সুনামগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ , ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামালগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির প্রস্তুতিমূলক সভা বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারির দাফনে বাধা, সুনামগঞ্জে তীব্র ক্ষোভ সুরমা নদীতে টোল আদায় করতে না পেরে বিপাকে ইজারাদার ফুটবল খেলা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত তরুণ-তরুণীর বিয়েকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ : আহত ২০ হাওরে বোরোর মনগড়া লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ক্ষোভ নির্মাণকাজে অনিয়মের সত্যতা মিলেছে, বন্ধ ঠিকাদারের বিল শ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ ৪৬৯ পোশাক কারখানা প্রতি মাসে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ১০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ডিলারের লাইসেন্স ব্যবহার করে সরকারি কার্যালয়ে বীজের মজুত ও বিক্রির অভিযোগ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মওসুমের এক মাস আগেই শুকিয়েছে বীজতলা, বিপাকে হাওরের কৃষক সড়ক নির্মাণে দুর্নীতি আড়াল করতেই এমপি’র বিরুদ্ধে অপপ্রচার, লুটপাটকারীদের বিচারের দাবি জন্মান্ধ স্বামী, এক চোখে দেখেন স্ত্রী, মানুষের সাহায্যে চলে সংসার শঙ্কা মাথায় নিয়ে বোরো আবাদের প্রস্তুতি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে প্রস্তুতি সভা পোশাক কারখানা সচল রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাবা-মা-ভাইবোনসহ ছাত্রলীগ নেতার পুরো পরিবার গ্রেফতার, সঙ্গে ৩ বন্ধুও শীতকালীন সবজি চাষে নেই প্রণোদনা, ভালো দাম, প্রকৃতি ভরসা কৃষকের জাতীয় যুব দিবস পালিত ছাতকে আমন ধান কাটা উৎসব

এক বছরে দেশে ৪০৩ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা আমাদের নীরব ব্যর্থতার নির্মম প্রতিচ্ছবি

  • আপলোড সময় : ০২-০৩-২০২৬ ১০:৫৫:৫৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০২-০৩-২০২৬ ১০:৫৫:৫৭ পূর্বাহ্ন
এক বছরে দেশে ৪০৩ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা আমাদের নীরব ব্যর্থতার নির্মম প্রতিচ্ছবি
বাংলাদেশ আজ এক গভীর ও উদ্বেগজনক সামাজিক সংকটের মুখোমুখি। ২০২৫ সালে দেশে ৪০৩ জন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি আমাদের পরিবার, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সমাজের সম্মিলিত ব্যর্থতার নির্মম প্রতিফলন। আত্মহত্যা প্রতিরোধ ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশন-এর সাম্প্রতিক সমীক্ষা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে- আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নীরবে ভেঙে পড়ছে, আর আমরা তা যথাসময়ে বুঝতে পারছি না। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আত্মহত্যাকারীদের প্রায় অর্ধেকই স্কুলশিক্ষার্থী। অর্থাৎ কৈশোরের সূচনালগ্নেই অনেক শিশু এমন মানসিক সংকটে পড়ছে, যেখান থেকে তারা মুক্তির পথ হিসেবে আত্মহননকেই বেছে নিচ্ছে। এই বয়সে শিক্ষার্থীরা আবেগগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে। অথচ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় তাদের মানসিক সুস্থতা নিয়ে কার্যকর কোনো কাঠামোগত উদ্যোগ নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরীক্ষার ফলাফল, প্রতিযোগিতা এবং সামাজিক প্রত্যাশার চাপ থাকলেও মানসিক সহায়তার ব্যবস্থা প্রায় অনুপস্থিত। সমীক্ষায় আরও দেখা গেছে, আত্মহত্যার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে হতাশা, অভিমান, প্রেমঘটিত সমস্যা এবং পারিবারিক টানাপোড়েন কাজ করছে। এটি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, শিক্ষার্থীরা তাদের আবেগ ও সংকট নিয়ে কথা বলার মতো নিরাপদ পরিবেশ পাচ্ছে না। পরিবারে সন্তানদের সঙ্গে মানসিক যোগাযোগের অভাব, কঠোর প্রত্যাশা এবং আবেগগত অবহেলা তাদের ভেতরে গভীর নিঃসঙ্গতা তৈরি করছে। লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে নারী শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার বেশি হওয়া আমাদের সামাজিক বাস্তবতার আরেকটি কঠিন সত্য তুলে ধরে। মেয়েরা এখনও সামাজিক বিধিনিষেধ, পারিবারিক চাপ এবং সম্পর্কজনিত সংকটে বেশি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে পুরুষ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা ও কর্মসংস্থানের চাপ আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, আমাদের সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে এখনও ব্যাপক কুসংস্কার ও সামাজিক লজ্জা বিদ্যমান। মানসিক সমস্যাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা হয়, চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা হিসেবে নয়। ফলে অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার আগেই চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য এখনই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। প্রথমত, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পেশাদার কাউন্সেলিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা শিক্ষা ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে হবে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে, যাতে তারা শিক্ষার্থীদের আচরণগত পরিবর্তন বুঝতে পারেন এবং সময়মতো সহায়তা দিতে পারেন। তৃতীয়ত, সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের সন্তানদের শুধু ভালো ফলাফলের যন্ত্র হিসেবে নয়, একজন সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে দেখতে শিখতে হবে। তাদের কথা শুনতে হবে, তাদের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং তাদের পাশে থাকার নিশ্চয়তা দিতে হবে। আমরা মনে করি, শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা কোনো ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়, এটি আমাদের সমাজের ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে হলে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ প্রতিটি হারানো জীবন মানে একটি সম্ভাবনার মৃত্যু, একটি স্বপ্নের সমাপ্তি এবং একটি জাতির ভবিষ্যতের ক্ষয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
হাওরে বোরোর মনগড়া লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ক্ষোভ

হাওরে বোরোর মনগড়া লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ক্ষোভ