সিলেট বিভাগের অর্থনীতি কেন পিছিয়ে, সময়ের দাবি কাঠামোগত পরিবর্তন
- আপলোড সময় : ১১-০৪-২০২৬ ০৯:১২:২৭ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১১-০৪-২০২৬ ০৯:১২:২৭ পূর্বাহ্ন
দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে গত এক দশকে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও অঞ্চলভিত্তিক বৈষম্যের চিত্র এখনও উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রকাশিত ‘অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪’-এর চূড়ান্ত ফলাফল সেই বাস্তবতাকেই নতুন করে সামনে এনেছে। পরিসংখ্যান বলছে, অর্থনৈতিক কর্মকা- বা ইউনিট গঠনের দিক থেকে দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা অঞ্চল হলো সিলেট বিভাগ - যেখানে মোট ইউনিটের মাত্র ৪.৬৭ শতাংশ গড়ে উঠেছে। এই চিত্র শুধু একটি সংখ্যাগত দুর্বলতা নয়, বরং আঞ্চলিক উন্নয়ন কাঠামোর গভীর অসামঞ্জস্যের প্রতিফলন।
সিলেট বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল। প্রবাসী আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস এই অঞ্চল, প্রাকৃতিক স¤পদে সমৃদ্ধ, চা শিল্পের ঐতিহ্য রয়েছে, পর্যটনের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। তারপরও অর্থনৈতিক ইউনিট গঠনে এমন পিছিয়ে পড়া প্রশ্ন তোলে - কোথায় সমস্যা? কেন স্থানীয় পর্যায়ে শিল্পায়ন ও উদ্যোক্তা বিকাশ কাক্সিক্ষত মাত্রায় এগোচ্ছে না?
প্রথমত, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের ঘাটতি সিলেটের অর্থনীতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, শিল্পাঞ্চল বা অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে ওঠার ধীরগতি এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার অভাব উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করছে। দ্বিতীয়ত, দক্ষ মানবস¤পদের অভাব একটি বড় চ্যালেঞ্জ। উচ্চশিক্ষিত জনশক্তি থাকা সত্ত্বেও দক্ষতা উন্নয়ন ও শিল্পমুখী প্রশিক্ষণের ঘাটতি রয়েছে। তৃতীয়ত, প্রবাসী আয়ের ওপর অতিনির্ভরতা স্থানীয় উৎপাদনমুখী বিনিয়োগকে অনেকাংশে বাধাগ্রস্ত করছে - যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনীতির জন্য অনুকূল নয়।
এছাড়া, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় সিলেটে শিল্প বহুমুখীকরণ হয়নি। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাত যথেষ্ট প্রসার লাভ করেনি। কৃষি ও পর্যটনের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এসব খাতকে কেন্দ্র করে শিল্পভিত্তিক অর্থনৈতিক ইউনিট গড়ে ওঠেনি প্রত্যাশিত হারে। ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিও সীমিত রয়েছে। এই বাস্তবতায় প্রয়োজন সুস্পষ্ট ও অঞ্চলভিত্তিক নীতিগত হস্তক্ষেপ। সিলেটকে এগিয়ে নিতে হলে প্রথমেই অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশেষ করে যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও শিল্প সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। প্রবাসী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য বিশেষ প্রণোদনা ও সহজ নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। একই সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি জোরদার করে স্থানীয় যুবসমাজকে উৎপাদনমুখী খাতে যুক্ত করতে হবে। পর্যটন, চা শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং আইটি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা যেতে পারে। এতে একদিকে যেমন বিনিয়োগ বাড়বে, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খুলবে। পাশাপাশি ব্যাংক ঋণপ্রাপ্তি সহজ করা, উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
আমরা মনে করি, সিলেটের পিছিয়ে পড়া কেবল একটি অঞ্চলের সমস্যা নয়; এটি জাতীয় অর্থনৈতিক ভারসাম্যের জন্যও হুমকি। টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে আঞ্চলিক বৈষম্য কমানো অপরিহার্য। তাই এখনই সময় সিলেট বিভাগকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়ার - নইলে এই সম্ভাবনাময় অঞ্চল আরও পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়