সুনামগঞ্জ , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬ , ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সুরমা নদী ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের দাবি ধীরে চলছে চারলেন প্রকল্পের কাজ ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই কিশোর আটক জন্মজয়ন্তীতে কবি নজরুল ইসলামকে স্মরণ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‌্যালি গাছের সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কায় শ্রমিক নিহত, অটোরিকশার চাপায় প্রাণ গেল ৬ বছরের শিশুর পুশইনে মরিয়া বিএসএফ, সীমান্তে উত্তেজনা মে মাসে গণপিটুনি ও সহিংসতায় নিহত ৩১, ধর্ষণের শিকার ৮৩ নারী ও শিশু বাদাম চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ালেও ফলন নিয়ে শঙ্কা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে ছাড় দেওয়া হবে না ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় অনিয়ম, ক্ষোভে ফুঁসছেন বঞ্চিতরা টাঙ্গুয়ার হাওরে নিভে গেল ছোট্ট সৌম্যতার জীবনপ্রদীপ তাহিরপুরে ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভায় এমপি কামরুল মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ”

গ্রাম আদালতের সাফল্য অব্যাহত থাকুক

  • আপলোড সময় : ০৯-১২-২০২৫ ১২:১৬:১৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৯-১২-২০২৫ ১২:১৬:১৩ অপরাহ্ন
গ্রাম আদালতের সাফল্য অব্যাহত থাকুক
সুনামগঞ্জ জেলায় গ্রাম আদালতের মাধ্যমে ৮৪.২২ শতাংশ মামলা নিষ্পত্তি এবং ৭৬ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় - এই তথ্য নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। এটি প্রমাণ করে যে, তৃণমূল পর্যায়ে সহজ, দ্রুত ও স্বল্প খরচে বিচার পাওয়ার যে লক্ষ্য নিয়ে গ্রাম আদালতের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা অনেকাংশেই সফল হচ্ছে। প্রশাসন, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রয়াসে এই সাফল্য এসেছে, যা প্রশংসার দাবি রাখে। গ্রাম আদালতের মূল শক্তি এখানেই- সাধারণ মানুষকে থানা বা দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যয়বহুল উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ না হয়ে নিজ এলাকাতেই ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। ছোটখাটো পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ যদি স্থানীয়ভাবে সমাধান হয়, তাহলে শুধু মামলার চাপই কমে না, বরং সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক আস্থা বাড়ে। জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া যথার্থভাবেই বলেছেন, গ্রাম আদালতের কাজ কেবল বিচার নয়; এটি সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার একটি কার্যকর মাধ্যম। তবে এই অর্জন ধরে রাখাই যথেষ্ট নয়; আরও এগিয়ে নেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এখনও অনেক মানুষ গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ও এখতিয়ার সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন নন। কোথাও কোথাও দক্ষতা, জনবল কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের ঘাটতিও রয়েছে। এসব সীমাবদ্ধতা দূর না করলে কাক্সিক্ষত সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, গ্রাম আদালত সম্পর্কে গণসচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত প্রচার ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি জোরদার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে বিচার প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হয়। তৃতীয়ত, মামলা নি®পত্তির তথ্য ও সাফল্য নিয়মিতভাবে মূল্যায়ন করে দুর্বল দিকগুলো দ্রুত সংশোধনের ব্যবস্থা নিতে হবে। সুনামগঞ্জের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে- সঠিক উদ্যোগ ও আন্তরিকতা থাকলে গ্রাম আদালত সত্যিই সাধারণ মানুষের কাছে ন্যায়বিচার পৌঁছে দিতে পারে। এখন প্রয়োজন এই সাফল্যকে টেকসই করা এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও একই মানের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা। গ্রাম আদালত শক্তিশালী হলে শুধু বিচারব্যবস্থাই নয়, গ্রামীণ সমাজও হবে আরও শান্ত, সহনশীল। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সব শ্রেণির মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে গ্রাম আদালতকে সত্যিকারের জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স