সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ , ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ দিরাইয়ে নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌরসভার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী খুন নির্মাণ হচ্ছে জয়কলস হাইওয়ে পুলিশের নিজস্ব ভবন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কার্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন জামালগঞ্জে ৬৭ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার ‎জামালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সঙ্গে নবনিযুক্ত ইউএনওর মতবিনিময় সভা নিজের অর্থে গড়া বাড়িতেই উঠতে পারছেন না মেক্সিকো প্রবাসী সাজেদা ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’র ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী লিবিয়া-গ্রিসে মানবপাচার, ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার ১ চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছে না সুনামগঞ্জ সংখ্যালঘু নিরাপত্তায় পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের ৭ দফা দাবি যারা ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলছে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী দোয়ারাবাজারে ভিডিও কনফারেন্সে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী গোবিন্দগঞ্জে স্কুলছাত্রকে মারধর ‎ক্ষতিগ্রস্ত বর্গাচাষীদের পাশে ইউএনও সঞ্জয় ঘোষ ইরা’র ‘লাইট’ প্রকল্পের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী আহত, প্রতিবাদে মানববন্ধন লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ, ডিম নিক্ষেপ

দেখার হাওরের উথারিয়া বাঁধের কাজে অনিয়ম বন্ধে ব্যবস্থা নিন

  • আপলোড সময় : ১৫-০১-২০২৬ ০৮:৫২:০৩ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৫-০১-২০২৬ ০৮:৫২:০৩ পূর্বাহ্ন
দেখার হাওরের উথারিয়া বাঁধের কাজে অনিয়ম বন্ধে ব্যবস্থা নিন
হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা ফসলরক্ষা বাঁধের ওপর নির্ভরশীল। প্রতি বছর বোরো মৌসুম এলেই এই বাঁধগুলো হয়ে ওঠে কৃষকের শেষ ভরসা। অথচ সেই বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের নামে যদি কেবল কাগুজে কাজ আর যান্ত্রিক ঘষামাজা চলে, তবে সেটি শুধু অব্যবস্থাপনাই নয়, দুর্নীতির শামিল। দেখার হাওরের উথারিয়া ফসলরক্ষা বাঁধের বর্তমান চিত্র উদ্বেগজনক। সরেজমিনে দেখা যাচ্ছে, যেখানে একমুঠো নতুন মাটিও পড়েনি, সেখানে এস্কেভেটর দিয়ে পুরনো ও অক্ষত বাঁধ খুঁড়ে ‘নতুন রূপ’ দেওয়া হয়েছে। বাইরে থেকে দেখে বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ থাকলেও বাস্তবতা হলো- এটি প্রকৃত সংস্কার নয়, বরং দৃশ্যমান প্রতারণা। ৫ হাজার ৬৯৫ মিটার অক্ষত বাঁধে ১ কোটি ৪১ লাখ টাকা বরাদ্দ - এই অঙ্কই প্রশ্ন তোলে। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, সামান্য ড্রেসিং করলেই বাঁধগুলো টেকসই হতো। সেখানে পুরো বাঁধ খুঁড়ে চাকাচাকা মাটি বানিয়ে ‘নতুন বাঁধের’ চেহারা দেওয়ার অর্থ কী? এই পদ্ধতির উদ্দেশ্য কি সত্যিই টেকসই বাঁধ নির্মাণ, নাকি বরাদ্দ বৈধ করার কৌশল? আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এ ধরনের কাজ এখন ব্যতিক্রম নয়, বরং নিয়মে পরিণত হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে “পুরনো মাটি না খুঁড়লে নতুন মাটি বসবে না” এই অদ্ভুত তত্ত্ব সামনে এনে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, নতুন মাটিই আসছে না; খোঁড়াখুঁড়িই শেষ কথা। ফসলরক্ষা বাঁধ কোনো নান্দনিক স্থাপনা নয়। এটি ভাঙলে ডুবে যায় হাজার হাজার হেক্টর জমি, সর্বস্ব হারায় কৃষক। তাই এখানে লোকদেখানো কাজের সুযোগ নেই। অথচ উথারিয়া বাঁধে মোটরসাইকেল চলাচলের উপযোগী ক্লোজার, ঝুঁকিমুক্ত ভাঙ্গন, অক্ষত ডাইক - সবকিছু থাকা সত্ত্বেও প্রকল্পের নামে মাটি খোঁড়া হচ্ছে। এতে ‘বাঁধ শক্ত হচ্ছে’ এই দাবি বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বক্তব্যে ‘কোনো অনিয়ম হয়নি’ এই আশ্বাস যথেষ্ট নয়। কারণ মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলছে। প্রকল্পের প্রাক্কলন, কাজের অগ্রগতি, মাটি সরবরাহ ও ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব জনসমক্ষে আনা জরুরি। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই- হাওরাঞ্চলের বাঁধ নিয়ে কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা চোখে ধুলো দেওয়ার সুযোগ নেই। উথারিয়া বাঁধে যা ঘটছে, তা যদি দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়ায়, তবে আগামী দিনে হাওরের ফসল নয় - ভেসে যাবে মানুষের আস্থা। অতএব, অবিলম্বে উথারিয়া বাঁধসহ দেখার হাওরের সব প্রকল্পে স্বাধীন কারিগরি অডিট, বরাদ্দ ও কাজের প্রকাশ্য হিসাব, এবং দায়িত্বশীলদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। না হলে “মাটি ছাড়াই বাঁধ” একদিন সত্যিকার অর্থেই হাওরাঞ্চলকে ডুবিয়ে দেবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ