সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ , ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ দিরাইয়ে নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌরসভার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী খুন নির্মাণ হচ্ছে জয়কলস হাইওয়ে পুলিশের নিজস্ব ভবন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কার্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন জামালগঞ্জে ৬৭ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার ‎জামালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সঙ্গে নবনিযুক্ত ইউএনওর মতবিনিময় সভা নিজের অর্থে গড়া বাড়িতেই উঠতে পারছেন না মেক্সিকো প্রবাসী সাজেদা ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’র ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী লিবিয়া-গ্রিসে মানবপাচার, ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার ১ চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছে না সুনামগঞ্জ সংখ্যালঘু নিরাপত্তায় পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের ৭ দফা দাবি যারা ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলছে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী দোয়ারাবাজারে ভিডিও কনফারেন্সে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী গোবিন্দগঞ্জে স্কুলছাত্রকে মারধর ‎ক্ষতিগ্রস্ত বর্গাচাষীদের পাশে ইউএনও সঞ্জয় ঘোষ ইরা’র ‘লাইট’ প্রকল্পের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী আহত, প্রতিবাদে মানববন্ধন লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ, ডিম নিক্ষেপ

মাতৃভাষা হারালে হারাবে সংস্কৃতির অস্তিত্ব

  • আপলোড সময় : ২৩-০২-২০২৬ ০৯:৪৮:৪০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৩-০২-২০২৬ ১০:০৯:০০ পূর্বাহ্ন
মাতৃভাষা হারালে হারাবে সংস্কৃতির অস্তিত্ব
ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, একটি জাতিগোষ্ঠীর ইতিহাস, সংস্কৃতি, বিশ্বাস ও আত্মপরিচয়ের প্রধান ভিত্তি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর মাতৃভাষা আজ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। চর্চার অভাব, প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের ঘাটতি এবং মূলধারার ভাষার প্রভাবের কারণে প্রজন্মান্তরে এসব ভাষার ব্যবহার ক্রমেই কমে যাচ্ছে। খাসিয়া, হাজং, গারো, চাকমা, বানাই ও মনিপুরি সম্প্রদায়ের মানুষের রয়েছে নিজস্ব ভাষা ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। কিন্তু এসব ভাষা আজ পরিবারকেন্দ্রিক সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। নতুন প্রজন্ম বিদ্যালয়, সামাজিক ও প্রশাসনিক কর্মকা-ে বাংলা ভাষার ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। ফলে মাতৃভাষার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ছে। এর ফলে শুধু ভাষাই নয়, হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে একটি জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ও পরিচয়। ভাষা সংরক্ষণে সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হলো শিক্ষা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আদিবাসী শিশুদের জন্য তাদের নিজস্ব ভাষায় কোনো পাঠ্যপুস্তক নেই। বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে মাতৃভাষার কোনো স্থান না থাকায় শিশুরা ছোটবেলা থেকেই নিজ ভাষা শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ভাষা শেখার জন্য কোনো চর্চা কেন্দ্র বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ না থাকায় পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়ে উঠেছে। সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের অধিকার রয়েছে। ভাষার বৈচিত্র্য একটি দেশের সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির প্রতীক। তাই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণ শুধু তাদের স্বার্থেই নয়, বরং দেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার জন্যও অপরিহার্য। এক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, বিশেষ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কার্যকর ভূমিকা জরুরি। আদিবাসী ভাষায় প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন, ভাষা চর্চা কেন্দ্র স্থাপন এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে ভাষা সংরক্ষণের উদ্যোগে। এছাড়া সমাজের মূলধারার মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন, যাতে কেউ নিজের মাতৃভাষায় কথা বলার কারণে উপহাস বা অবজ্ঞার শিকার না হন। ভাষার প্রতি সম্মান প্রদর্শনই একটি সভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের পরিচায়ক। আজ যদি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তাহলে আগামী প্রজন্ম হয়তো এসব ভাষার নাম শুধু বইয়ের পাতায় খুঁজে পাবে। তাই এখনই সময়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা সংরক্ষণে সমন্বিত ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের। কারণ ভাষা হারানো মানে একটি জাতিগোষ্ঠীর আত্মপরিচয় হারানো - যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ