হোসাইন আহমদ::
জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত হয়েছে সুনামগঞ্জ-৩ আসন। জাতীয় রাজনীতিতে এ আসনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে এ আসন থেকে নির্বাচিত এমপি আলহাজ্ব আবদুস সামাদ আজাদ, ফারুক রশীদ চৌধুরী, এম এ মান্নান মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে গেছেন। যে কারণে এ আসনটি জাতীয় রাজনীতিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া জগন্নাথপুর প্রবাসী অধ্যুষিত উপজেলা হওয়ায় জাতীয় অর্থনীতিতে জগন্নাথপুরের প্রবাসীদের অনেক অবদান রয়েছে। আসন্ন এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনে এবার ব্যালটে থাকছে না জনপ্রিয় তিনটি দলের তিন প্রতীক। ফলে তাদের সমর্থিত ভোটাররা হতাশ। নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী চার প্রার্থী এসব প্রতীকের ভোট টানতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। ভোটারদের নিয়ে প্রার্থীদের রীতিমতো কাড়াকাড়ি চলছে। কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে এ দলগুলোর সমর্থকদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রার্থীদের রাত-বিরাতে জনগণের দ্বারে দ্বারে চালিয়ে যাচ্ছেন গণসংযোগ। সুনামগঞ্জ-৩ আসনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিপুল পরিমাণ কর্মী-সমর্থক রয়েছেন, তারা নৌকা প্রতীকের ভোটার। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় দলটি নির্বাচনে নেই তাই ব্যালেটে নৌকা প্রতীক থাকছে না। ভোট ও প্রতীক পরিচিতিতে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ রয়েছে। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি জোটবদ্ধভাবে ধানের শীষ প্রতীকে জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের তৎকালীন নেতা শাহীনুর পাশা চৌধুরী ভোট পান ৫১ হাজার ২০৫। নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের এম এ মান্নান ১ লাখ ৭১ হাজার ৫২৫ ভোটে বিজয়ী হন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি বর্জন করায় ধানের শীষ প্রতীক ব্যালেটে ছিল না। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে যুক্তরাজ্য বিএনপির সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ ধানের শীষ প্রতীকে ও বহিষ্কৃত জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন তালা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ দুই প্রার্থী ছাড়াও নির্বাচনি প্রতিযোগিতার দৌড়ে রয়েছেন ১১ দলীয় জোটের শরিক আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম (ঈগল প্রতীক)। আসনটিতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শেখ মুশতাক আহমদ (দেয়াল ঘড়ি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহিনুর পাশা চৌধুরী (রিকশা)। মাঠে কাজ করছেন শান্তিগঞ্জ উপজেলার একই গ্রামের দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহফুজুর রহমান খালেদ (টেবিল ঘড়ি প্রতীক) এবং হোসাইন আহমদ (ফুটবল প্রতীক)। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জগন্নাথপুর প্রবাসী অধ্যুষিত উপজেলা হওয়ায় জাতীয় অর্থনীতিতে জগন্নাথপুরের প্রবাসীদের অনেক অবদান রয়েছে। ত্রয়োদশ নির্বাচনে প্রাবাসী প্রার্থী হিসেবে যুক্তরাজ্য বিএনপির সদ্য সাবেক সাধারণ স¤পাদক ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। দুই উপজেলার বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে বিজয়ী করতে জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে মনে করছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় নির্বাহি কমিটির সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ ও তার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেনের মধ্যেই হবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক দুই বারের সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন সম্প্রতি দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও সেটি তার জন্য ‘শাপে বর’ হয়েছে। বহিষ্কারাদেশের পর থেকে তার নির্বাচনী পালে নতুন হাওয়া লেগেছে। বিশেষ করে বিএনপির একটি শক্তিশালী অংশ সরাসরি তার পক্ষে মাঠে কৌশলে সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রার্থী না থাকায় তাদের একটি ‘ভোট ব্যাংক’ ব্যারিস্টার আনোয়ারের ঝুলিতে আসার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি জগন্নাথপুর উপজেলায় হেভিওয়েট একাধিক প্রার্থী থাকলেও শান্তিগঞ্জ উপজেলার সন্তান ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেনই একমাত্র প্রার্থী। সেই সুবাদে তাকে বিজয়ী করতে শান্তিগঞ্জ উপজেলার জনগণের কাছে আঞ্চলিকতার টান রয়েছে। তার নেতাকর্মীরাও জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ভক্তের সংখ্যা এখানে অনেক। কিন্তু এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির কোনো প্রার্থী না থাকায় লাঙ্গল ব্যালেটে থাকবে না। বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ইয়াসিন খান ১১ দলীয় জোটের কারণে মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকও থাকছে না। ৩০ বছর পর জামায়াত ইসলামী প্রার্থী হিসেবে পেয়েছিল অ্যাডভোকেট ইয়াসিন খান কে। তিনি ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হওয়ায় অল্প দিনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে জাগরণ তৈরি করতে সক্ষম হন। তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় তার সমর্থিত ভোটাররা হতাশ। ১১ দলীয় জোটের প্রধান দল জামায়াত ইসলামী সমর্থকদের ভোট তিন ভাগে বিভক্ত হবে বলে মনে করছেন দলটির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। দলের একজন দায়িত্বশীল পৌর শাখার সভাপতি ওলি উল্লাহ বললেন, এ আসনে ১১ দলীয় জোট উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। তাই কেন্দ্র থেকে কোন নির্দেশনা নেই, আমরা কার পক্ষে কাজ করব। এতে করে নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে ৩০ বছর পর দলীয় প্রার্থী পেয়েও দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে না পারার আক্ষেপে আছেন। ১১ দলীয় জোটের উন্মুক্ত প্রার্থী হিসেবে এ আসনে ভোটযুদ্ধে রয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী রিকশা প্রতীক। খেলাফত মজলিসের আরেক অংশ দেয়াল ঘড়ি প্রতীকে মাঠে আছেন হাফিজ সৈয়দ মুশতাক আহমেদ ও আমার বাংলাদেশ এবিপার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম (ঈগল পাখি)। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী রিকশা প্রতীকের পক্ষে দলটির আমীর মাওলানা মামুনুল হক জগন্নাথপুর এসে ভোট চেয়ে গেছেন। সভায় জোটের প্রধান দল জামায়াত ইসলামীর কাউকে দেখা যায়নি। ফলে শাহীনুর পাশা মূলত খেলাফত মজলিসের নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। অপরদিকে আমার বাংলাদেশ এবি পার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম ব্যক্তি ইমেজে নিজের অবস্থান তুলে ধরে ঈগল পাখি প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করছেন। এ আসনের কোথাও দলটির সাংগঠনিক কমিটি নেই। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী এলাকায় মানুষের পাশে থাকায় তার কিছু সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ী তৈরি হয়েছে। তাদেরকে নিয়ে তিনি প্রচারণা চালাচ্ছেন। এই আসনে জামায়াত ইসলামী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ব্যতিত ১১ দলীয় জোটের অন্যদলগুলোর অস্তিত্ব নেই। তাই সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী চার প্রার্থী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ ও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়া ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন (তালা), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী (রিকশা) ও আমার বাংলাদেশ এবি পার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম (ঈগল) প্রতীকের সমর্থনে ভোট চাচ্ছেন। প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের নৌকা, জাতীয়পার্টির লাঙ্গল ও জামায়াত ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ভোটারদের নিজেদের পক্ষে আনতে নানা কৌশল করছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন তার নিজ উপজেলা শান্তিগঞ্জে আঞ্চলিক ঐক্য গড়ে তুলতে আওয়ামী লীগের ভোটারদের টানার চেষ্টা করছেন। যদিও দলের পদ পদবি বা সক্রিয় কাউকে দেখা যাচ্ছে না। এই প্রসঙ্গে শান্তিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক এ নির্বাচনে আমাদের ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত রয়েছে। তাই আওয়ামী লীগের ভোটাররা কাউকে সমর্থন কিংবা ভোট কেন্দ্রে যাবে না। তবে তার এলাকায় হেভিওয়েট একক প্রার্থী হিসেবে জনগণের কাছে আঞ্চলিকতার সুর শুনা যাচ্ছে। শাহীনুর পাশা চৌধুরী ও তালহা আলম দুইজনই জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের রাজনীতির সঙ্গে স¤পৃক্ত ছিলেন। দল বদলে দুইজনই বেকায়দায় থাকলেও দুজনই পুরাতন দলীয় কর্মীদের টানার চেষ্টা করছেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগ, জাতীয়পার্টি ও জামায়াত ইসলামী সমর্থকদের ভোট টানতে নানা কৌশল গ্রহণ করে ভোট প্রার্থনা করছেন। যদিও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বিএনপির সঙ্গে জোটে রয়েছে। তাদের দলের দায়িত্বশীল নেতাকর্মীরা বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে রয়েছেন। কেউ কেউ অবশ্য কৌশলে শাহীনুর পাশা চৌধুরী ও তালহা আলমের পক্ষে কাজ করছেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য শাহীনুর পাশা চৌধুরী বলেন, আমি আশা করছি জামায়াত ইসলামী সহ ১১ দলীয় জোটের মতাদর্শী সকল নেতাকর্মী ১১ দলীয় জোটকে শক্তিশালী করতে রিকশার পক্ষে কাজ করতে অচিরেই নামবেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক এই জোটের অন্য প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে যাবেন। এছাড়াও তিনি একজন সাবেক সংসদ সদস্য ও অভিজ্ঞ প্রার্থী হিসেবে সচেতন ভোটাররা শেষ মুহূর্তে তাকে সমর্থন দেবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আমার বাংলাদেশ এবি পার্টি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম বলেন, নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বন্যা, করোনা সহ সকল দুর্যোগে আমি তাদের পাশে ছিলাম। তাই দল মতের কথা না ভেবে মানুষ আমার পাশে রয়েছেন। বিশেষ করে আমার সাথে থাকা সনাতন ধর্মাবলম্বী কর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। বিষয়টি আমি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। সকল শ্রেণি পেশার ভোটার আমাকে সহযোগিতা করছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, নির্বাচনী এলাকার মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে আমাকে সহযোগিতা করছেন। তাই তালা প্রতীকের পক্ষে শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুরে জাগরণ তৈরি হয়েছে। আমি নির্বাচিত হলে জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জের যাতায়াত সহজ করতে সংযোগকারী রাস্তাগুলো মেরামত করা হবে। মানসম্মত শিক্ষা ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা এবং বেকারত্ব দূর করতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ বলেন, মানুষ বিশ্বাস করে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। তাই জনগণ উন্নয়নের জন্য ধানের শীষকে পছন্দ করছে। ধানের শীষের বিকল্প এ আসনে নেই। ফলে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষ ধানের শীষের পক্ষে দুই উপজেলায় বিএনপির গণজোয়ার চলছে। আমি বিশ্বাস করি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশের মত সুনামগঞ্জ-৩ আসনেও ধানের শীষ প্রতীককে মানুষ ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচনী উত্তাপ: ধানের শীষ ও তালার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস
- আপলোড সময় : ০৬-০২-২০২৬ ০৯:৪৮:১৬ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৬-০২-২০২৬ ০৯:৫০:৫৪ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি