সুনামগঞ্জ , শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ , ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সুনামগঞ্জে সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা সহ্য করা হবে না : এমপি নূরুল ইসলাম পতিত জমিতে মাল্টার বাগান, প্রবাসফেরত সাইফুরের সাফল্য শারদীয় দুর্গোৎসব ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ‎জামালগঞ্জে ৫৫ পূজামণ্ডপে এমপির অনুদান, সিসি ক্যামেরা ও সড়ক সংস্কারে সহায়তা প্রশাসনের উৎসবের আনন্দ থেকে কোনো শিশু যেন বঞ্চিত না হয় : জেলা প্রশাসক শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু, আজ মহাষষ্ঠী রিয়াদের বিমানবন্দরে ১৫ দিনে ২০ বার হামলা চালিয়েছে হুথিরা শিশু পরিবারের শিশুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করল লায়ন্স ক্লাব শান্তিগঞ্জে বশির উদ্দিন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এসএসসি উত্তীর্ণদের সংবর্ধনা অস্ট্রেলিয়ার জুটিকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে রাঈদ-লিপটন ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ৯০০ রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে সুনামগঞ্জে ৪৪৪ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের প্রস্তুতি সম্পন্ন পূজার ছুটিতে পর্যটকদের অপেক্ষায় টাঙ্গুয়ার হাওর ১৫০ বছরের পুরোনো মূর্তি ও গহনা চুরি অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো অভিযানের পরিকল্পনা নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে বহিরাগতদের উপদ্রব দুর্গাপূজায় থাকবে তিন স্তরের নিরাপত্তা গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর দ্রুত আদায়ে নির্দেশ হাইকোর্টের নিউইয়র্কে হেনস্তার শিকার ড. মুহাম্মদ ইউনূস শাল্লায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

হৃদপিন্ডে দুটি ছিদ্র, স্ট্রোক করে বিকলাঙ্গ টাকার অভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না ছোট্ট লামিয়ার

  • আপলোড সময় : ০৭-১২-২০২৫ ০২:১৪:১৮ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৭-১২-২০২৫ ০২:১৪:১৮ অপরাহ্ন
হৃদপিন্ডে দুটি ছিদ্র, স্ট্রোক করে বিকলাঙ্গ টাকার অভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না ছোট্ট লামিয়ার
স্টাফ রিপোর্টার :: জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে আট বছরের ফুটফুটে শিশু লামিয়া জান্নাত (মাওয়া)। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার অনন্তপুর গ্রামের শিশু লামিয়া জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত। হৃদপিন্ড দুটি ছিদ্র নিয়ে জন্ম নেওয়া লামিয়া, সম্প্রতি রোগের তীব্রতায় স্ট্রোক করে তার শরীরের এক পাশ বিকলাঙ্গ হয়ে পড়েছে। এক দিকে হৃদপিন্ডের ত্রুটি, অন্যদিকে বিকলাঙ্গতা- এমন যন্ত্রণা নিয়ে ছোট্ট লামিয়া এখন বিছানায় শুয়ে শুধু বাঁচার জন্য অপেক্ষা করছে। এমন অবস্থায় চিকিৎসার জন্য সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে তার পরিবার। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দ্রুত অস্ত্রোপচার না করা হলে যেকোনো মুহূর্তে প্রাণ হারাতে পারে এই ছোট্ট শিশুটি। অস্ত্রোপচার করতে প্রয়োজন প্রায় ১০ লাখ টাকা। কিন্তু শিশু লামিয়ার চিকিৎসার ব্যয় বহন করার সামর্থ্য নেই পরিবারের। একমাত্র চাচা সোহেল মিয়া’র সামান্য কৃষিকাজের আয়ে কোনোভাবে দিন কাটছে তাদের। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসা ব্যয় বহন করা তাদের কাছে অলীক স্বপ্ন। লামিয়ার পরিবার জানায়, গত বছর লামিয়া সুনামগঞ্জের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এনামুল হক খান এবং পরবর্তীতে সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ইউকে পালের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। এসময় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, লামিয়ার হৃদপিন্ড জন্মগতভাবে দুটি বড় ছিদ্র রয়েছে। এর ফলে রক্ত সঞ্চালনে মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। পরিশোধিত ও অপরিশোধিত রক্ত মিশে যাচ্ছে, যা রক্তের ঘনত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে শরীরে অক্সিজেনের অভাব ঘটাচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, একটি জটিল ও ব্যয়বহুল হার্ট অপারেশনের মাধ্যমেই কেবল লামিয়াকে বাঁচানো সম্ভব। এই অপারেশনে আনুমানিক ১০ লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে। এদিকে, চিকিৎসা শুরু করার আগেই হৃদরোগের কারণে সম্প্রতি লামিয়া স্ট্রোক করে। তাৎক্ষণিক পার্শ্ববর্তী হাসপাতালে নেওয়া হলেও, ততক্ষণে তার শরীরের এক হাত ও এক পা বিকলাঙ্গ হয়ে পড়ে। বর্তমানে লামিয়াকে হাঁটাতে বা বসাতেও চরম কষ্ট হচ্ছে। জানা যায়, লামিয়ার বাবা জুয়েল মিয়া অনেক আগেই এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। পরিবারে এখন মা রুশেদা বেগম, শিশু লামিয়া এবং তার ১০ বছর বয়সী বড় বোন। আশ্রয় হিসেবে তারা চাচার বাড়িতে থাকেন। চাচার সামান্য কৃষিকাজ ও তার নিজের অসুস্থতা - সব মিলিয়ে পরিবারটির দিন আনা দিন খাওয়া অবস্থা। এই অসহায় পরিবারটির পক্ষে ১০ লাখ টাকা জোগাড় করা সম্ভব না। একই গ্রামের বাসিন্দা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবুল হাসনাত বলেন, লামিয়া আমার সম্পর্কে চাচাতো বোন হয়। আমাদের বাড়ির পাশেই তাদের বাড়ি। শুরু থেকেই তার চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে ডাক্তারদের সঙ্গে পরামর্শ করে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করে আসছি। তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে আমি খুব ভালোভাবেই জানি, তারা তিনবেলা খাবার খেতে পারাটাই নিজেদের ভাগ্য মনে করে। সেখানে ১০ লাখ টাকার উন্নত চিকিৎসা করানো তাদের পক্ষে কল্পনারও বাইরে। আমি আশাবাদী, আল্লাহর রহমতে কোনো হৃদয়বান মানুষ এগিয়ে এসে বলবেন- লামিয়ার সমস্ত চিকিৎসার ব্যয় আমি বহন করব। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে লামিয়া আবার সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে লামিয়ার মা রুশেদা বেগম বলেন, দয়া করে আমার লামিয়াকে বাঁচান। আমি আমার মেয়েকে হারাতে চাই না। আপনাদের একটু সাহায্যেই আমার মেয়ে আবার হাঁটতে পারবে, বাঁচতে পারবে। আর্থিক সহায়তার জন্য লামিয়া জান্নাতের মা রুশেদা বেগম এর সাথে মুঠোফোন ০১৭৩৬৩৬২২০৫ নাম্বারে যোগাযোগ করা যাবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
পতিত জমিতে মাল্টার বাগান, প্রবাসফেরত সাইফুরের সাফল্য

পতিত জমিতে মাল্টার বাগান, প্রবাসফেরত সাইফুরের সাফল্য