সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ , ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ দিরাইয়ে নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌরসভার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী খুন নির্মাণ হচ্ছে জয়কলস হাইওয়ে পুলিশের নিজস্ব ভবন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কার্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন জামালগঞ্জে ৬৭ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার ‎জামালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সঙ্গে নবনিযুক্ত ইউএনওর মতবিনিময় সভা নিজের অর্থে গড়া বাড়িতেই উঠতে পারছেন না মেক্সিকো প্রবাসী সাজেদা ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’র ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী লিবিয়া-গ্রিসে মানবপাচার, ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার ১ চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছে না সুনামগঞ্জ সংখ্যালঘু নিরাপত্তায় পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের ৭ দফা দাবি যারা ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলছে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী দোয়ারাবাজারে ভিডিও কনফারেন্সে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী গোবিন্দগঞ্জে স্কুলছাত্রকে মারধর ‎ক্ষতিগ্রস্ত বর্গাচাষীদের পাশে ইউএনও সঞ্জয় ঘোষ ইরা’র ‘লাইট’ প্রকল্পের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী আহত, প্রতিবাদে মানববন্ধন লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ, ডিম নিক্ষেপ

সরকারি সার কালোবাজারে বিক্রি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিন

  • আপলোড সময় : ০৬-০১-২০২৬ ১২:৫০:৩১ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৬-০১-২০২৬ ১২:৫০:৩১ পূর্বাহ্ন
সরকারি সার কালোবাজারে বিক্রি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিন
হাওরাঞ্চলের বোরো মৌসুম মানেই সময়ের সঙ্গে লড়াই। আগাম বন্যার ঝুঁকি মাথায় নিয়ে সুনামগঞ্জের কৃষকরা যখন মাঠে নামেন, তখন তাদের সবচেয়ে বড় ভরসা সরকারি ভর্তুকির সার ও বীজ। অথচ দুঃখজনক বাস্তবতা হলো- এই মৌসুমেই সেই সরকারি সারই কৃষকের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, আর লাভবান হচ্ছে একটি অসাধু সিন্ডিকেট। সুনামকণ্ঠের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সুনামগঞ্জের শাল্লাসহ একাধিক দুর্গম উপজেলার ডিলাররা সরকারি বরাদ্দের সার কৃষকের হাতে না পৌঁছে দিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করছেন। অভিযোগ আরও ভয়াবহ - এই প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়েছে বিএডিসি (সার) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কিছু দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারী। সার গুদামজাত না করে সরাসরি নৌকা ও ট্রাকে তুলে বাইরে বিক্রি করার দৃশ্য প্রশাসনের চোখের সামনেই ঘটছে - এটি কেবল অনিয়ম নয়, এটি একটি সুসংগঠিত লুটপাট। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় দুই লাখের বেশি কৃষক পরিবার ধান চাষে যুক্ত। অথচ ডিসেম্বর ও জানুয়ারির হাজার হাজার টন সার ঘাটে পড়ে থাকলেও মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। ফলে কৃষকরা বাধ্য হচ্ছেন নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে সার কিনতে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, কৃষক নিঃস্ব হচ্ছেন, আর খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- এই অনিয়ম নতুন নয়। বছরের পর বছর ধরে একই অভিযোগ উঠছে, একই এলাকায় একই সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকছে। মাঝেমধ্যে শোকজ, তদন্ত বা তলবের খবর শোনা গেলেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় সিন্ডিকেট আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। “শ্রমিক সংকট” বা “ম্যানেজমেন্ট সমস্যা” - এই অজুহাতগুলো এখন আর গ্রহণযোগ্য নয়, যখন কৃষক সার না পেয়ে মাঠে কান্না করছেন। হাওর বাঁচাও আন্দোলন, জনপ্রতিনিধি ও কৃষক নেতারা যে অভিযোগ তুলেছেন, তা স্পষ্ট করে দেয়- এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির চিত্র। সরকারি সার যদি ঘাট থেকেই কালোবাজারে চলে যায়, তবে মাঠপর্যায়ে নজরদারি বা কাগজে-কলমে হিসাব রক্ষার কোনো মূল্য থাকে না। এই পরিস্থিতিতে আমরা মনে করি, কেবল ডিলারশিপ বাতিল বা বিভাগীয় শাস্তি যথেষ্ট নয়। অবিলম্বে সার উত্তোলন, পরিবহন ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে, ঘাট ও গুদামে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ডিলারদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ করতে হবে, কৃষক পর্যায়ে সার প্রাপ্তির তথ্য ইউনিয়নভিত্তিক প্রকাশ্য তালিকা আকারে প্রকাশ করতে হবে। হাওরের কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে - এটি কোনো স্লোগান নয়, এটি বাস্তবতা। সরকারি সার যদি সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে থাকে, তবে তার দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে এই সংকট আরও গভীর হবে, যার খেসারত দিতে হবে পুরো দেশকে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ