সুনামগঞ্জ , সোমবার, ০৪ মে ২০২৬ , ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অপরিকল্পিত বাঁধে বিপদ, উন্নয়নের নামে আত্মঘাতী পথচলা অপরিকল্পিত বাঁধ ও উন্নয়ন এখন হাওরের গলার কাঁটা ক্ষেতে-খলায় নষ্ট হচ্ছে ধান যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান মে দিবস পালিত প্রতিপক্ষের হামলায় কৃষক নিহত অপরিকল্পিত বাঁধে হাওরে সর্বনাশ জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত লক্ষাধিক হেক্টর জমির ফসল শনিবার সিলেট আসছেন প্রধানমন্ত্রী শান্তিগঞ্জে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সিসি ব্লক চুরির অভিযোগ উন্নয়ন প্রকল্পে বদলাচ্ছে ৫ বিদ্যালয়ের অবয়ব দিরাইয়ে ৬ দোকান পুড়ে ছাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন এমপি কামরুজ্জামান কামরুল আজ মহান মে দিবস তাহিরপুরে ভাঙারখাল নদীর উপর টোল-ফ্রি বাঁশের সেতু নির্মাণ, স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে ৬৪৭৬ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল ডিসি সম্মেলন শুরু ৩ মে, থাকছে ৪৯৮ প্রস্তাব সুনামগঞ্জসহ ৫ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস উদযাপিত জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেল ছায়ার হাওর কাটা ধানে গজাচ্ছে চারা জলাবদ্ধতায় ডুবছে হাওরের ধান, অসহায় কৃষক
ভূমিকম্পে তেঘরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনে ফাটল

শিশুদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রেখে পাঠদান অগ্রহণযোগ্য

  • আপলোড সময় : ১৭-০৯-২০২৫ ০৭:৩৯:৪৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৭-০৯-২০২৫ ০৭:৩৯:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিশুদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রেখে পাঠদান অগ্রহণযোগ্য
শিক্ষা হলো জাতির মেরুদ-। কিন্তু সেই মেরুদ-কে শক্তিশালী করার জন্য যেখানে নিরাপদ পরিবেশ অপরিহার্য, সেখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি ভয়াবহ অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার চিত্র। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের তেঘরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দোতলা ভবনে রবিবারের ভূমিক¤েপ নতুন করে অন্তত ১০ স্থানে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ছাদ, মেঝে, দেয়াল, সিঁড়ি, ভিম ও কলামে যে বিপজ্জনক ফাটল দেখা দিয়েছে, তা শুধু উদ্বেগজনক নয়, বরং একটি বড়ো দুর্ঘটনার পূর্বাভাস। এই ভবনটি নির্মিত হয়েছিল ১৯৯৯ সালে। অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণকাজে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছিল। পর্যাপ্ত রড ব্যবহার করা হয়নি, প্লাস্টারে বালুর বদলে মাটি মেশানো হয়েছিল, সিমেন্টও দেওয়া হয়েছিল কম। এর ফলেই মাত্র দশ বছরের মাথায় ২০১০ সালে ভবনের সর্বত্র ফাটল দেখা দেয়। ২০১৩ সালে জাতীয়করণের সময় ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ আজও নেওয়া হয়নি। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে শিশুদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রেখে এভাবে পাঠদান চালানো নিঃসন্দেহে অগ্রহণযোগ্য এবং অমানবিক। অভিভাবকদের আতঙ্ক এখন প্রকট। স্কুলে ২০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ভূমিক¤েপর পরদিন উপস্থিতি নেমে এসেছে ৫০-এর নিচে। প্রাক-প্রাথমিক কক্ষে ক্লাস বন্ধ, অন্যান্য শ্রেণিকক্ষেও ভয়ের কারণে শিক্ষার্থীরা আসছে না। শিক্ষার্থীদের কান্নাভেজা কণ্ঠ- “ইস্কুল ভাঙ্গি গিছে, ক্লাস করতে ডর করের” আমাদের বিবেককে নাড়া দেওয়ার মতো যথেষ্ট। শিক্ষক প্রশিক্ষণার্থীরা নিজেরাই বলছেন, এত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান কার্যক্রম অন্য কোথাও দেখা যায়নি। অথচ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন আজও অক্ষত রয়েছে, শিশুরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে। আমরা মনে করি, এই অবস্থা আর চলতে দেওয়া যায় না। শিক্ষা অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে জরুরি ভিত্তিতে তিনটি পদক্ষেপ নিতে হবে: ১. তাৎক্ষণিকভাবে ভবনে পাঠদান বন্ধ করে বিকল্প স্থানে ক্লাস চালু করা। ২. ভবনটির ব্যবহার স¤পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ৩. দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ বা সংস্কারের জন্য বরাদ্দ ও প্রকল্প অনুমোদন করা। এছাড়া, ভবন নির্মাণে দুর্নীতি ও অনিয়মের দায় নিরূপণ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুর। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কোনোভাবেই দুর্নীতির শিকার হতে পারে না। শিশুদের জীবন নিয়ে খেলা করার অধিকার কারও নেই। আজ যদি কর্তৃপক্ষ নীরব থাকে, তবে যে কোনো মুহূর্তে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তার দায়ভার শুধু স্থানীয় প্রশাসনের নয়, পুরো রাষ্ট্রের ওপর বর্তাবে। আমরা চাই, শিক্ষার্থীদের জীবন সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। শিশুদের ঝুঁকির মুখে ফেলে শিক্ষার আলো জ্বালানো যায় না - এ কথা মনে রাখা জরুরি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স