সুনামগঞ্জ , সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬ , ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গনবিজ্ঞপ্তি--সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন পৈতৃক সম্পত্তির রেকর্ড সংশোধন ও স্বত্ব ফেরতের দাবি হাওরে স্কুলযাত্রায় জীবনের ঝুঁকি, নিরাপদ নৌযান এখনো অধরা ১৬১৩ শিক্ষকের পদ শূন্য, ৪৫১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক মইয়ার হাওরে নৌকাডুবিতে নিহত ২, নিখোঁজ ২, ভবানীপুরে শোকের মাতম জামালগঞ্জে হামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচার দাবি বালুর নিচে হাজার বিঘা কৃষিজমি, বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কা হবিগঞ্জে সারজিস ও নাসীরুদ্দীনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা সরকার নৈতিক দিক থেকে দেশ পরিচালনার অধিকার হারিয়েছে : জামায়াত আমির একটি মহল সচেতনভাবে ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করছে : মির্জা ফখরুল আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বিভক্তির চিত্র, ৬ ও ৮ আগস্ট পৃথক সমাবেশের ডাক উড়াল সড়ক প্রকল্প পরিদর্শনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন, স্মারকলিপি, ধর্ষকের ফাঁসির দাবি ছাতকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৪ দাবি মেনে নতুন টোল নির্ধারণ, নদীপথে স্বাভাবিক হচ্ছে পণ্য পরিবহন সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখানোর আদেশ স্থগিত তারেক রহমানের সফরের অপেক্ষায় ভারত : দীনেশ ত্রিবেদী চার্জশিট থেকে মূল আসামিসহ ৯ জনের নাম বাদ দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ধোপাজান-চলতি নদীতে বালু লুট বন্ধের দাবি মানব সমাজ, সৃজনশীলতা ও সভ্যতার বিবর্তন : সৃষ্টি ও ধ্বংসের এক অনন্ত মহাকাব্য
নিয়ম না মেনে গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদান

বিআরটিএ’র মোটরযান পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন ওএসডি, আছে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও

  • আপলোড সময় : ০৯-১০-২০২৫ ১২:০১:৩৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৯-১০-২০২৫ ১২:০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন
বিআরটিএ’র মোটরযান পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন ওএসডি, আছে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও
স্টাফ রিপোর্টার::
নিয়ম না মেনে যানবাহনের ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদানের অভিযোগে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সুনামগঞ্জ সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দেলোয়ার হোসেনকে ওএসডি (অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি) করে ঢাকার হেড অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
নিয়ম না মেনে একটি গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়ার অভিযোগ পাওয়ায় বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। বিআরটিএ’র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে বদলির আদেশ দেয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোটরযান পরিদর্শক (অ. দা.) দেলোয়ার হোসেন। তবে, এই অফিস আদেশের ব্যাপারে জানতে বিআরটিএ সুনামগঞ্জ সার্কেলের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি কেউই। একাধিকবার বলার পর বিআরটিএ সুনামগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) আবদুর রশীদ বলেন, “এইটা (অফিস আদেশ) দিয়ে আর কি করবেন, তার তো শাস্তি যা হওয়ার হয়েই গেছে। সে তো চলে গেছে আর এসব করার (নিউজ) কি দরকার।” তিনি জানান, দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ‘একটা গাড়ির ফিটনেস সংক্রান্ত বিষয়ে’ অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগের কারণে তাকে সদর কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়টি তিনি বিস্তারিত খুলে বলতে রাজি হননি।
গত মঙ্গলবার দুপুরে বিআরটিএ সুনামগঞ্জ সার্কেল অফিসে মোটরযান পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং সদর কার্যালয়ে সংযুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কিন্তু কী কারণে বদলি করা হয়েছে সেই বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এদিকে, সর্বশেষ বিআরটিএ’র ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা ২৩০ জন প্রার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৫৯ জন।
এরমধ্যে সুনামগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ৮০ জন প্রশিক্ষণার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ৮০জনই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্র জানায়, ৮০ জন প্রশিক্ষণার্থী বিআরটিএ সুনামগঞ্জ সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দেলোয়ার হোসেনকে জনপ্রতি ৩ হাজার ৫শ টাকা করে মোট ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়েছেন। ৮০ জন প্রশিক্ষণার্থীর উত্তীর্ণ হওয়ার ঘটনাটি টাকার বিনিময়ে পাস করানোর অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।
এই বিষয়ে একাধিক পরীক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানাযায়, বিআরটিএ অফিসে লাইসেন্স সংক্রান্ত বিভিন্ন পরীক্ষায় টাকা না দিলে ইচ্ছে করে ফেল করানো হয়, এমন একটি অলিখিত নিয়ম চালু ছিল। বাধ্য হয়েই অনেক প্রার্থীকে মোটরযান পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেনকে টাকা দিতে হয় বলে জানান তারা। পরীক্ষার অংশগ্রহণ শেষে ওই ৮০ জন পরীক্ষার্থীদের ‘টিম লিডার’ জানান, ৮০ জনের কাছ থেকে ৩ হাজার ৫শ টাকা করে জনপ্রতি দেলোয়ার স্যারকে দেওয়া হয়েছে। শুনলাম স্যার নাকি বদলি হয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পরীক্ষার্থী বলেন, আমরা তো চাই না টাকা দিতে। কিন্তু জানি, টাকা না দিলে পাস করাবে না। যার কারণে বাধ্য হয়ে টাকা দিতে হয়। এই টাকা পরিদর্শক দেলোয়ার সাহেবকে না দিলে আমাদের লাইসেন্স হতোই না।
অন্য একজন পরীক্ষার্থী হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আমার পরীক্ষার সব প্রস্তুতি ভালো ছিল। কিন্তু পরীক্ষার আগে জানতে পারি, টাকা না দিলে রিপোর্ট আটকে দেবে বা কোনো না কোনো অজুহাতে ফেল করাবে। তাই ঝুঁকি না নিয়ে আমিও ৩ হাজার ৫০০ টাকা দিয়েছি।
আরেকজন ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী জানান, শুনছি কেউ কেউ প্রথমে টাকা না দিয়ে পরীক্ষা দিয়েছিল। তাদের ফেল করানো হয়। পরে তারা টাকা দিয়ে আবার পরীক্ষা দিলে তবেই পাস করতে পেরেছে। এই কারণে বাধ্য হয়েই আমাদের মতো অন্যদেরও ঘুষ দিতে হয়েছে।

টাকা লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে বুধবার বিকেলে মোটরযান পরিদর্শক (অ.দা.) দেলোয়ার হোসেন বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা। আমাকে কেউ একটা টাকাও দেয়নি। নিয়ম মেনেই সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন। ফিটনেস প্রদানে রুলস মেইনটেইন না করার কথাও স্বীকার করেন এই কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে বিআরটিএ সুনামগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) আবদুর রশীদ বলেন, এই সংক্রান্ত বিষয়ে কেউ আমাকে জানায় নি। কে টিটিসি থেকে পরীক্ষা দিসে বা কে কোথায় থেকে পরীক্ষা দিয়েছে তা আমরা দেখি না। আমরা দেখি সে পরীক্ষার্থী কি-না।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
গনবিজ্ঞপ্তি--সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন

গনবিজ্ঞপ্তি--সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন