সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ , ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ দিরাইয়ে নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌরসভার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী খুন নির্মাণ হচ্ছে জয়কলস হাইওয়ে পুলিশের নিজস্ব ভবন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কার্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন জামালগঞ্জে ৬৭ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার ‎জামালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সঙ্গে নবনিযুক্ত ইউএনওর মতবিনিময় সভা নিজের অর্থে গড়া বাড়িতেই উঠতে পারছেন না মেক্সিকো প্রবাসী সাজেদা ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’র ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী লিবিয়া-গ্রিসে মানবপাচার, ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার ১ চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছে না সুনামগঞ্জ সংখ্যালঘু নিরাপত্তায় পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের ৭ দফা দাবি যারা ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলছে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী দোয়ারাবাজারে ভিডিও কনফারেন্সে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী গোবিন্দগঞ্জে স্কুলছাত্রকে মারধর ‎ক্ষতিগ্রস্ত বর্গাচাষীদের পাশে ইউএনও সঞ্জয় ঘোষ ইরা’র ‘লাইট’ প্রকল্পের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী আহত, প্রতিবাদে মানববন্ধন লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ, ডিম নিক্ষেপ

শিলা বৃষ্টিতে বোরো ফসল আক্রান্ত, আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষক

  • আপলোড সময় : ১৬-০৩-২০২৬ ১২:৫৮:৫৪ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৬-০৩-২০২৬ ০১:০১:২৫ অপরাহ্ন
শিলা বৃষ্টিতে বোরো ফসল আক্রান্ত, আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষক
শহীদনূর আহমেদ::
গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড পরিমাণ শিলা বৃষ্টি হয়েছে হাওরের জেলা সুনামগঞ্জে। এতে জেলার সদর, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, শান্তিগঞ্জ ও ছাতক উপজেলার বিভিন্ন হাওরের বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে টানা বৃষ্টিপাতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন হাওরাঞ্চলের কৃষকরা। উজানের পাহাড়ি ঢল ও আগাম বন্যার শঙ্কায় অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে হাওরপাড়ের মানুষের। ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় হাওর ডুবির আশঙ্কাও বাড়ছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, উজানে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকলেও এখনই আগাম বন্যার আশঙ্কা নেই। শনিবার বিকেল থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। রাতে প্রবল বাতাসের সঙ্গে বৃষ্টি অব্যাহত থাকে। রাতভর বৃষ্টি ও মাঝারি ধরনের ঝড় হলেও জেলার কোথাও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিকেলে তাহিরপুরে এবং রাতে সদর, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, মধ্যনগর, শান্তিগঞ্জ ও ছাতকসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক শিলা বৃষ্টি হয়। এতে অনেক এলাকার বাড়িঘরের আঙিনা, সড়ক ও ফসলি জমিতে শিলার স্তূপ জমে যায়। শিলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বোরো আবাদি জমি। হাওরপাড়ের কৃষকদের ভাষ্য, বোরো মৌসুমের শেষ দিকে ধানগাছে শীষ বের হওয়া শুরু হয়েছে। এ সময়ের শিলা বৃষ্টি ফসলের জন্য ক্ষতিকর। শিয়ালমারা হাওরের কৃষক আব্দুস সোবহান বলেন, রাতে অনেক শিলা পড়ছে। ঘরের উঠানে শিলার স্তূপ জমে গেছিল। সকালে জমিতে গিয়েও দেখি শিলা পড়ে আছে। ধানের থোড় আসা শুরু করছিল, এর মধ্যেই শিলার আঘাতে অনেক গাছ ভেঙে গেছে। এই গাছে আর ভালো ফলন হবে না। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, শিলা-বৃষ্টি নিয়ে কৃষকদের উদ্বেগ থাকলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কম। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এখনো ৯০ শতাংশ ধানগাছে শীষ আসেনি। তাই শিলাবৃষ্টিতে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা কম। এদিকে টানা বৃষ্টিতে সদর উপজেলার শিয়ালমারা হাওর, জোয়ালভাঙা হাওর এবং শান্তিগঞ্জের পাখিমারা ও নাগডরা হাওরসহ বিভিন্ন এলাকার নিচু জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। কৃষকদের আশঙ্কা, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি পাহাড়ি ঢলে আগাম বন্যায় হাওরের ফসল তলিয়ে যেতে পারে। জলাবদ্ধতার কারণে জোয়ালভাঙা হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনের জন্য স্থানীয় কৃষকেরা ফসলরক্ষা বাঁধ কেটে দিয়েছেন। জোয়ালভাঙা হাওরের রহমতপুর গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, “আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল হাওরে বাঁধের পাশাপাশি স্লুইসগেট নির্মাণের। হাওরে বৃষ্টি হলেই ডুবরা হয়ে যায়। গত রাতের বৃষ্টিতে শত শত কেয়ার জমি ডুবে গেছে। তাই গ্রামের মানুষ বাধ্য হয়ে বাঁধ কেটেছে। হাওরে জমে থাকা পানি বের করা না গেলে আরেকটু বৃষ্টি হলেই ফসল তলিয়ে যাবে। তখন পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার সুনামগঞ্জে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও আগাম বন্যার কবল থেকে বোরো ফসল রক্ষায় জেলায় ৬০৩ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে অনেক স্থানে এখনো বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় কৃষকদের উদ্বেগ কাটছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকলেও বন্যা হওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। যেখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, সেখান থেকে পানি অপসারণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই কৃষকদের এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ