সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ , ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ দিরাইয়ে নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌরসভার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী খুন নির্মাণ হচ্ছে জয়কলস হাইওয়ে পুলিশের নিজস্ব ভবন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কার্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন জামালগঞ্জে ৬৭ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার ‎জামালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সঙ্গে নবনিযুক্ত ইউএনওর মতবিনিময় সভা নিজের অর্থে গড়া বাড়িতেই উঠতে পারছেন না মেক্সিকো প্রবাসী সাজেদা ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’র ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী লিবিয়া-গ্রিসে মানবপাচার, ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার ১ চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছে না সুনামগঞ্জ সংখ্যালঘু নিরাপত্তায় পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের ৭ দফা দাবি যারা ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলছে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী দোয়ারাবাজারে ভিডিও কনফারেন্সে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী গোবিন্দগঞ্জে স্কুলছাত্রকে মারধর ‎ক্ষতিগ্রস্ত বর্গাচাষীদের পাশে ইউএনও সঞ্জয় ঘোষ ইরা’র ‘লাইট’ প্রকল্পের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী আহত, প্রতিবাদে মানববন্ধন লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ, ডিম নিক্ষেপ

টাঙ্গুয়ার হাওরে মাটি কাটার দুঃসাহস : জরিমানাই কি যথেষ্ট?

  • আপলোড সময় : ১১-০২-২০২৬ ০৯:১৯:০৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১১-০২-২০২৬ ০৯:১৯:০৮ পূর্বাহ্ন
টাঙ্গুয়ার হাওরে মাটি কাটার দুঃসাহস : জরিমানাই কি যথেষ্ট?
টাঙ্গুয়ার হাওর শুধু সুনামগঞ্জের নয়, গোটা দেশের একটি অমূল্য প্রাকৃতিক ঐতিহ্য। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই রামসার সাইট ও প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) দীর্ঘদিন ধরেই নানা রকম পরিবেশগত হুমকির মুখে রয়েছে। সর্বশেষ তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের হিজল-করচবাগ এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাটি কর্তনের ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হলো- আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রকৃতি ধ্বংসের প্রবণতা এখনো বন্ধ হয়নি। ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের নামে হাওরের ভেতর থেকে মাটি কর্তন শুধু বেআইনি নয়, এটি সরাসরি পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের ওপর আঘাত। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই কাজে জড়িত ছিলেন ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি নিজেই। যার দায়িত্ব ছিল প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা নিশ্চিত করা, তিনিই যদি আইন ভঙ্গ করেন, তাহলে তদারকির ঘাটতি কোথায় - সে প্রশ্ন উঠতেই পারে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা অবশ্যই একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে অবৈধভাবে কাটা মাটি পুনঃস্থাপনের নির্দেশ পরিবেশ সংরক্ষণের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রশ্ন থেকে যায়- এই জরিমানা কি ভবিষ্যতে এমন অপরাধ ঠেকাতে যথেষ্ট হবে? নাকি এটি কেবল নিয়মরক্ষার একটি আনুষ্ঠানিকতা হয়ে থাকবে? বাস্তবতা হলো, টাঙ্গুয়ার হাওরের মতো সংবেদনশীল এলাকায় মাটি কর্তন, গাছ নিধন, অবৈধ স্থাপনা ও অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন - সবকিছু মিলেই হাওরের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে। পিআইসি গঠনের সময় স্বচ্ছতা, প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়মিত তদারকি এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত না হলে এই ধরনের অপকর্ম বারবার ঘটতেই থাকবে। আমাদের স্পষ্টভাবে মনে রাখতে হবে- টাঙ্গুয়ার হাওর কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষার জায়গা নয়। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণের দায়িত্ব আমাদের সবার। তাই শুধু জরিমানা নয়, প্রয়োজন হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, পিআইসি বাতিল, প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন এবং নিয়মিত পরিবেশগত নজরদারি জোরদার করতে হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযান প্রমাণ করে, চাইলে আইন প্রয়োগ সম্ভব। এখন দরকার ধারাবাহিকতা ও কঠোরতা। পরিবেশ ধ্বংসের সঙ্গে কোনো আপস নয় - এই বার্তাটি স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করাই আজ সময়ের দাবি। আমাদের মনে রাখতে হবে, টাঙ্গুয়ার হাওর বাঁচলে বাঁচবে প্রকৃতি, বাঁচবে মানুষ। আর সেই দায় এড়ানোর সুযোগ কারও নেই।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ