মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন
- আপলোড সময় : ২৬-০৩-২০২৬ ০৮:৪৩:৫৮ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৬-০৩-২০২৬ ০৮:৪৩:৫৮ পূর্বাহ্ন
আজ ২৬ শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাঙালি জাতি রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার পথে চূড়ান্ত যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র লড়াই, অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগ, মা-বোনের অসীম ত্যাগ ও নির্যাতনের ইতিহাসের বিনিময়ে অর্জিত হয় আমাদের প্রিয় স্বাধীন বাংলাদেশ।
স্বাধীনতার এই দিনে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি সেইসব বীর শহীদদের, যাদের রক্তে রঞ্জিত হয়ে উঠেছিল এ দেশের মাটি। স্মরণ করি নির্যাতিত মা-বোনদের, যাদের ত্যাগ ও বেদনা আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসকে করেছে আরও গভীর ও গৌরবময়। স্মরণ করি মুক্তিযোদ্ধাদের, যারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন একটি স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য।
মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি ভূখ-ের স্বাধীনতার লড়াই ছিল না; এটি ছিল একটি জাতির আত্মপরিচয়, অধিকার, মর্যাদা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। গণতন্ত্র, সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার যে আদর্শ সামনে রেখে বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, সেই চেতনা আজও আমাদের পথপ্রদর্শক।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, স্বাধীনতার ৫০ বছরেরও বেশি সময় পরও আমরা সেই চেতনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারিনি। নানা সময়ে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি, যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকারদের উত্তরসূরিরা রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে। ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রবণতা এখনও পরিলক্ষিত হয়। এ প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতার এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার হতে হবে- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অটুট রাখব, ইতিহাসের সত্যকে রক্ষা করব এবং নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাব। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের দায়িত্ব আরও বেশি। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসরদের যেকোনো অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি যাতে আর কখনো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকা অপরিহার্য।
সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান- মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও তাদের রাজনৈতিক-সামাজিক পুনর্বাসনের সব পথ রুদ্ধ করুন। নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে শিক্ষাব্যবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে আরও শক্তভাবে অন্তর্ভুক্ত করুন।
স্বাধীনতা অর্জন যত কঠিন, তা রক্ষা করা ততই কঠিন। তাই আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে নতুন করে শপথ গ্রহণ করি। মহান স্বাধীনতা দিবসে এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার- স্বাধীনতার চেতনায় অটল থাকব, সত্য ও ন্যায়ের পথে এগিয়ে যাব, এবং যে কোনো মূল্যে রক্ষা করব আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়