সুনামগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ , ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামালগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির প্রস্তুতিমূলক সভা বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারির দাফনে বাধা, সুনামগঞ্জে তীব্র ক্ষোভ সুরমা নদীতে টোল আদায় করতে না পেরে বিপাকে ইজারাদার ফুটবল খেলা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত তরুণ-তরুণীর বিয়েকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ : আহত ২০ হাওরে বোরোর মনগড়া লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ক্ষোভ নির্মাণকাজে অনিয়মের সত্যতা মিলেছে, বন্ধ ঠিকাদারের বিল শ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ ৪৬৯ পোশাক কারখানা প্রতি মাসে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ১০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ডিলারের লাইসেন্স ব্যবহার করে সরকারি কার্যালয়ে বীজের মজুত ও বিক্রির অভিযোগ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মওসুমের এক মাস আগেই শুকিয়েছে বীজতলা, বিপাকে হাওরের কৃষক সড়ক নির্মাণে দুর্নীতি আড়াল করতেই এমপি’র বিরুদ্ধে অপপ্রচার, লুটপাটকারীদের বিচারের দাবি জন্মান্ধ স্বামী, এক চোখে দেখেন স্ত্রী, মানুষের সাহায্যে চলে সংসার শঙ্কা মাথায় নিয়ে বোরো আবাদের প্রস্তুতি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে প্রস্তুতি সভা পোশাক কারখানা সচল রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাবা-মা-ভাইবোনসহ ছাত্রলীগ নেতার পুরো পরিবার গ্রেফতার, সঙ্গে ৩ বন্ধুও শীতকালীন সবজি চাষে নেই প্রণোদনা, ভালো দাম, প্রকৃতি ভরসা কৃষকের জাতীয় যুব দিবস পালিত ছাতকে আমন ধান কাটা উৎসব

দেশে প্রতিদিন ৫৬২ জন হৃদরোগে মারা যান

  • আপলোড সময় : ৩০-০৯-২০২৫ ০৬:৪৮:৫৩ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ৩০-০৯-২০২৫ ০৬:৪৮:৫৩ পূর্বাহ্ন
দেশে প্রতিদিন ৫৬২ জন হৃদরোগে মারা যান
সুনামকণ্ঠ ডেস্ক :: দেশে প্রতিবছর কত মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হন, হৃদরোগে ভোগা মানুষের সংখ্যা কত, কত শিশু হৃৎপি-ের ত্রুটি নিয়ে জন্মাচ্ছে, প্রতিবছর কত মানুষ হৃদরোগে মারা যাচ্ছেন, তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। কিছু নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যাট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন বেশ কিছু রোগের বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দেড় দশকের বেশি সময় ধরে গবেষণা করছে। বাংলাদেশসহ প্রায় ২০০টি দেশ নিয়ে তারা গবেষণা করছে। বিভিন্ন ধরনের হৃদরোগ-সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান তাদের গবেষণা থেকে পাওয়া যাচ্ছে। রোগের তালিকায় বিভিন্ন ধরনের হৃদরোগও আছে। তাদের হিসাবে বাংলাদেশে প্রতিবছর ২ লাখ ৫ হাজারের বেশি মানুষ হৃদরোগে মারা যান। অর্থাৎ দৈনিক ৫৬২ জনের মৃত্যু হচ্ছে হৃদরোগে। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ২৩ সেপ্টেম্বর উচ্চ রক্তচাপ বিষয়ক বৈশ্বিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর ৯ লাখ ১৭ হাজার ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে হৃদরোগ ও রক্তনালির (কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ) রোগে মারা যান ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ মানুষ। এই পরিসংখ্যান বলছে, দেশে প্রতিদিন হৃদরোগ ও রক্তনালির রোগে ৭৭৭ জনের মৃত্যু হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যাট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন দুটি প্রতিষ্ঠানই ২০২১ সালের পরিসংখ্যান দিয়েছে। হৃদরোগ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোনো সময়ের তুলনায় হৃদরোগ শনাক্তের পরীক্ষা এখন দেশে বেশি হচ্ছে। জনবল, যন্ত্রপাতি ও হাসপাতালের সংখ্যা বেড়েছে। পরীক্ষা বেশি হওয়ার কারণে শনাক্ত বেশি হচ্ছে। অন্যদিকে মানুষের কায়িক শ্রম কমেছে, খেলাধুলার সুযোগ কমেছে, শহর-নগরে মানুষের হাঁটার মতো রাস্তার স্বল্পতা দেখা যাচ্ছে - এসব হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, ‘জাঙ্ক ফুড’ বা অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবারের ব্যবহার বাড়ছে, এসব খাবারে অভ্যস্ত মানুষ হৃদ্রোগের শিকার হচ্ছেন বেশি। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যাট্রিক্স আন্ড ইভালুয়েশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে কোনো না কোনো হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ভুগছেন অনুমিত ১ কোটি ২ লাখ ৬২ হাজার ১৯০ জন। অন্যদিকে দেশে প্রতিবছর নতুন করে ৯ লাখ ৯২ হাজার ৭৩৬ জন হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এর অর্থ প্রতিদিন আনুমানিক ২ হাজার ৭২০ জন হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, কমপক্ষে ১১ ধরনের হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা তাঁরা দেন। সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হন ‘স্কেমিক হার্ট ডিজিজ’-এ। অন্য ধরনগুলোর মধ্যে আছে: কার্ডিওমায়োপ্যাথি অ্যান্ড মায়োকার্ডিটিস, রিউম্যাটিক হার্ট ডিজিজ, নন-রিউম্যাটিক ভালভুলার হার্ট ডিজিজ, হাইপারটেনসিভ হার্ট ডিজিজ, অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশান, এন্ডোকার্ডিটিস, অ্যাওর্টিক অ্যানিউরিজম, পালমোনারি অ্যাট্রিয়াল হাইপারটেনশন, লোয়ার এক্সট্রিমিটি পেরিফেরাল আর্টেরিয়াল ডিজিজ ও জন্মগত হৃদরোগ। হৃদরোগের ঝুঁকি : উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। দেশে হৃদরোগে যত মানুষ মারা যায়, তাদের ৫০ শতাংশের বেশি মানুষের উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস থাকে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল শাফি মজুমদার বলেন, উচ্চ রক্তচাপ হৃৎপি-ের মাংসপেশিকে মোটা করে দেয়। এর ফলে হৃদরোগের কার্যকারিতা হ্রাস পায়। অন্যদিকে উচ্চ রক্তচাপের কারণে রক্তনালি সরু হয়ে যায়। এ দুটোই হৃদরোগের বড় কারণ। যারা কম কায়িক শ্রমে অভ্যস্ত, তাদের হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির রোগ, ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেশি। দেশে ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ২৯ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ প্রয়োজনের চেয়ে কম কায়িক শ্রমে অভ্যস্ত। নারীর তুলনায় পুরুষর মধ্যে কায়িক শ্রম কম। অন্যদিকে একই বয়সী মানুষের ২০ দশমিক ৩ শতাংশ স্থূলকায়। এদের ওজন উচ্চতার তুলনায় বেশি। দেশে পুরুষের তুলনায় নারীর মধ্যে স্থূলতা বেশি দেখা যায়। দেশে হৃদরোগ চিকিৎসার অনেক উন্নতি হয়েছে। হৃৎপি- প্রতিস্থাপনসহ দু-একটি জটিল হৃদরোগের চিকিৎসা ছাড়া দেশে প্রায় সব ধরনের হৃদরোগের আধুনিক চিকিৎসা দেশেই আছে। বেসরকারি পর্যায়ে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল আছে, যেখানে বিশ্বমানের চিকিৎসা হচ্ছে। তারপরও প্রতিবছর বহু মানুষ হৃদরোগ চিকিৎসায় দেশের বাইরে যাচ্ছেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃদরোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল। সুতরাং হৃদরোগ যেন না হয়, সেই চেষ্টা জোরদার করতে হবে। এটা প্রমাণিত যে ৮০ শতাংশ হৃদরোগ প্রতিরোধযোগ্য। এ জন্য মানুষের মধ্যে এই রোগটির ঝুঁকি ও প্রতিরোধের ব্যাপারে সচেতনতা বাড়ানো দরকার। অন্যদিকে হৃদরোগে আক্রান্তদের সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। হৃদরোগের আধুনিক চিকিৎসা ঢাকায় কেন্দ্রীভূত না রেখে দেশের জেলা পর্যায়ে পৌঁছানোর উদ্যোগ সরকারকে নিতে হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
হাওরে বোরোর মনগড়া লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ক্ষোভ

হাওরে বোরোর মনগড়া লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ক্ষোভ