সুনামগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬ , ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারি বৃষ্টিতে নড়বড়ে বাঁধ, শঙ্কায় কৃষক আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস সুনামগঞ্জ সদরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সেবায় কাজ করতে চান মো. আবুল হায়াত শান্তিগঞ্জ থেকে শিমুলবাগান যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ‎জামালগঞ্জে পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ ‎পাগনার হাওরে বাঁধ কাটা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১১ জামালগঞ্জে মহিষ চুরির সন্দেহে আটক দুই ও মাংস জব্দ নিখোঁজের পর ধানক্ষেতে মিলল ৭ বছরের শিশুর লাশ, দোয়ারাবাজারে তোলপাড় ‎জামালগঞ্জে টানা বৃষ্টিতে হাওরে জলাবদ্ধতা, ব্যাপক ফসলহানি হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতা আজাদ মিয়া হত্যার দ্রুত ন্যায়বিচার চাই পণাতীর্থে লাখ লাখ পুণ্যার্থীর ঢল শাল্লায় ‘সমন্বয়কের পিআইসি’ : ফসলহানির ঝুঁকির সঙ্গে মানুষের দুর্ভোগ সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি বাঁধের কাজ, শঙ্কায় কৃষক জনগণের উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকই থাকছে নদী ও খাল দখলকারীরা সাবধান হয়ে যান : কৃষিমন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের দায়িত্ব নিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী পণতীর্থে মহাবারুণী স্নান আজ দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করা হবে সড়কের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ
এক সপ্তাহের মধ্যে মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের সংশোধনের আল্টিমেটাম

মাদক প্রতিরোধে একাট্টা মোহনপুর গ্রামবাসী

  • আপলোড সময় : ২৬-০৩-২০২৬ ০৯:১৩:৫৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৬-০৩-২০২৬ ০১:৪৭:০০ অপরাহ্ন
মাদক প্রতিরোধে একাট্টা মোহনপুর গ্রামবাসী
স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর গ্রামে মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের উৎপাত বৃদ্ধি, সাধারণ মানুষদের উপর নির্যাতন, পুলিশ দিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শনসহ নানা ঘটনার অভিযোগে মাদকপ্রতিরোধে বিশেষ সভা করেছেন গ্রামের সর্বস্তরের জনতা। চিহ্নিত মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণসহ প্রতিবাদী মানুষকে হয়রানি বন্ধে সদর থানা পুলিশের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে চিহ্নিত মাদক কারবারি ও মাদকসেবীরা সংশোধিত না হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্থ হবেন বলে ঘোষণা দেন। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কঠোর ঘোষণা দিলে কয়েকজন মাদক কারবারি এসে এলাকার অনেক মাদক কারবারিদের নাম ও ঠিকানাসহ তাদের মাদক ব্যবসার তথ্য সবার সামনে প্রকাশ করেন। গত সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের পুরনো লঞ্চঘাটে মাদকপ্রতিরোধে এই বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনা আইন অনুসারে ইউপি সদস্য নূরুল আমিনকে সভাপতি ও মোহনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিমকে সাধারণ সম্পাদক করে মোহনপুর ওয়ার্ড মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, ছাত্র, সরকারি চাকুরিজীবী, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষজন অংশ নেন। গ্রামের প্রবীণ মুরুব্বী ও শিক্ষাবিদক মাওলানা ফজলুল হকের সভাপতিত্বে ও কাজি শামসুল হুদা সোয়েলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মাদকপ্রতিরোধী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মঈনুল হক। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাংবাদিক শামস শামীম, সাবেক ইউপি সদস্য ও শালিসি ব্যক্তিত্ব আজিজুর রহমান, বর্তমান ইউপি সদস্য নূরুল আমিন, উদ্যোক্তা জাহাঙ্গীর আলম, মোহনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম, জয়নগর বাজার কমিটির সভাপতি মাহমুদ আলী, নাছির উদ্দিন, জমির আলী, মোহাম্মদ আলী, হেলাল আহমদ জুয়েল, সাফিজ, আশরাফুল প্রমুখ। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক অ্যাকশনের খবর পেয়ে কয়েকজন তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী এসে সংশোধিত হওয়ার প্রস্তাব দেয় এবং এলাকার অন্যান্য মাদক কারবারিদের তথ্য উন্মোচন করে। এসময় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা লোকজন মাদক কারবারি কর্তৃক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে তাদের হয়রানির বিষয়টি সভায় প্রকাশ্যে উল্লেখ করেন। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কথা বললেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় অসৎ সদস্যদের দিয়ে তাদেরকে হয়রানি করা হয় বলে ভুক্তভোগী আখলাকুর রহমান, আশরাফুল আলম, শারীরিক প্রতিবন্ধী মানিক মিয়া, জমির আলীসহ একাধিক ভুক্তভোগী সমাবেশে প্রকাশ্যে তাদেরকে হয়রানির বিষয়টি তুলে ধরেন। এদিকে সভায় এসে পুলিশের তালিকাভুক্ত একজন মাদক কারবারি জানায়, জয়নগর বাজারে হাবিবুর রহমান নামক একজন পল্লী চিকিৎসক চিকিৎসার আড়ালে মাদকের ব্যবসা করছেন। সুনামগঞ্জ সীমান্তের মাদক স্পট নারায়ণতলার বাসিন্দা এই চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে মাদকের কারবার করছেন এবং তরুণদের মাদকের কারবারে উদ্বুদ্ধ করছেন বলে ওই মাদক কারবারি মাদক প্রতিরোধ সভায় প্রকাশ্যে উল্লেখ করেন। তার এই বক্তব্য তখন উপস্থিত সাংবাদিকসহ অনেকে রেকর্ড করে রাখেন। তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে জয়নগরবাজার কমিটিকে আহ্বান জানান সমাবেশে উপস্থিত জনতা। ভুক্তভোগী শারীরিক প্রতিবন্ধী মানিক মিয়া বলেন, আমি বিকাশের ব্যবসা করি। ওরা প্রায়ই আমার কাছে এসে বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার টাকা পাঠায়। কয়েকবার আমার কাছে এসে বিকাশের স্ট্যাটমেন্ট চাইলে তা ডিলিট হয়ে গেছে বলায় আমাকে ডিবি পুলিশের ভয় দেখিয়েছিল। ডিবি পুলিশ এসে বাজারে আমার সঙ্গে কথাও বলেছিল। ভুক্তভোগী আখলাকুর রহমান বলেন, আমি উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ দিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় ব্যক্তিকে অবগত করলে তারা মাদক কারবারিদের আমার কথা বলে দেন। কয়েকদিন পরে আমার বাড়িতে এসেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তল্লাশি করে। এভাবে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় তাদেরকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর হুমকিও দেয়া হয় বলে একাধিক ভুক্তভোগী জানান। এদিকে মাদকপ্রতিরোধ সভা শেষে সাংবাদিকরা অভিযুক্ত চিকিৎসকের কার্যালয়ে গিয়ে দেখতে পান মাদকপ্রতিরোধী সমাবেশে এলাকার চিহ্নিত প্রধান মাদক কারবারি রেজাউলসহ কয়েকজন মাদক কারবারি ওই পল্লী চিকিৎসকের সঙ্গে বসে গল্প করছেন। মাদকপ্রতিরোধী সমাবেশের প্রধান অতিথি ইউপি চেয়ারম্যান মঈনুল হক বলেন, মোহনপুর গ্রামবাসী ও সালিশকারীরা প্রমাণ করেছেন তারা সামাজিক শৃঙ্খলা, শান্তি, সম্প্রীতির পক্ষে ও বিশৃঙ্খলা ও মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার। আজ সর্বসম্মতভাবে আমরা ওয়ার্ডের মাদকপ্রতিরোধ কমিটি গঠন করেছি। মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করে তাদের তালিকা করেছি। তাদেরকে সংশোধন হতে এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিয়েছি। তবে কয়েকজন তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন যে সমাজের চোখে ধুলো দিয়ে কিভাবে কিছু ব্যক্তি মাদকের ডিলার সেজে ব্যবসা করছে। বিশেষ করে জয়নগরবাজারের একজন পল্লী চিকিৎসকের বিষয়টি সভায় প্রকাশ্যে এনেছেন আরেকজন মাদক ব্যবসায়ী। আমরা ওই পল্লী চিকিৎসকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিবো। পাশাপাশি মাদকপ্রতিরোধ কমিটিকেও এ বিষয়ে সজাগ থেকে আমাদেরকে ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানিয়েছি। তিনি আরো বলেন, সভায় একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন তারা মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় মাদক কারবারিরা তাদেরকে নানাভাবে হয়রানি করেছেন। আমরা এ বিষয়টিও প্রশাসনকে অবগত করবো। মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলে কেই হয়রানি শিকার হলে গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের মোকাবেলা করবেন বলে ঘোষণা দেন তিনি। সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি রতন শেখ বলেন, ব্যস্ততার জন্য আমি যেতে পারিনি। তবে মাদকবিরোধী এই কর্মসূচির খবর সাংবাদিকদের মাধ্যমে অবগত হয়েছি। এটি শুনে ভালো লেগেছে। আমার আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ যদি মাদক কারবারিদের পক্ষ নিয়ে নিরীহ মানুষদের হয়রানি করে আর প্রমাণ মিলে তাদের বিরুদ্ধেও আমরা ব্যবস্থা নেব। মাদক প্রতিরোধে মোহনপুর গ্রামবাসীকে আমরা সব ধরনের সহায়তা করবো। সুনামগঞ্জ-৪ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল বলেন, মোহনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি আমাকে বিষয়টি অবগত করেছেন। মাদকের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের এই জাগরণ আমাদের আশাবাদী করে। আমার নির্বাচনী ইশতেহারেও মাদক প্রতিরোধের কথা ছিল। আমি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকেও এই বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানাই।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স