বাঁধ দুর্বল, আকাশে মেঘ, দুশ্চিন্তায় হাওরপাড়ের কৃষক
- আপলোড সময় : ০২-০৪-২০২৬ ১২:২৬:১৩ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০২-০৪-২০২৬ ১২:২৬:১৩ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আবহাওয়া পরিস্থিতি ও ফসল রক্ষা বাঁধের দুরবস্থায় চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা। আকাশে মেঘ জমলেই কষ্টে ফলানো বোরো ধান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় বুক কেঁপে ওঠে তাদের।
হাওরাঞ্চলের হাজার হাজার কৃষক একমাত্র বোরো ধানের ওপর নির্ভরশীল। বীজতলা তৈরি, চারা উৎপাদন ও রোপণ শেষে কিছুটা স্বস্তি এলেও সময়ের সঙ্গে বাড়ছে শঙ্কা। বর্তমানে ধান বেড়ে উঠছে, কোথাও কোথাও পাকা শুরু হয়েছে। এমন সময় আকাশে হঠাৎ মেঘ জমে বজ্রপাত, ঝড়-বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিলে কৃষকদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগ। দুর্বল বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকে ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দিশেহারা কৃষকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার বিস্তীর্ণ হাওরজুড়ে কৃষকদের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমে বোরো ধানের শীষ বের হতে শুরু করেছে। বাতাসে দুলছে সবুজ ধানক্ষেত। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। বিশেষ করে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানির আশঙ্কায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
হাওরপাড়ের কৃষকদের ভাষ্য, আকাশে মেঘ দেখলেই বুক কেঁপে ওঠে। বাঁধ দুর্বল থাকায় পানি ঢুকে ফসল ডুবে যাওয়ার ভয় সবসময় কাজ করে।
কৃষক জাফর মিয়া বলেন, আবহাওয়া ভালো না। গত তিন বছর ভালো গেছে, কিন্তু এবার লক্ষণ ভালো না। বাঁধের অবস্থাও খারাপ। নির্মাণে অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে কাজ সময়মতো শেষ হয়নি। এতে আমরা খুব চিন্তায় আছি।
তিনি আরও জানান, প্রতি বছর বোরো আবাদ বাড়লেও শ্রমিক সংকট বাড়ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে কৃষকদের পথে বসা ছাড়া উপায় থাকবে না।
কৃষি বিভাগ জানায়, শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় ভর্তুকির মাধ্যমে কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন বিতরণ করা হচ্ছে, যাতে স্বল্প সময় ও কম খরচে ধান কাটা-মাড়াই করা যায়। পাশাপাশি কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন জেলা কমিটির সাধারণ স¤পাদক ওবায়দুল হক বলেন, শুরু থেকেই বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও অসচ্ছতা ছিল। ফলে কাজের গতি ব্যাহত হয়েছে এবং কৃষকরা এখন বড় ঝুঁকিতে রয়েছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওমর ফারুক জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো ফলনের আশা করা যাচ্ছে।
অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ফসল রক্ষা বাঁধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আশা করছি বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হবে না এবং কৃষকরা নিরাপদে ধান ঘরে তুলতে পারবেন।
উল্লেখ্য, কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর হাওরের বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় আরও ১৫ দিন সময় বাড়ানো হলেও এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে।
চলতি বছর জেলার প্রায় অর্ধশত হাওরে ৭১০টি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৬০৩ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ চলছে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা। এ বছর জেলায় ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বোরো ধান উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ