সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ , ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ দিরাইয়ে নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌরসভার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী খুন নির্মাণ হচ্ছে জয়কলস হাইওয়ে পুলিশের নিজস্ব ভবন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কার্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন জামালগঞ্জে ৬৭ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার ‎জামালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সঙ্গে নবনিযুক্ত ইউএনওর মতবিনিময় সভা নিজের অর্থে গড়া বাড়িতেই উঠতে পারছেন না মেক্সিকো প্রবাসী সাজেদা ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’র ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী লিবিয়া-গ্রিসে মানবপাচার, ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার ১ চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছে না সুনামগঞ্জ সংখ্যালঘু নিরাপত্তায় পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের ৭ দফা দাবি যারা ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলছে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী দোয়ারাবাজারে ভিডিও কনফারেন্সে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী গোবিন্দগঞ্জে স্কুলছাত্রকে মারধর ‎ক্ষতিগ্রস্ত বর্গাচাষীদের পাশে ইউএনও সঞ্জয় ঘোষ ইরা’র ‘লাইট’ প্রকল্পের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী আহত, প্রতিবাদে মানববন্ধন লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ, ডিম নিক্ষেপ

শহীদ মিনার ভাঙা : ইতিহাস ও চেতনার প্রতি নির্মম অবজ্ঞা

  • আপলোড সময় : ১৬-১০-২০২৫ ০৮:০৭:০৩ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৬-১০-২০২৫ ০৮:০৭:০৩ পূর্বাহ্ন
শহীদ মিনার ভাঙা : ইতিহাস ও চেতনার প্রতি নির্মম অবজ্ঞা
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের ঐতিহাসিক শহীদ মিনার ভেঙে সেখানে ‘প্রাক্তন কৃতী শিক্ষার্থী ফলক’ নির্মাণের ঘটনা আমাদের সমাজের সাংস্কৃতিক চেতনা ও ইতিহাসবোধের ভয়াবহ অবক্ষয়কে নগ্নভাবে উন্মোচিত করেছে। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় স্মৃতি বহনকারী এই শহীদ মিনারটি শুধু ইট-পাথরের নির্মাণ ছিল না - এটি ছিল একাত্তরের রক্তস্নাত সংগ্রাম ও বাঙালির আত্মপরিচয়ের প্রতীক। অথচ সেই ঐতিহাসিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার সাহস দেখিয়েছে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যার দায়িত্ব ছিল নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস ও মূল্যবোধ শেখানো। ষাটের দশকে নির্মিত এই শহীদ মিনারটি সুনামগঞ্জের মানুষের গৌরবের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিল দীর্ঘদিন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালে একে ভেঙে ফেললেও মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে কলেজের ছাত্রসমাজ ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা একে পুনঃর্নির্মাণ করেন। এই মিনার তাই একযোগে ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির ধারক। এর ভাঙচুর কোনো সাধারণ নির্মাণ কাজ নয় - এটি আমাদের জাতিস্মৃতি ও মুক্তির ইতিহাসের ওপর হাতুড়ির আঘাত। অবাক করা বিষয় হলো, কলেজ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে তারা “জানতেন না” এটি ঐতিহাসিক শহীদ মিনার। এমন বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীনতার সীমা ছাড়িয়ে নির্বুদ্ধিতা ও অজ্ঞানতার পরিচয় দেয়। একটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষক পরিষদ যদি নিজেদের প্রতিষ্ঠানেই নির্মিত শহীদ মিনারের ইতিহাস সম্পর্কে না জানেন, তবে সেই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার আলোক কেমনভাবে জ্বলবে? শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা শুরুতেই বিকল্প স্থান প্রস্তাব করেছিলেন, কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষের একাংশের অদূরদর্শী জেদের কারণে অবশেষে ভাঙন ঘটে ইতিহাসের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জে যে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে তা অযৌক্তিক নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় বইছে, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন, ছাত্র সংগঠনগুলো লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছে। কারণ শহীদ মিনার কেবল একটি স্থাপনা নয়; এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দু। একে ভাঙা মানে আমাদের আত্মপরিচয়কে ধ্বংস করা। আজ সময় এসেছে প্রশাসন ও শিক্ষাব্যবস্থার দায়িত্বশীলরা বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করার। অবিলম্বে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের ঐতিহাসিক শহীদ মিনারটি তার পূর্বের স্থানে ও আকৃতিতে পুনঃনির্মাণ করতে হবে। একই সঙ্গে, যারা দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে ইতিহাসের এই অপমান ঘটিয়েছে, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। প্রাক্তন কৃতী শিক্ষার্থী ফলক নির্মাণে কেউ আপত্তি করছে না - কিন্তু তা ইতিহাস ধ্বংস করে নয়, বরং ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অন্য স্থানে হোক। শহীদ মিনার বাঙালির আত্মার প্রতীক, স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি। এই প্রতীকের অবমাননা মানে জাতির আত্মাকে আহত করা। আমরা আশা করি, সুনামগঞ্জবাসীর ঐক্যবদ্ধ দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই ভুল সংশোধন করবে। কারণ, ইতিহাসের ওপর আঘাত কোনো সময়েই ক্ষমাযোগ্য নয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ