সুনামগঞ্জ , সোমবার, ০৪ মে ২০২৬ , ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অপরিকল্পিত বাঁধে বিপদ, উন্নয়নের নামে আত্মঘাতী পথচলা অপরিকল্পিত বাঁধ ও উন্নয়ন এখন হাওরের গলার কাঁটা ক্ষেতে-খলায় নষ্ট হচ্ছে ধান যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান মে দিবস পালিত প্রতিপক্ষের হামলায় কৃষক নিহত অপরিকল্পিত বাঁধে হাওরে সর্বনাশ জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত লক্ষাধিক হেক্টর জমির ফসল শনিবার সিলেট আসছেন প্রধানমন্ত্রী শান্তিগঞ্জে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সিসি ব্লক চুরির অভিযোগ উন্নয়ন প্রকল্পে বদলাচ্ছে ৫ বিদ্যালয়ের অবয়ব দিরাইয়ে ৬ দোকান পুড়ে ছাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন এমপি কামরুজ্জামান কামরুল আজ মহান মে দিবস তাহিরপুরে ভাঙারখাল নদীর উপর টোল-ফ্রি বাঁশের সেতু নির্মাণ, স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে ৬৪৭৬ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল ডিসি সম্মেলন শুরু ৩ মে, থাকছে ৪৯৮ প্রস্তাব সুনামগঞ্জসহ ৫ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস উদযাপিত জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেল ছায়ার হাওর কাটা ধানে গজাচ্ছে চারা জলাবদ্ধতায় ডুবছে হাওরের ধান, অসহায় কৃষক

টাঙ্গুয়ার হাওরে মাটি কাটার দুঃসাহস : জরিমানাই কি যথেষ্ট?

  • আপলোড সময় : ১১-০২-২০২৬ ০৯:১৯:০৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১১-০২-২০২৬ ০৯:১৯:০৮ পূর্বাহ্ন
টাঙ্গুয়ার হাওরে মাটি কাটার দুঃসাহস : জরিমানাই কি যথেষ্ট?
টাঙ্গুয়ার হাওর শুধু সুনামগঞ্জের নয়, গোটা দেশের একটি অমূল্য প্রাকৃতিক ঐতিহ্য। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই রামসার সাইট ও প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) দীর্ঘদিন ধরেই নানা রকম পরিবেশগত হুমকির মুখে রয়েছে। সর্বশেষ তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের হিজল-করচবাগ এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাটি কর্তনের ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হলো- আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রকৃতি ধ্বংসের প্রবণতা এখনো বন্ধ হয়নি। ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের নামে হাওরের ভেতর থেকে মাটি কর্তন শুধু বেআইনি নয়, এটি সরাসরি পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের ওপর আঘাত। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই কাজে জড়িত ছিলেন ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি নিজেই। যার দায়িত্ব ছিল প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা নিশ্চিত করা, তিনিই যদি আইন ভঙ্গ করেন, তাহলে তদারকির ঘাটতি কোথায় - সে প্রশ্ন উঠতেই পারে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা অবশ্যই একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে অবৈধভাবে কাটা মাটি পুনঃস্থাপনের নির্দেশ পরিবেশ সংরক্ষণের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রশ্ন থেকে যায়- এই জরিমানা কি ভবিষ্যতে এমন অপরাধ ঠেকাতে যথেষ্ট হবে? নাকি এটি কেবল নিয়মরক্ষার একটি আনুষ্ঠানিকতা হয়ে থাকবে? বাস্তবতা হলো, টাঙ্গুয়ার হাওরের মতো সংবেদনশীল এলাকায় মাটি কর্তন, গাছ নিধন, অবৈধ স্থাপনা ও অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন - সবকিছু মিলেই হাওরের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে। পিআইসি গঠনের সময় স্বচ্ছতা, প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়মিত তদারকি এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত না হলে এই ধরনের অপকর্ম বারবার ঘটতেই থাকবে। আমাদের স্পষ্টভাবে মনে রাখতে হবে- টাঙ্গুয়ার হাওর কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষার জায়গা নয়। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণের দায়িত্ব আমাদের সবার। তাই শুধু জরিমানা নয়, প্রয়োজন হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, পিআইসি বাতিল, প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন এবং নিয়মিত পরিবেশগত নজরদারি জোরদার করতে হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযান প্রমাণ করে, চাইলে আইন প্রয়োগ সম্ভব। এখন দরকার ধারাবাহিকতা ও কঠোরতা। পরিবেশ ধ্বংসের সঙ্গে কোনো আপস নয় - এই বার্তাটি স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করাই আজ সময়ের দাবি। আমাদের মনে রাখতে হবে, টাঙ্গুয়ার হাওর বাঁচলে বাঁচবে প্রকৃতি, বাঁচবে মানুষ। আর সেই দায় এড়ানোর সুযোগ কারও নেই।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স