শামস শামীম::
সুনামগঞ্জের হাওরে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণের লক্ষ্যে সার্ভে শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। গত ৫ নভেম্বর থেকে ৬টি টিম সার্ভে শুরুর পর এখন পানি কিছুটা কমায় ১০ নভেম্বর থেকে আরো ২০টি টিম মাঠে কাজ করছে। ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে সার্ভে শেষ করে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শুরুর নির্দেশনা রয়েছে। বিলম্বে সার্ভে শুরু হওয়ায় এবারও যথাসময়ে কাজ শুরু হবেনা বলে মনে করছেন কৃষকরা। তাছাড়া অক্ষত বাঁধকে ক্ষতিগ্রস্ত দেখিয়ে প্রকল্প বাড়িয়ে যাতে বরাদ্দ লোপাট করা না হয় সেদিকে নজর রাখার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে বড়ো হাওরের গভীর অংশের পানি না নামায় ঠিক মতো সার্ভেও করা যাচ্ছেনা। বরাবরের মতো এবারও বাইরের লোকজন এনে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে সার্ভে করছে পাউবো।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মওসুমে জেলার ছোট বড়ো ২১০টি হাওরে ২ লক্ষ ২৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৪২টি হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ, সংস্কার ও মেরামতের লক্ষ্যে মাঠে সার্ভে শুরু করেছে। চলতি বছর প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সার্ভে করে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার মেরামত ও সংস্কারের লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। এ পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ নির্মাণে প্রাথমিক বরাদ্দ দিয়েছে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। তবে চূড়ান্ত বরাদ্দ শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা গেছে, ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে ১৬০০ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধ সার্ভে করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১২৯ কোটি টাকা বরাদ্দে প্রায় ৫৯৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের কাজ করা হয়েছিল। গঠন করা হয়েছিল প্রায় ৭শ পিআইসি। এবারও সমপরিমাণ পিআইসি গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে পিআইসি গঠন ও বাঁধ নির্মাণের লক্ষ্যে প্রাথমিক সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। পিআইসি আদায় করে নিতে সুবিধাভোগীরা নানাভাবে চেষ্টা তদবির শুরু করেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্টরা আরো জানান, একাধিক বড়ো হাওরের গভীর অংশের পানি এখনো কমেনি। তাই সার্ভে বিলম্ব হচ্ছে। তবে যেসব হাওরের পানি কমেছে সেসব হাওরে সার্ভের কাজ পুরোদমে চলছে। প্রতিটি উপজেলাতেই সার্ভে টিম দিনভর হাওরের পুরনো বাঁধে কাজ করছে।
হাওর, নদী ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি মিজানুর রহমান রাসেল বলেন, গত দুই বছর ধরে বন্যা না হওয়ায় হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ বেশিরভাগই অক্ষত রয়েছে। সার্ভে কমিটি যেন যথাযথ সার্ভে করে। না হলে সরকারি অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা থাকে। কারণ প্রতি বছর সার্ভের সময়ই অক্ষত বাঁধকে ক্ষতিগ্রস্ত দেখিয়ে প্রকল্প বাড়িয়ে বরাদ্দ লোপাট করা হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই মাঠের সার্ভেয়াররা লোপাটের সুযোগ তৈরি করে দেন। তাই এদিকে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ করতে হলে কৃষকদের পরামর্শে তাদের নিয়ে সার্ভে করা উচিত। কিন্তু কৃষকদের না নিয়ে ইঞ্জিনিয়াররা সার্ভে করেন। তারা হাওর বুঝেন না। হাওরের অভিজ্ঞজনদেরও পরামর্শ নেওয়া হয় না। এভাবেই প্রকল্প তৈরি করা হচ্ছে, প্রকল্প ও বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। হাওরের কৃষকের জন্য স্থায়ী কাজ কিছু হচ্ছে না।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-১ মামুন হাওলাদার বলেন, আমরা প্রথমে স্থানীয়ভাবে সার্ভে শুরুর পরের সপ্তাহে আরো ২০টি টিম এসে যোগ দিয়েছে। ১ হাজার কিলোমিটার সার্ভে করে এবার প্রায় ৬০০ মিটার আমরা বাঁধ নির্মাণ করবো। তবে পানি বিলম্বে কমার কারণে সার্ভে করতে এবং হাওরের গভীরের পানি না কমায় সার্ভে বিলম্ব হচ্ছে। যারা মাঠে কাজ করছে তাদেরকে যথাযথভাবে সার্ভে করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ
অক্ষত বাঁধকে ক্ষতিগ্রস্ত না দেখানোর দাবি
- আপলোড সময় : ১৩-১১-২০২৫ ০৮:২৬:৪৬ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৩-১১-২০২৫ ০৮:৩৩:৩৪ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ