় নয়

  • আপলোড সময় : ১০-০৯-২০২৫ ১২:৩০:৪৫ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১০-০৯-২০২৫ ১২:৩০:৪৫ পূর্বাহ্ন
হাওরের বুক চিরে বিশ্ববিদ্যালয় নয়
সুনামগঞ্জে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। একটি জেলার শিক্ষাগত অগ্রগতির জন্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নতুন প্রজন্মকে আলোকিত করার পথ খুলে দেয়। কিন্তু যে জায়গাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটি দেখার হাওর এলাকার ভেতরে - এই সিদ্ধানমশ নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন উঠেছে। দেখার হাওর শুধু ধানের ভা-ার নয়, বরং মিঠাপানির মাছ, পাখি ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্যেরও আশ্রয়স্থল। স্থানীয় কৃষকরা বছরের প্রায় সাত মাস এই হাওরে ধান ও মাছের ওপর নির্ভরশীল। যে জায়গাটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যা¤পাসের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে, সেটি নিয়মিত পানির নিচে থাকে। বর্ষায় এখানে পানির গভীরতা পাঁচ ফুট পর্যন্ত হয়। ফলে এই জমি ভরাট করে বিশাল স্থাপনা তৈরি করা মানে শুধু একটি প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থান ধ্বংস করা নয়, বরং দীর্ঘ মেয়াদে কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করা। এখনই দেখা যাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য ক্যাম্পাসের চারপাশে রাস্তা নেই, বিদ্যমান জমি আবাদযোগ্য, এমনকি কবরস্থান ও বীজতলার মতো গুরুত্বপূর্ণ জমিও এর মধ্যে পড়ছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত পরিবেশগত এবং সামাজিক দিক থেকে টেকসই নয়। তাছাড়া হাওরের ভেতরে বিশ্ববিদ্যালয় হলে স্বাভাবিকভাবেই আশপাশে নতুন জনপদ, দোকানপাট, আবাসন গড়ে উঠবে। এতে নদী-নালা ভরাটের প্রবণতা বাড়বে এবং পুরো হাওর অঞ্চলের জন্য হুমকি সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে, জেলা সদরের কাছেই কয়েকটি তুলনামূলক উঁচু জায়গার প্রস্তাব এসেছে- যেমন যোগীরগাঁও, রতনশ্রী বা হাসননগরের আশপাশ। এগুলো শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য যোগাযোগ ও বসবাসের দিক থেকেও অনেক বেশি সুবিধাজনক। সবচেয়ে বড় কথা, পরিবেশ রক্ষা করে শিক্ষা অবকাঠামো গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই অনেক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম শুরু করলেও স্থায়ী ক্যা¤পাসের অভাবে এগুলো কাক্সিক্ষত মানে পৌঁছাতে পারেনি। সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে পাঠদান ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে, তবে স্থায়ী ক্যা¤পাস বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ভবন নয়, এটি জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র। হাওরের বুক চিরে সেই ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা হলে তা হবে অদূরদর্শী। তাই সরকারের উচিত পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যা¤পাস নির্মাণ করা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ