সুনামগঞ্জ , শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬ , ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাঁধে অনিয়মে জড়িতদের ছাড় নয় পাউবো, ইউএনও ও পিআইসিদের জবাবদিহির নির্দেশ মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত বিনম্র শ্রদ্ধায় বীর শহীদদের স্মরণ পর্যটক পেটানো সেই বাচ্চু মেম্বার গ্রেপ্তার প্রায় ২৫ কোটি টাকার গাছ মাত্র ১ কোটিতে বিক্রি! ৫০ টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব : জগন্নাথপুরে কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, আটক ১ ৩ বসতবাড়ি,গবাদিপশু ও নগদ টাকাসহ পুড়ে ২০ লক্ষ টাকার ক্ষতি ভারি বৃষ্টিতে নড়বড়ে বাঁধ, শঙ্কায় কৃষক আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস সুনামগঞ্জ সদরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সেবায় কাজ করতে চান মো. আবুল হায়াত শান্তিগঞ্জ থেকে শিমুলবাগান যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ‎জামালগঞ্জে পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ ‎পাগনার হাওরে বাঁধ কাটা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১১ জামালগঞ্জে মহিষ চুরির সন্দেহে আটক দুই ও মাংস জব্দ নিখোঁজের পর ধানক্ষেতে মিলল ৭ বছরের শিশুর লাশ, দোয়ারাবাজারে তোলপাড় ‎জামালগঞ্জে টানা বৃষ্টিতে হাওরে জলাবদ্ধতা, ব্যাপক ফসলহানি হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতা আজাদ মিয়া হত্যার দ্রুত ন্যায়বিচার চাই পণাতীর্থে লাখ লাখ পুণ্যার্থীর ঢল শাল্লায় ‘সমন্বয়কের পিআইসি’ : ফসলহানির ঝুঁকির সঙ্গে মানুষের দুর্ভোগ সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি বাঁধের কাজ, শঙ্কায় কৃষক জনগণের উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী

স্মৃতিসৌধে জামায়াত, দায় স্বীকারের অংশ?

  • আপলোড সময় : ২৮-০৩-২০২৬ ০৯:২৫:০৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৮-০৩-২০২৬ ০৯:২৫:০৬ পূর্বাহ্ন
স্মৃতিসৌধে জামায়াত, দায় স্বীকারের অংশ?
সুনামকণ্ঠ ডেস্ক :: দ্বিতীয়বারের মতো সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে শীর্ষ নেতাদের নিয়ে সেখানে যান দলটির আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তারা শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদদের জন্য দোয়া করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জামায়াত আমির বলেন, রাষ্ট্রীয় আচারের অংশ হিসেবে তারা জাতীয় স্মৃতি সৌধে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এর আগে ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে স্মৃতিসৌধে যান দলটির তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা না চাইলেও স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে আলোচনা সভা এবং শোভাযাত্রার আয়োজন করে আসছে জামায়াত। তবে ২০০১ সালের পর দীর্ঘ দিন স্মৃতিসৌধে যাননি তারা। বরং এ নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে দলীয় হাইকমান্ড বিভিন্ন ধরনের গোজামিলের আশ্রয় নেয়। কখনও তারা ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির দোহাই দেন। আবার কখনও স্বাধীনতার প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আর আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়া নিয়েও সুনির্দিষ্ট কিছু বলছেন না। একাত্তর নিয়ে তাদের তেমন অনুতপ্তও নেই। মাঝে প্রায় ২৫ বছর না গেলেও এবার তাদের স্মৃতিসৌধে যাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা হচ্ছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, জামায়াত নেতাদের স্মৃতিসৌধে যাওয়া কি দায় স্বীকারের অংশ? অবশ্য বিষয়টি নিয়ে জামায়াত বলছে, তারা পেছনে ফিরে যেতে চায় না। ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়া তাদের লক্ষ্য। অপরদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এটা জামায়াতের কৌশলের অংশ। এ বিষয়ে লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, যেভাবেই হোক জামায়াত একাত্তর থেকে বের হয়ে আসতে চায়। এটি তারই একটি অংশ। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন থেকেই তারা মূলধারায় ফিরে আসার চেষ্টা করছে। ঘোষণা দিয়ে হয়তো ক্ষমা চাইবে না। তাদেরকে এভাবেই এগোতে হবে। তিনি বলেন, আমি মনে করি, এক ধরনের কৌশল নিয়েই তারা সামনে আসতে চাইবে। একাত্তর প্রশ্নে বিচারের মুখোমুখি হন যেসব শীর্ষ নেতা : বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় বিচারের মুখোমুখি হন জামায়াতের শীর্ষ নেতারা। এতে কারও মৃত্যুদ- ও কেউ কেউ সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারেই মারা যান। এর মধ্যে মৃত্যুদ- কার্যকর হয় সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর। আর সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারেই মারা যান সাবেক আমির গোলাম আযম, সাবেক নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, আবুল কালাম মুহাম্মদ ইউসুফ, আব্দুস সোবহান ও মাওলানা আব্দুল খালেক মন্ডল। অপরদিকে একই মামলায় মৃত্যুদ- হলেও সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে প্রায় ১৭ বছর পর আদালত থেকে খালাস পেয়ে কারামুক্ত হন আরেক শীর্ষ নেতা এটি এম আজহারুল ইসলাম। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে রংপুর-২ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন তিনি। একাত্তরের দায় সম্পর্কে কী বলতে চায় জামায়াতের বর্তমান নেতৃত্ব? : দেশের সবচেয়ে বড় ধর্মভিত্তিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি বিরোধিতা করার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি কখনও অস্বীকার করেননি দলটির নেতারা। তবে এর দায় নিতে চাননি তারা। তারা কখনও বলেন, এই প্রজন্মের নেতারা মুক্তিযুদ্ধের সময় ছোট ছিলেন। অনেকে একাত্তরের পরে জন্ম নিয়েছেন। তাই তাদেরকে স্বাধীনতাবিরোধী বলা যাবে না। যদিও সেই প্রবীণ নেতাদেরই তারা আদর্শ হিসেবে মানছেন। তাদের দৃষ্টিতে দ-প্রাপ্ত ও ফাঁসি কার্যকর হওয়া নেতারা নিরপরাধ। বিভিন্ন বক্তব্য-বিবৃতিতে তাদেরকে ‘শহীদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন নেতাকর্মীরা। কিন্তু দেশের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা তাদের এই অবস্থান নিয়ে নানা সময় প্রশ্ন তুলছেন। আর জামায়াত নেতারা বরাবরই এসব প্রশ্ন এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করেন। অথবা মুক্তিযুদ্ধকে ভারতের ষড়যন্ত্র হিসেবে উপস্থাপন করে থাকেন। এতো কিছুর পরও এবার স্মৃতিসৌধে গিয়ে দলটির শীর্ষ নেতারা খোলাসা করে কিছু বলেননি। জানতে চাইলে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘বিরোধী দলীয় নেতা ও দলীয় প্রধান হিসেবেই স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন রেছেন আমিরে জামায়াত। একাত্তরের পুরোনো দায় থেকে তারা সেখানে গিয়েছেন কিনা, প্রশ্নে তিনি বলেন, তারা স্বাধীনতা দিবসকে লালন করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করেন। তাই আর তারা পেছনে ফিরে যেতে চান না। সবাইকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চান ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা করছেন। রাজনীতিবিদদের মূল্যায়ন : জাতীয় স্মৃতিসৌধে জামায়াত নেতাদের শ্রদ্ধা নিবেদনের বিষয়টিকে দুভাবে দেখছেন রাজনীতিবিদরা। কেউ বলছেন, জামায়াত নেতারা বিভিন্ন সময়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। আবার কেউবা বলছেন, তারা এখনও মুক্তিযুদ্ধকে মেনে নেয়নি ও শহীদদের শহীদ বলে মনে করে না। তাই তাদের শ্রদ্ধা জানানো নিয়ে কিছু যায় আসে না। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেই মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার ও শহীদদের সম্মান জানিয়ে রাজনীতি করতে হবে। তাই জামায়াত হয়তো সেই উপলব্ধি থেকে স্মৃতিসৌধে গিয়েছে। তাদের নেতারা বিভিন্ন সময়ে বক্তব্যে একাত্তর নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তারপরও আমি মনে করি, আনুষ্ঠানিকভাবেও তাদের ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। যারাই ভবিষ্যতে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার আকাক্সক্ষা করবেন, তাদেরই মুক্তিযুদ্ধকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ স¤পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, জামায়াত দল হিসেবে স্মৃতিসৌধে গিয়েছে বলে দলটির নেতারা নিজেরাও বলেননি। তারা রাষ্ট্রীয় আচারের অংশ ও বিরোধী দল হিসেবে সেখানে গিয়েছেন। যা তারা নিজেরাও উল্লেখ করেছেন। এতে প্রমাণ হয়- তারা এখনও মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার করে না এবং শহীদদের শহীদ হিসেবে মানে না। আমি মনে করি, তরুণদের উচিত এই অপশক্তিকে মোকাবিলা করা। অপরদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেন, জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধে সম্মান জানালেও অতীতের অবস্থান পরিষ্কার করেনি। সামনে তারা কী করতে চায়, সেটা তাদের ব্যাপার। এ নিয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না। -বাংলা ট্রিবিউন

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স