সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ , ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ দিরাইয়ে নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌরসভার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী খুন নির্মাণ হচ্ছে জয়কলস হাইওয়ে পুলিশের নিজস্ব ভবন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কার্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন জামালগঞ্জে ৬৭ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার ‎জামালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সঙ্গে নবনিযুক্ত ইউএনওর মতবিনিময় সভা নিজের অর্থে গড়া বাড়িতেই উঠতে পারছেন না মেক্সিকো প্রবাসী সাজেদা ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’র ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী লিবিয়া-গ্রিসে মানবপাচার, ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার ১ চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছে না সুনামগঞ্জ সংখ্যালঘু নিরাপত্তায় পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের ৭ দফা দাবি যারা ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলছে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী দোয়ারাবাজারে ভিডিও কনফারেন্সে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী গোবিন্দগঞ্জে স্কুলছাত্রকে মারধর ‎ক্ষতিগ্রস্ত বর্গাচাষীদের পাশে ইউএনও সঞ্জয় ঘোষ ইরা’র ‘লাইট’ প্রকল্পের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী আহত, প্রতিবাদে মানববন্ধন লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ, ডিম নিক্ষেপ
হাওর বাঁচাও আন্দোলন নেতা হত্যার ৭ বছর

হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতা আজাদ মিয়া হত্যার দ্রুত ন্যায়বিচার চাই

  • আপলোড সময় : ১৮-০৩-২০২৬ ০৪:৫৫:৫৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৮-০৩-২০২৬ ০৫:০০:৪৮ পূর্বাহ্ন
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতা আজাদ মিয়া হত্যার দ্রুত ন্যায়বিচার চাই ছবি: নিহত আজাদ মিয়া
বিজন সেন রায় ::
আজ সাত বছর পেরিয়ে গেল। সুনামগঞ্জের মানুষ অপেক্ষায় রয়েছে - একটি ন্যায়বিচার প্রাপ্তির প্রত্যাশায়। হাওর বাঁচাও আন্দোলন, সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির নেতা, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক, মোল্লাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আজাদ মিয়ার নির্মম হত্যাকান্ড শুধু একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ নয়; এটি কাঁদিয়েছিল আপামর হাওরবাসীকে। আজাদ মিয়া ছিলেন সাধারণ মানুষের নেতা - মাঠে-ঘাটে, কৃষকের পাশে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার একজন কর্মী। রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও তিনি মূলত ছিলেন জনগণের মানুষ। এমন একজন মানুষকে হত্যা করা হলো, অথচ সাত বছরেও বিচার প্রক্রিয়ার দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই - এটি আমাদের প্রতিনিয়ত কষ্ট দিচ্ছে।
হত্যাকান্ডের পরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। শুরুতে কিছুটা তৎপরতা দেখা গেলেও ধীরে ধীরে তদন্ত যেন গতি হারায়। সাক্ষী-প্রমাণের জটিলতা, রাজনৈতিক প্রভাব, কিংবা প্রশাসনিক উদাসীনতা - যে কারণই হোক, ফলাফল একটাই- বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা। আর এই দীর্ঘসূত্রিতা শুধু আজাদ মিয়ার পরিবারের জন্য নয়, সমাজের জন্যও এক অশনি সংকেত। একটি হত্যাকান্ডের দ্রুত বিচার না হওয়া মানে অপরাধীদের কাছে এক ধরনের নীরব বার্তা- “তোমরা পার পেয়ে যেতে পারো।” এ ধরনের বার্তা সমাজে অপরাধ প্রবণতা বাড়ায়, আইনের প্রতি মানুষের আস্থা কমিয়ে দেয়।
বিশেষ করে যখন একজন রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তির হত্যার বিচার ঝুলে থাকে, তখন সাধারণ মানুষ আরও বেশি ভীত ও অনিশ্চয়তায় ভোগে। আজাদ মিয়ার পরিবার আজও ন্যায়বিচারের আশায় দিন গুনছে। তাদের দাবি খুবই সোজা- মামলাটি পুনরায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। এটি কোনো দয়া বা অনুগ্রহের দাবি নয়; এটি তাদের ন্যায্য অধিকার।
রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন একটাই- কেন এই দীর্ঘসূত্রিতা? কেন একটি স্পষ্ট হত্যাকান্ডের বিচার প্রক্রিয়া সাত বছরেও শেষ হলো না? তদন্ত সংস্থাগুলোর জবাবদিহিতা কোথায়? একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিচারপ্রক্রিয়া যদি এভাবে বিলম্বিত হয়, তবে আইনের শাসন কতটা কার্যকর - তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। আজকের এই মৃত্যুবার্ষিকী কেবল স্মরণ করার দিন নয়; এটি একটি জাগরণের দিনও হওয়া উচিত। আমরা মামলাটি দ্রুত পুনঃতদন্ত করে স্বচ্ছতার সঙ্গে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্নের দাবি জানাই। অপরাধীরা যত শক্তিশালীই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় - এই বার্তাটি প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। আজাদ মিয়ার আত্মা হয়তো নীরবে প্রশ্ন করছে- “আমার অপরাধ কী ছিল?” সেই প্রশ্নের জবাব দিতে হবে রাষ্ট্রকেই। কারণ বিচারহীনতার সংস্কৃতি কোনো সভ্য সমাজের পরিচয় হতে পারে না। ন্যায়বিচার দেরিতে হলেও তা হতে হবে - এটাই আজকের প্রত্যাশা, এটাই ন্যায়ের দাবি।
[বিজন সেন রায়, সাধারণ সম্পাদক, হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটি]

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ