সুনামগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬ , ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিল’ পাস শান্তিগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধ কর্তন পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, মেরামতের নির্দেশ উদ্বোধন হলো ‘মা ও শিশু হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ হাওরে দেশি ধান কাটা শুরু দোয়ারাবাজারে অভিযুক্ত শিক্ষককে কর্মস্থলে ফেরানোর চেষ্টায় শিক্ষার্থীদের বাধা বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষক নিহত উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেন সাইফুল ইসলাম নিজেদের টাকায় সরকারি সড়ক সংস্কার করলেন এলাকাবাসী ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন-২০২৬’ সংসদে পাস সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলা : আদালতে নির্দোষ দাবি আরিফ, গউস ও বাবরের নদী খনন উপেক্ষিত ইউনূস সরকারের দুর্নীতির তদন্ত করবে সরকার সুনামগঞ্জে অবৈধ ইটভাটায় দেড় লাখ টাকা জরিমানা, কার্যক্রম বন্ধ ড. ইউনূস, সাবেক উপদেষ্টা ও প্রেস সচিবের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে নোটিশ আজহারীর পর শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে দুরবস্থা লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ ঘাটতি বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, ছাতক পৌরবাসীর দুর্ভোগ চরমে নিহতদের পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি দল, আর্থিক অনুদান প্রদান

হাওরে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

  • আপলোড সময় : ০৩-০৪-২০২৬ ০২:০৪:০৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৩-০৪-২০২৬ ০২:০৬:০৪ পূর্বাহ্ন
হাওরে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিন
হাওরাঞ্চলে আবারও বোরো ধানের ওপর নেমে এসেছে অনিশ্চয়তার কালো ছায়া। মার্চের শেষ সপ্তাহেই অস্বাভাবিক ভারী বর্ষণে হাজারো হেক্টর জমির ধান জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাওয়ার খবর শুধু কৃষকের কপালেই ভাঁজ ফেলেনি, বরং আমাদের কৃষি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকেও প্রকাশ করেছে।
সরকারি হিসেবে ইতোমধ্যে ১ হাজার ১৮৯ হেক্টর বোরো জমি পানির নিচে। অথচ চলতি মৌসুমে ২ লাখ ২৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আবাদ হওয়া এই ফসল থেকেই প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের আশা ছিল। যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার ৫০ কোটি টাকা। এই বিপুল সম্ভাবনা এখন হুমকির মুখে।
সমস্যার মূল কোথায়? একদিকে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত - যা জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তব প্রতিফলন, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা। নদ-নদী, খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি ধারণ ও নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হয়েছে। ফলে সামান্য অতিবৃষ্টিতেই হাওরাঞ্চল ডুবে যাচ্ছে।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, পানি নিষ্কাশন নিয়ে কৃষকদের মধ্যেই বিভাজন তৈরি হয়েছে। উজানের কৃষকরা পানি নামাতে চাইলে ভাটির কৃষকরা বাধা দিচ্ছেন, কারণ এক পক্ষের রক্ষা অন্য পক্ষের ক্ষতি ডেকে আনছে। এই দ্বন্দ্ব কেবল একটি প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি নয়, বরং একটি সমন্বিত জলব্যবস্থাপনার অভাবকেই স্পষ্ট করে। 
ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করা হলেও বাস্তব চিত্র বলছে, কেবল মাটির কাজ শেষ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। বাঁধ টেকসই করা, খাল পুনঃখনন, পানি চলাচলের পথ নিশ্চিত করা - এসবের প্রতি দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টি না থাকলে প্রতিবছরই একই সংকট ফিরে আসবে।
এই পরিস্থিতিতে কিছু জরুরি পদক্ষেপ এখনই গ্রহণ করা প্রয়োজন। প্রথমত, হাওরাঞ্চলের নদ-নদী, খাল-বিল পুনঃখননের মাধ্যমে পানি প্রবাহের স্বাভাবিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। দ্বিতীয়ত, উজান-ভাটির সমন্বয়ে বৈজ্ঞানিক পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে, যাতে কোনো পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তৃতীয়ত, ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, আগাম আবহাওয়া পূর্বাভাসের ভিত্তিতে কৃষকদের জন্য দ্রুত সতর্কতা ও করণীয় নির্দেশনা পৌঁছে দিতে হবে।
বড় কথা, হাওরকে শুধু একটি মৌসুমি কৃষিভিত্তিক অঞ্চল হিসেবে নয়, একটি সংবেদনশীল ইকোসিস্টেম হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এখানে যে কোনো উন্নয়ন বা ব্যবস্থাপনা হতে হবে প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে।
হাওরের কৃষকরা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম স্তম্ভ। তাদের ফসল রক্ষা করা মানে দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা। তাই এখনই সময়, অস্থায়ী সমাধান নয়, টেকসই পরিকল্পনায় এগিয়ে যাওয়ার। না হলে প্রতিবছরের এই জলাবদ্ধতার দুঃস্বপ্ন আমাদের কৃষি অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে দেবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স