জনআকাঙ্খা পূরণে নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের দৃশ্যমান উদ্যোগ নিতে হবে
- আপলোড সময় : ১৪-০২-২০২৬ ০৯:৪০:১১ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৪-০২-২০২৬ ০৯:৪০:১১ পূর্বাহ্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাওরের জেলা সুনামগঞ্জ আবারও প্রমাণ করল- সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা একে অন্যের পরিপূরক। ভোটের দিন কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি; প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কোলাকুলি, কর্মী-সমর্থকদের সংযত আচরণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল উপস্থিতি - সব মিলিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ স¤পন্ন হয়েছে। এ জন্য প্রশাসন, প্রার্থী-সমর্থক এবং সর্বোপরি সচেতন ভোটারদের ধন্যবাদ প্রাপ্য।
তবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশের পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রগুলোতে তুলনামূলক কম উপস্থিতি আমাদের ভাবিয়ে তোলে। গণতন্ত্র কেবল সংঘাতহীন নির্বাচনেই সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রাণ হলো জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ। কোথাও কোথাও সকাল থেকে ভোটারশূন্য কেন্দ্র, আবার কোথাও মাঝারি ভিড় - এই চিত্র আমাদের সামনে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে: ভোটাররা কেন পুরোপুরি উৎসাহী হয়ে কেন্দ্রে এলেন না? আস্থা, প্রার্থী বাছাই, রাজনৈতিক মেরুকরণ - সব বিষয়ই এখানে প্রাসঙ্গিক।
ফলাফলে দেখা গেল, জেলার পাঁচটি আসনেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জয়লাভ করেছে। কামরুজ্জামান কামরুল সুনামগঞ্জ-১ আসনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। সুনামগঞ্জ-২-এ জয়ী হয়েছেন মো. নাসির চৌধুরী। সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিজয়ী মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ। সুনামগঞ্জ-৪-এ নির্বাচিত হয়েছেন নূরুল ইসলাম। আর সুনামগঞ্জ-৫-এ বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছেন কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বেশিরভাগ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা ছিলেন, যা জেলার রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। ভোটের হার ৪৪ থেকে ৫৬ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল - এটিও রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য আত্মসমালোচনার বিষয় হওয়া উচিত।
এ নির্বাচন সুনামগঞ্জবাসীর সামনে দুটি বার্তা রেখে গেল। প্রথমত, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সহাবস্থান সম্ভব। দ্বিতীয়ত, বিজয়ীদের জন্য এটি দায়িত্বের সূচনা, সমাপ্তি নয়। জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে ভোট দিয়েছেন- উন্নয়ন, সুশাসন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা তা পূরণে নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের দৃশ্যমান উদ্যোগ নিতে হবে।
গণতন্ত্রের আসল শক্তি ক্ষমতায় নয়, জবাবদিহিতে। সুনামগঞ্জ যদি সম্প্রীতির জনপদ হিসেবেই পরিচিত থাকতে চায়, তবে নির্বাচনের এই শান্তিপূর্ণ চর্চা ধারাবাহিক রাখতে হবে এবং অংশগ্রহণমূলক রাজনীতিকে আরও বিস্তৃৃত করতে হবে। তাহলেই এ বিজয় কেবল কোনো দলের নয়, হবে জনগণের, হবে গণতন্ত্রের।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়