সুনামগঞ্জ , রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ , ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন বিল সংসদে পাস কোথাও ধান কাটার উৎসব, কোথাও জলের নিচে স্বপ্ন মুক্তিপণ নেয়ার পরও অপহরণকারীরা ফেরত দেয়নি মোনায়েমকে, উৎকণ্ঠায় পরিবার টাঙ্গুয়ার হাওরে ৫০ কোটি টাকার প্রকল্প কমিউনিটি ভিত্তিক স্বপ্ন কি টিকে থাকবে? দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার, দিস ইজ পার্লামেন্ট : হাসনাত আব্দুল্লাহকে স্পিকার সংসদে ১৩ দিনে ৯১টি বিল পাস শাল্লায় নিরীহ পরিবারের বাসা দখলে ঘোষণা দিয়ে হামলা ত্যাগী নেত্রীদের মূল্যায়ন চায় বিএনপি’র তৃণমূল দালালের ফাঁদে নিঃস্ব অভিবাসন প্রত্যাশীরা, হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা দিরাইয়ে পৃথক সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ২০ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিল’ পাস শান্তিগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধ কর্তন পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, মেরামতের নির্দেশ উদ্বোধন হলো ‘মা ও শিশু হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ হাওরে দেশি ধান কাটা শুরু দোয়ারাবাজারে অভিযুক্ত শিক্ষককে কর্মস্থলে ফেরানোর চেষ্টায় শিক্ষার্থীদের বাধা বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষক নিহত উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেন সাইফুল ইসলাম নিজেদের টাকায় সরকারি সড়ক সংস্কার করলেন এলাকাবাসী ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন-২০২৬’ সংসদে পাস

প্রতিটি মৃদু কম্পন আমাদের জন্য সতর্কবার্তা

  • আপলোড সময় : ২১-০২-২০২৬ ০২:০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২১-০২-২০২৬ ০২:০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন
প্রতিটি মৃদু কম্পন আমাদের জন্য সতর্কবার্তা
সিলেট অঞ্চলে আবারও মৃদু ভূক¤পন অনুভূত হয়েছে। সর্বশেষ কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল ছাতক উপজেলা, মাত্রা ৪.১। এর আগে গোয়াইনঘাট উপজেলা কেন্দ্র করে ৪.০ মাত্রার আরেকটি ভূক¤পন অনুভূত হয়। তাৎক্ষণিক বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর না থাকলেও ঘটনাগুলো আমাদের একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়- বাংলাদেশ, বিশেষ করে সিলেট অঞ্চল, ভূমিকম্পঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, প্রস্তুতিই এখানে একমাত্র ভরসা। ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থানগত কারণে সিলেট অঞ্চল ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের নিকটে। তাই মাঝেমধ্যে মৃদু কম্পন নতুন নয়। কিন্তু সমস্যার জায়গা অন্যত্র- আমাদের নগরায়ণ, নির্মাণমান ও প্রস্তুতির ঘাটতি। ৪ থেকে ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত মৃদু হিসেবে বিবেচিত হলেও অনিয়ন্ত্রিত ও নি¤œমানের ভবন নির্মাণ থাকলে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়। প্রথমত, নির্মাণকোড বাস্তবায়ন এখন আর কাগুজে নির্দেশনায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। ভবন নির্মাণে ভূমিকম্প-সহনশীল নকশা বাধ্যতামূলক করা এবং তা কার্যকরভাবে তদারকি করতে হবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোর প্রকৌশল শাখাকে শক্তিশালী করা জরুরি। লাইসেন্সবিহীন নকশা ও নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, ঝুঁকি মানচিত্র ও জনসচেতনতা। স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, বাজার ও বহুতল ভবনে নিয়মিত মহড়া (ড্রিল) চালু করা প্রয়োজন। ভূক¤পন হলে কীভাবে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে, কীভাবে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে - এসব বিষয়ে নাগরিকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক প্রস্তুতি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা যেতে পারে। তৃতীয়ত, পর্যবেক্ষণ ও তথ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ। দেশের বিভিন্ন স্থানে সিসমোগ্রাফ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, তথ্য দ্রুত যাচাই ও জনসম্মুখে প্রকাশ - এসবের মাধ্যমে গুজব ও আতঙ্ক কমানো সম্ভব। সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে সঠিক তথ্য সরবরাহের ব্যবস্থা থাকতে হবে। চতুর্থত, সমন্বিত জরুরি প্রতিক্রিয়া কাঠামো। ফায়ার সার্ভিস, স্বাস্থ্য বিভাগ, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বিত কমান্ড সিস্টেম গড়ে তোলা দরকার, যাতে বড় কোনো দুর্যোগে দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা যায়। হাসপাতালগুলোতে জরুরি সাড়া-দানের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। ভূমিক¤প ঠেকানো মানুষের সাধ্যের বাইরে; কিন্তু ক্ষতি কমানো সম্পূর্ণই আমাদের হাতে। প্রতিটি মৃদু কম্পন আমাদের জন্য সতর্কবার্তা - অবহেলার নয়, প্রস্তুতির। আজ যে কম্পন ক্ষতি করেনি, আগামীকাল সেটিই বড় আকারে ফিরে আসবে না - এ নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। তাই উন্নয়নের সঙ্গে নিরাপত্তাকে সমান্তরালে এগিয়ে নিতে হবে। দায়িত্বশীল নগরায়ণ, কঠোর নির্মাণমান, সচেতন নাগরিক - এই তিনের সমন্বয়েই আমরা ঝুঁকি কমাতে পারি। প্রকৃত অর্থে এখনই সময়, কথার চেয়ে কাজে প্রমাণের। ভূকম্পনের এই পুনরাবৃত্তি যেন আমাদের সামষ্টিক উদাসীনতাকে নাড়া দেয় - এটাই প্রত্যাশা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স