সুনামগঞ্জ , রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর পদক্ষেপের দাবিতে মানববন্ধন সফর সংক্ষিপ্ত, কূটনৈতিক কর্মসূচি বিস্তৃত: নিউইয়র্কে তারেক রহমান নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি ঢাকা-সিলেট সড়কের ৬ লেনের নির্মাণকাজ শেষ হবে ২৯ সালে : সড়কমন্ত্রী দিরাই সরকারি ডিগ্রি  কলেজে ‎"অধ্যক্ষ বিহীন ১৭ বছর" ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক উন্নয়নে ১৭৪ কোটি টাকার কাজ উদ্বোধন ভিপি জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে মমতাজ বেগম ছাতকে ১৫ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাচালান পণ্যসহ আটক ১ ডাকসুতে ইতিহাসের বিতর্ক, বাংলাদেশের জন্মপথ কি মুছে ফেলা যায়? ‎তিন সন্তানকে বিষপান করানোর পর বাবারও বিষপান, তাহিরপুরে তিন শিশুর মৃত্যু সংকটে ধুঁকছে সদর হাসপাতাল শহরের পাসপোর্ট অফিস রোড এলাকায় ঘনঘন চুরি বাংলাদেশ হয়ে উঠার ঐতিহাসিক গল্প আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৬৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা ছাতকের চরমহল্লায় মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৯ ওয়ার্ডে ৯ সেলাই মেশিন বিতরণ তাহিরপুরে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ‎হ্যান্ডবলে বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন জামালগঞ্জের আলাউদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় দোয়ারাবাজারে নদীভাঙনে অস্তিত্ব হারাচ্ছে কবরস্থান তাহিরপুরে সড়কের বেহাল দশা,দুর্ভোগে পর্যটক-স্থানীয়রা ভূমি অফিস শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণা এসিল্যান্ডের

‘কাগজে বাস্তবায়িত’ ঘাস চাষ প্রকল্প : হাওরের কৃষক কি পেলেন?

  • আপলোড সময় : ১৯-১১-২০২৫ ০৪:০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৯-১১-২০২৫ ০৪:০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন
‘কাগজে বাস্তবায়িত’ ঘাস চাষ প্রকল্প : হাওরের কৃষক কি পেলেন?
হাওরাঞ্চলের কৃষি ও প্রাণিস¤পদ খাতের উন্নয়ন দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ তাদের জীবিকা নির্ভর করে গবাদিপশু, কাঁচা ঘাস ও মৌসুমী কৃষির উপর। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বাস্তবতার সঙ্গে বেমানান পরিকল্পনা এবং মাঠপর্যায়ে দুর্বল তদারকির কারণে অনেক সময় বড় বড় সরকারি প্রকল্পও মাঠে সফলতা পায় না। সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় ‘ঘাস চাষ সম্প্রসারণ প্রকল্প’ তার উদাহরণ। ১১৭ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাগজে-কলমে সব কিছুই আছে, ঘাস চাষ, জার্মপ্লাজম নার্সারি, সাইলেজ প্রযুক্তি, হাজার হাজার কৃষকের প্রশিক্ষণ, এমনকি ৭৭ হাজার একর ঘাস চাষেরও হিসাব রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, তালিকাভুক্ত কৃষকদের অনেকে দেশে নেই, কেউ জানেনই না তিনি ‘ঘাস চাষী’, কেউ পেয়েছেন শুধু প্রশিক্ষণ বা কিছু উপকরণ কিন্তু মাঠে ঘাস চাষ নেই। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, হাওরের বিশেষ ভূপ্রকৃতির কথা বিবেচনায় না রেখেই এই প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছিল। বছরের অর্ধেকের বেশি সময় পানির নিচে থাকা ভূমিতে নিয়মিত ঘাস চাষ বাস্তবসম্মত নয় - এটা প্রকল্পের শুরুতেই বিবেচনা করা উচিত ছিল। প্রকল্পের মেয়াদ চার বছর পেরিয়ে যাচ্ছে, তবুও মাঠপর্যায়ে কোন বাস্তব সাফল্য নেই; উল্টো দেখা যাচ্ছে কাগজে সফলতার গল্প। যাদের নামে বরাদ্দ, প্রশিক্ষণ ও উপকরণ দেখানো হয়েছে তারা নিজেরাই জানেন না কীভাবে এবং কেন তাদের নাম তালিকায় এলো। যদি প্রকল্পে প্রকৃত কৃষকই অংশগ্রহণ না করেন, ঘাস চাষ কোথায় হবে? আর যারা সামান্য প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, তাদের তদারকি, তথ্য সংগ্রহ বা ফলাফল মূল্যায়নের উদ্যোগও নেই। এটা নিছক প্রশাসনিক দুর্বলতা নয়, বরং সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প তদারকির দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতার প্রতিচ্ছবি। প্রকল্প শেষ হওয়ার আগেই মাঠপর্যায়ে কাজ মূল্যায়ন করা উচিত ছিল। প্রকল্প ব্যয়, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকের প্রকৃত অবস্থা, প্রকল্পে তালিকাভুক্তদের সত্যতা এবং বাস্তব উপকারভোগীর সংখ্যা নিয়ে তদন্তের প্রয়োজন আছে। আমরা মনে করি, হাওরাঞ্চলে উন্নয়ন প্রকল্প নিতে হলে শুধুমাত্র কাগজে পরিকল্পনা যথেষ্ট নয়, অভিজ্ঞতা, ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু এবং স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে হবে। নেপিয়ার বা হাইব্রিড ঘাস চাষের মতো উদ্যোগ সফল করতে হলে প্রথমে প্রয়োজন জমির উপযোগিতা, মৌসুমী পানি ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ প্রযুক্তির ক্ষমতা এবং কৃষকের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। সুনামগঞ্জের হাওরবাসীর দাবি সরল- কাগজে নয়, বাস্তবে সফল প্রকল্প চাই। প্রাণিপুষ্টি উন্নয়নের নামে কোটি টাকার প্রকল্প কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকলে তার দায় শুধু বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের নয়, তদারকির ব্যর্থতাও সমানভাবে প্রযোজ্য। আমাদের প্রত্যাশা- ভবিষ্যতের যে কোনো প্রকল্পের ক্ষেত্রে বাস্তবতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে হাওরবাসীর জন্য কার্যকর উন্নয়ন নিশ্চিত করা হোক।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর পদক্ষেপের দাবিতে মানববন্ধন

কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর পদক্ষেপের দাবিতে মানববন্ধন