সুনামগঞ্জ , সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬ , ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গনবিজ্ঞপ্তি--সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন পৈতৃক সম্পত্তির রেকর্ড সংশোধন ও স্বত্ব ফেরতের দাবি হাওরে স্কুলযাত্রায় জীবনের ঝুঁকি, নিরাপদ নৌযান এখনো অধরা ১৬১৩ শিক্ষকের পদ শূন্য, ৪৫১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক মইয়ার হাওরে নৌকাডুবিতে নিহত ২, নিখোঁজ ২, ভবানীপুরে শোকের মাতম জামালগঞ্জে হামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচার দাবি বালুর নিচে হাজার বিঘা কৃষিজমি, বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কা হবিগঞ্জে সারজিস ও নাসীরুদ্দীনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা সরকার নৈতিক দিক থেকে দেশ পরিচালনার অধিকার হারিয়েছে : জামায়াত আমির একটি মহল সচেতনভাবে ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করছে : মির্জা ফখরুল আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বিভক্তির চিত্র, ৬ ও ৮ আগস্ট পৃথক সমাবেশের ডাক উড়াল সড়ক প্রকল্প পরিদর্শনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন, স্মারকলিপি, ধর্ষকের ফাঁসির দাবি ছাতকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৪ দাবি মেনে নতুন টোল নির্ধারণ, নদীপথে স্বাভাবিক হচ্ছে পণ্য পরিবহন সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখানোর আদেশ স্থগিত তারেক রহমানের সফরের অপেক্ষায় ভারত : দীনেশ ত্রিবেদী চার্জশিট থেকে মূল আসামিসহ ৯ জনের নাম বাদ দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ধোপাজান-চলতি নদীতে বালু লুট বন্ধের দাবি মানব সমাজ, সৃজনশীলতা ও সভ্যতার বিবর্তন : সৃষ্টি ও ধ্বংসের এক অনন্ত মহাকাব্য

গারো পল্লীতে “ওয়ানগালা উৎসব” অনুষ্ঠিত

  • আপলোড সময় : ২৭-০২-২০২৬ ০৪:২৮:০৬ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৭-০২-২০২৬ ০৪:২৮:০৬ অপরাহ্ন
গারো পল্লীতে “ওয়ানগালা উৎসব” অনুষ্ঠিত
স্টাফ রিপোর্টার :: “সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি” স্লোগানকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মুগাইপার গারো পল্লীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী “সম্প্রীতির ওয়ানগালা উৎসব”। বৃহ¯পতিবার এ উৎসবের আয়োজন করে সুনামগঞ্জ ইয়থ পিস এম্বাসেডর গ্রুপ। গারো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ওয়ানগালা উৎসবকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল বিলুপ্তপ্রায় লোকজ ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করা এবং গারো জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক চেতনা জাগ্রত করা। ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন সুনামগঞ্জ সদরের চেয়ারম্যান মিন্টু দিও’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন গারো অধ্যুষিত পাঁচ গ্রামের মাতব্বর হাজার মারাক, শ্যামল ডিব্রা, এলস দিও ও ডমিনিক মৃ। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সুনামগঞ্জ পিএফজির এম্বাসেডর সিরাজুল ইসলাম পলাশ ও ওয়াইপিএজির যুগ্ম সমন্বয়কারী অনন্যা তালুকদার। স্বাগত বক্তব্য দেন এমআইপিএস প্রকল্পের এরিয়া কো-অর্ডিনেটর নাজমুল হুদা মিনা। সাংস্কৃতিক পর্ব পরিচালনা করেন নন্দিতা মানখিন ও সলোমন যেত্রা। জাতীয় সংগীত এর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। দিনব্যাপী আয়োজনে গারো সম্প্রদায়ের সদস্যরা তাদের সংস্কৃতির নানা দিক নৃত্য, গান ও পরিবেশনার মাধ্যমে তুলে ধরেন। গারো (মান্দি) গান পরিবেশন করেন খ্রিস্টিনা দিও, চাইনিং আরেং, উদয় সাংমা, আরিয়ান মান্দা ও শিমিরন সাংমা। গারো (মান্দি) নৃত্য পরিবেশন করেন প্রেমা ও হেমন্টী, ম্যাট্রিন হাপিদক ও নবনীতা চাপ্পুণৎ, চেলসি ও অঙ্কিতার দল, রিয়া দিও ও লিপা দিও, অভিভেন্স যেত্রা ও আরোহী চিরান, তিথি তজু ও শ্রেষ্ঠা নকরেক, প্রত্যাশা মৃ ও গ্রেসি মৃ, প্রমি যেত্রা, রতœা হাজং, মেত্রী হাজং, সৃষ্টি ও তার দল, শান্তি ও তার দল এবং দিতি ও তার দল। সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গারো সম্প্রদায় বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলে বসবাসকারী একটি অন্যতম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী। বিশেষ করে ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় তাদের বসবাস রয়েছে। সুনামগঞ্জের পাহাড়ি ও বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকাতেও গারো জনগোষ্ঠী প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত জীবনযাপন করে আসছে। গারোদের সর্বাধিক পরিচিত উৎসব ‘ওয়ানগালা’, যা মূলত ধান সংগ্রহ ও ফসলের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের উৎসব। এ উৎসবে নৃত্য, ঢোল-বাঁশির বাদ্য এবং ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের মাধ্যমে আনন্দ উদযাপন করা হয়। তবে সময়ের পরিবর্তনে এ উৎসব ক্রমেই বিলুপ্তির পথে ধাবিত হচ্ছে বলে বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা আরও বলেন, গারো সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের রঙিন ঐতিহ্যবাহী পোশাক, মাথার অলংকার ও হস্তশিল্পের মাধ্যমে স্বকীয় সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরেন। তবে জমির অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাবসহ নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি তারা। বক্তারা গারো সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও উন্নয়নে সরকার, সমাজ ও স্থানীয় সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনায় অংশ নেন পিএফজি সদস্য নূরুল হাসান আহাহের, মুছিহুর রহমান রাসেল, প্রতীমা রানী দাস, কর্ণবাবু দাস এবং ওয়াইপিএজির আলী ইমরান, মোহাম্মদ আলী প্রমুখ। আয়োজকরা জানান, গারো আদিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করা এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরার লক্ষ্যে এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
গনবিজ্ঞপ্তি--সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন

গনবিজ্ঞপ্তি--সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন