সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ , ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ দিরাইয়ে নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌরসভার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী খুন নির্মাণ হচ্ছে জয়কলস হাইওয়ে পুলিশের নিজস্ব ভবন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কার্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন জামালগঞ্জে ৬৭ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার ‎জামালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সঙ্গে নবনিযুক্ত ইউএনওর মতবিনিময় সভা নিজের অর্থে গড়া বাড়িতেই উঠতে পারছেন না মেক্সিকো প্রবাসী সাজেদা ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’র ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী লিবিয়া-গ্রিসে মানবপাচার, ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার ১ চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছে না সুনামগঞ্জ সংখ্যালঘু নিরাপত্তায় পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের ৭ দফা দাবি যারা ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলছে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী দোয়ারাবাজারে ভিডিও কনফারেন্সে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী গোবিন্দগঞ্জে স্কুলছাত্রকে মারধর ‎ক্ষতিগ্রস্ত বর্গাচাষীদের পাশে ইউএনও সঞ্জয় ঘোষ ইরা’র ‘লাইট’ প্রকল্পের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী আহত, প্রতিবাদে মানববন্ধন লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ, ডিম নিক্ষেপ
জগন্নাথপুর পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প

৭ বছরেও শেষ হয়নি ৫০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ

  • আপলোড সময় : ২৭-১২-২০২৫ ০৮:৩৪:২৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৭-১২-২০২৫ ০৮:৩৬:৩৫ পূর্বাহ্ন
৭ বছরেও শেষ হয়নি ৫০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ
বিশেষ প্রতিনিধি ::
জগন্নাথপুর পৌরসভার ৫০ কোটি টাকার পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের কাজ সাত বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও শেষ হয়নি। এতে লাখো মানুষ পড়েছেন ভোগান্তিতে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে দুই লাখ মানুষের বিশুদ্ধ পানি ও উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারের উদাসীনতা ও বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে এখনো চালু হয়নি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। ফলে বিশুদ্ধ পানির অভাবে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন পৌরসভার লক্ষাধিক মানুষ।
২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। সারাদেশের ২৩টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন উন্নয়নে নেওয়া হয় এই উদ্যোগ। এর মধ্যে জগন্নাথপুর পৌরসভার জন্য বরাদ্দ ছিল ৫০ কোটি টাকা। বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল পৌরসভা ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রকল্পে ছিল একটি গ্রাউন্ড ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, ওভারহেড ট্যাংক, ২৬ কিলোমিটার পাইপলাইন, ৯৫টি গভীর নলকূপ, ৮ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন, ১৫টি কমিউনিটি ল্যাট্রিন, ৬টি পাবলিক টয়লেট, ৩৬টি ডাস্টবিন ও একটি পানি সরবরাহ অফিস নির্মাণের পরিকল্পনা। কিন্তু বাস্তবে কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। এখন পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন হয়েছে। ১১ হাজার কেভিতে বিদ্যুৎ লাইন সংযোগের প্রস্তুতি শেষ হলেও এখনো সংযোগ দেওয়া হয়নি। ফোর-ফিফটি লাইনের জন্য আলাদা ট্রান্সফরমার স্থাপনের কাজও ঝুলে আছে। ফলে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট তৈরি হলেও চালু করা যাচ্ছে না।
হবিবপুর ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কামাল হোসেন বলেন, পৌরসভা ও জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রচেষ্টায় এই ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপিত হয়। কাজও একসময় জোরেশোরো চলছিল। কিন্তু গত ৫ আগস্টের পর ঠিকাদার হঠাৎ উধাও হয়ে গেলে সব কাজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ৮-১০ মাস ধরে কার্যালয়ে তালা ঝুলছে, কর্মীরা চলে গেছে। বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে বন্ধ প্লান্ট, নিচে নামছে ভূগর্ভস্থ পানি স্তর। প্রকল্প এলাকার মূল সমস্যা এখন বিদ্যুৎ সংযোগ। এদিকে পানির স্তর নেমে যাওয়ায় প্রায় পাঁচ হাজার নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার করছেন পৌরবাসী।

হবিবপুর ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সফিনা বেগম বলেন, আমাদের গ্রামে নলকূপে পানি আসে না। অনেক দূর থেকে কলসি নিয়ে পানি আনতে হয়। বিশেষ করে বাচ্চা আর বৃদ্ধরা কষ্ট পায় সবচেয়ে বেশি। দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ হলে পানির হাহাকার থেকে মুক্তি পেতো পৌরবাসী।

ইকরছড়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সাইফুল আলম বলেন, বিশুদ্ধ পানি না পাওয়ায় মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কাজ বন্ধ আছে বহুদিন। আমরা চাই দ্রুত এই প্রকল্পের কাজ চালু হোক।
শহরের ভুক্তভোগী আব্দুস সালাম বলেন, জগন্নাথপুর পৌরসভায় এই মৌসুমে মাটির নিচ থেকে পানির স্তর সরে যাওয়ায় শত শত টিউবওয়েল অকেজো হয়ে পড়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে মারাত্মকভাবে। পানি সরবরাহের প্রকল্পটি চালু হলেই এ সংকট কেটে যেত। প্রায় দুই বছর আগে প্রকল্পটি চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে নাগরিকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, এই কাজটা দুটি প্যাকেজে হয়েছে। একটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট অন্যটি পাইপলাইন। ওয়াটার ট্রিটমেন্টের কাজ শেষ পর্যায়ে শুধু বিদ্যুৎ সংযোগ বাকি। আর পাইপলাইনের কাজ চলছে। আমরা আশাবাদী আগামী কয়েকমাসের মধ্যে পানি সাপ্লাই দেয়া সম্ভব হবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পৌর প্রশাসক বরকত উল্লাহ বলেন, কাজ চলমান আছে। দ্রুত শেষ করার জন্য আমরা তাগিদ দিয়েছি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ