সুনামগঞ্জ , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬ , ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সুরমা নদী ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের দাবি ধীরে চলছে চারলেন প্রকল্পের কাজ ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই কিশোর আটক জন্মজয়ন্তীতে কবি নজরুল ইসলামকে স্মরণ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‌্যালি গাছের সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কায় শ্রমিক নিহত, অটোরিকশার চাপায় প্রাণ গেল ৬ বছরের শিশুর পুশইনে মরিয়া বিএসএফ, সীমান্তে উত্তেজনা মে মাসে গণপিটুনি ও সহিংসতায় নিহত ৩১, ধর্ষণের শিকার ৮৩ নারী ও শিশু বাদাম চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ালেও ফলন নিয়ে শঙ্কা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে ছাড় দেওয়া হবে না ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় অনিয়ম, ক্ষোভে ফুঁসছেন বঞ্চিতরা টাঙ্গুয়ার হাওরে নিভে গেল ছোট্ট সৌম্যতার জীবনপ্রদীপ তাহিরপুরে ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভায় এমপি কামরুল মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ”

বেড়েছে নদী ভাঙনের তীব্রতা, নিশ্চিহ্নের পথে দোহালিয়া বাজার

  • আপলোড সময় : ২২-০১-২০২৬ ০৯:৩২:৫৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২২-০১-২০২৬ ০৯:৩৫:২৪ পূর্বাহ্ন
বেড়েছে নদী ভাঙনের তীব্রতা, নিশ্চিহ্নের পথে দোহালিয়া বাজার
মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী ::
দোয়ারাবাজার উপজেলায় সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে একের পর এক জনপদ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। দোহালিয়া ইউনিয়নের দোহালিয়াবাজার, ছাতক-সুনামগঞ্জ সড়ক এবং অন্তত ১৭টি গ্রাম বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে। অথচ বারবার নদীভাঙনের কবলে পড়লেও এলাকাটি এখনো সরকারি নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পের তালিকার বাইরে - যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রশ্ন ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, দোহালিয়াবাজার সংলগ্ন এলাকায় সম্প্রতি নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে দোকানপাট, কৃষিজমি ও গ্রামীণ সড়কের বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে ছাতক-সুনামগঞ্জ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে দোয়ারাবাজারের সঙ্গে জেলা সদরের যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দোহালিয়া এলাকায় নদীভাঙন নতুন নয়। প্রায় প্রতি বর্ষায় একই চিত্র দেখা গেলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণ করেনি। অথচ পার্শ্ববর্তী এলাকায় নদীশাসন ও বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে - দোহালিয়া কেন বারবার উপেক্ষিত, সে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে। দোহালিয়াবাজারের ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, প্রতিবার ভাঙনের সময় আমরা শুধু আশ্বাস পাই। কাগজে নাকি রিপোর্ট যায়, প্রস্তাব যায় - কিন্তু বাস্তবে কিছুই আসে না। এভাবে আর কতদিন চোখের সামনে সবকিছু ভেঙে পড়তে দেখব? ভাঙনের মুখে থাকা কাঞ্চনপুর গ্রামে অন্তত অর্ধশতাধিক পরিবার ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কেউ কেউ আগাম গাছ কেটে ফেলছেন, কেউ দোকান ভেঙে মালামাল সরাচ্ছেন। স্থানীয় শিক্ষক মাস্টার জিয়াউর রহমান বলেন, এটি শুধু নদীভাঙন নয়, এটি পরিকল্পিত অবহেলার ফল। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দোহালিয়া বাজারসহ পুরো এলাকা অনাকাক্সিক্ষত বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। স্থানীয়দের দাবি, ভাঙনের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বার বার জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কেন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়নি - তা নিয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যার দাবি উঠেছে। নদী বিশেষজ্ঞদের মতে, সুরমা নদীর এই অংশে সঠিক নদীশাসন না থাকায় স্রোতের দিক পরিবর্তন হয়েছে, যা ভাঙনকে আরও তীব্র করছে। দ্রুত জিওব্যাগ, প্রতিরক্ষা বাঁধ ও দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাউবো’র দোয়ারাবাজার উপজেলা এসও সাদ্দাম হোসেন বলেছেন, দোহালিয়া বাজার সংলগ্ন নদী ভাঙনের বিষয়ে প্রকল্প করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স