ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ
শান্তিগঞ্জে পিতা-পুত্রের পিআইসি, পরিবারকেন্দ্রিক একাধিক কমিটি
- আপলোড সময় : ০৯-০২-২০২৬ ০৯:৩৯:৫৮ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৯-০২-২০২৬ ০৯:৩৯:৫৮ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
হাওরের ফসল রক্ষার জন্য সরকার শান্তিগঞ্জ উপজেলায় বাঁধ তৈরিতে ১২ কোটি টাকা সমমান অর্থ বরাদ্দ প্রদান করে। উক্ত বরাদ্দকৃত টাকা উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) কর্তৃক হাওরকেন্দ্রিক বাঁধের নিকটতম কিংবা হাওরের কৃষক প্রতিনিধির সমন্বয়ে মনোনীত লোক দ্বারা পিআইসি কমিটি গঠন করে বাঁধের কাজ বাস্তবায়ন করতে সরকার নীতিমালা প্রণয়ন করে দিয়েছে। কিন্তু উক্ত পিআইসি কমিটি গঠনে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি পরিলক্ষিত হয়।
ধারাবাহিকভাবে উল্লেখিত অনিয়মগুলো হলো, শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের খাই হাওরের ৫৮ নং পিআইসিতে দেখা যায় বাপ-ছেলে একই কমিটিতে। কমিটির সভাপতি নাহিদ হাসান, পিতা- মোঃ সাইফুর রহমান। ঐ কমিটির ২ জন কৃষক প্রতিনিধি সভাপতি নাহিদ হাসান এর পিতা মো. সাইফুর রহমান ও আপন চাচা আলাউর রহমান, উভয় পিতা - আব্দুল গফুর, সর্ব সাং - বীরগাঁও।
তালিকায় পিআইসি সভাপতি নাহিদ হাসানের মোবাইল নম্বর ভুলভাবে উপস্থাপন এবং পিতা সাইফুর রহমান ৬২নং পিআইসির সভাপতি আনোয়ার হোসেনের মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করেন। ৫৮ নং পিআইসির ৭১৫ মিটার কাজের বরাদ্দ ২৮.৩৩ লক্ষ টাকা।
পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের কাউয়াজুরী হাওরের পিআইসি নং ৬২ এর সেক্রেটারি মো. আনিছ আলী, পিতা- মৃত হাজী হিদ্রত উল্লার ভাই মাহমুদ আলী একই কমিটিতে গণ্যমান্য ব্যক্তি। তিনি সভাপতি আনোয়ার হোসেনের অন্য একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেন। সভাপতি আনোয়ার হোসেন ওই হাওরের ৬১, পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের খাই হাওরের পিআইসি নং ৫৭ ও ৫৮ এর চুক্তি মোতাবেক মালিক। ৬২ নং এর বরাদ্দ ৭৭৫ মিটারে ১৬.৮৮ লক্ষ টাকা ও ৫৭ নং এর বরাদ্দ ৬৬০ মিটারে ২৬.০৪ লক্ষ টাকা।
পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের খাই হাওরের ৫৫নং পিআইসির সেক্রেটারি মো. আফজল হোসাইন, সাং-শ্যামনগর। যার ৫২০ মিটারে বরাদ্দ ২২.৩৩ লক্ষ টাকা। একাধিক কমিটির সদস্য সেক্রেটারি মো. আফজল হোসাইনের পিতা মো. শফিক মিয়া ঐ হাওরের পাথারিয়া ইউনিয়নের ৫৩ নং পিআইসি, পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের ৫৪ নং ও ছাইল্লানি হাওরের ৬৬ নং পিআইসির গণ্যমান্য সদস্য। তার চাচা ৫৪ নং পিআইসির সেক্রেটারি মো. ডালিম মিয়া ও ঐ কমিটির গণ্যমান্য সদস্য আপন ভাই মো. শফিক মিয়া, সাং-শ্যামনগর আপন ভাই বটে। ৫৪ এর বরাদ্দ ৪০৩ মিটারে ২৩.৫৯ লক্ষ টাকা।
দেখা যায় ৫৫নং পিআইসি এর তালিকা রদবদল করে সেক্রেটারি মুহিবুর রহমানকে পরিবর্তন করে নতুন সেক্রেটারি আফজল হোসাইনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং তার পিতা শফিক মিয়াকে ঐ কমিটি হতে পরিবর্তন করে দুলালকে সদস্য করা হয়।
জসীম উদ্দিন নামে একই ব্যক্তি পিআইসি নং ৫৩, ৫৪,ও ৬৬ এর কৃষক ও শিক্ষক প্রতিনিধি বটে।
প্রতীয়মান হয় যে, প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের কাউয়াজুরী হাওরের ৪০ নং পিআইসির পুরো কমিটির সদস্যদের রদবদল করে নিজেদের চুক্তিবদ্ধ লোককে মনোনীত করেন। ঐ কমিটির সভাপতি ইমদাদুল হককে পরিবর্তন করে আকিক মিয়াকে সভাপতি করা হয়।
৪০ নং পিআইসির সদস্য মো. আলমগীর হোসেন, মো. জিতু খান, কামরুল ইসলাম ও মকবুল খানকে নিয়ে ঐ হাওরের ৪৩ নং পিআইসি গঠন করা হয়। ৪০ এর ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তি আপন ভাই বলে পরিলক্ষিত হয়।
পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের কাউয়াজুরী হাওরের ৪১ নং পিআইসির সভাপতি ও সেক্রেটারি এবং ৪২ নং পিআইসির সভাপতি ও ইউপি প্রতিনিধি আপন ভাই।
জেলা কর্তৃক অনুমোদিত ৬৭টি পিআইসি এর মধ্যে ২৫ টি পিআইসি’র সদস্যদের রদবদল করা হয়, সেগুলো হলো- পিআইসি নং ১ এর সেক্রেটারি শব্দনুর, সদস্য মনির উদ্দিন, নজিবুর রহমান ও আব্দুল্লাহ মিয়াকে পরিবর্তন করে হোসাইন আহমদকে সেক্রেটারি করে গোলাম রাব্বানী ও শাহীনুর রহমান তুহিনকে সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সাংহাই হাওরের পিআইসি নং ২ এর সেক্রেটারি ইউছুব আলীকে পরিবর্তন করে নতুন সেক্রেটারি মুহিবুর রহমানকে এবং সদস্য আব্দুর রাজ্জাককে বাদ দেওয়া হয়।
দরগাপাশা ইউনিয়নের কাঁচিভাঙ্গা হাওরের পিআইসি নং ৪৫ এর সেক্রেটারি আব্দুল খালেছ তালুকদারকে পরিবর্তন করে নতুন সেক্রেটারি সেলিম আহমদকে করা হয়।
দরগাপাশা ইউনিয়নের জামখলা হাওরের পিআইসি নং ৫০ এর সেক্রেটারি মুকিত হোসেনকে পরিবর্তন করে নতুন সেক্রেটারি এনায়েত হোসেনকে করা হয়।
পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের কাউয়াজুরী হাওরের পিআইসি নং ৬১ এর সেক্রেটারি প্রেমানন্দ দেবনাথকে পরিবর্তন করে নতুন সেক্রেটারি আব্দুল হেলিমকে করা হয়। মকুল দাস ও অরুণ দেবনাথকে বাদ দিয়ে মাহাজ আহমদ সোহানকে সদস্য করা হয়।
জয়কলস ইউনিয়নের দেখার হাওর পিআইসি নং ৩৬ এর সভাপতি মনিরুল ইসলামকে পরিবর্তন করে নতুন সদস্য সিজিল মিয়াকে সভাপতি করা হয়।
পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের কাউয়াজুরী হাওরের পিআইসি নং ১৪ এর সভাপতি মহব্বত আলীকে বাদ দিয়ে সেক্রেটারি আকিবুল মিয়াকে সভাপতি এবং আমিরুল হককে সেক্রেটারি ও দুলালকে বাদ দেওয়া হয়।
দরগাপাশা ইউনিয়নের খাই হাওরের পিআইসি নং ২৪ এর সভাপতি আকলুয়াছ মিয়াকে সেক্রেটারি করে সাবেক সেক্রেটারি জুনেদকে বাদ দেওয়া হয়।
জয়কলস ইউনিয়নের দেখার হাওরের ৩৪ নং পিআইসির পুরো কমিটি পরিবর্তন করা হয়।
পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের কাউয়াজুরী হাওরের পিআইসি নং ১৩ এর সেক্রেটারি মো. মহসিনকে বাদ দিয়ে নতুন সেক্রেটারি অরবিন্দু দাসকে করা হয় ও অসিতকে সদস্য করা হয়।
পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের কাউয়াজুরী হাওরের একই সেলন মিয়া পিআইসি নং ৬ ও ১০ এর গণ্যমান্য সদস্য করা হয়। জয়কলস ইউনিয়নের দেখার হাওরে পিআইসি নং ৩১ এর সেক্রেটারি ফজলুল করিমের ভাই এনামুল করিম, পিতা রজব আলী, সাং আসামপুর গণ্যমান্য সদস্য।
পাথারিয়া ইউনিয়নের খাই হাওরের পিআইসি নং- ২৯ এর সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম ও ছাইল্লানি হাওরের ৬৪ নং পিআইসির সভাপতি মো. সফিকুল ইসলাম আপন ভাই।
উক্ত কমিটিগুলো রদবদলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী (এস ও) মো. মনিরুজ্জামান মোহন ও অফিস সহকারী পার্থ রায়ের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়।
তাছাড়া জামখলা হাওরের ৫০ নং, দেখার হাওরের ১৭ নং ও কাউয়াজুরী হাওরের ৯ নং পিআইসিতেও ব্যাপক অনিয়ম আছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ