স্টাফ রিপোর্টার::
দিগন্তজোড়া হাওর এখন সোনালি রঙে মোড়া। খেতের পর খেত জুড়ে পেকে ওঠা বোরো ধানের শিষ হাওরের মৃদু বাতাসে দুলছে অপরূপ ছন্দে। কোথাও চলছে ধান কাটার ব্যস্ততা, কোথাও আবার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি - সব মিলিয়ে হাওরজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। কৃষকের মুখে হাসি, চোখে স্বপ্ন। ভালো ফলনের আশায় বুক বাঁধছেন তারা। কৃষকরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে বিচ্ছিন্নভাবে ধান কাটা শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোদমে শুরু হবে এই মহোৎসব। প্রকৃতি সহায় থাকলে এবারও বা¤পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওর এলাকায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৫ হেক্টর এবং নন-হাওর এলাকায় ৫৮ হাজার ২৩৬ হেক্টর জমি রয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, সব ধান ঘরে তুলতে পারলে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার ফসল উৎপন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে মৌসুমের শুরুতেই কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। গত মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে শিলা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় জেলার ৩ হাজার ৩১০ হেক্টরের বেশি জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদিও কৃষকদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে আরও বেশি। তবুও শেষ পর্যন্ত প্রকৃতি অনুকূলে থাকায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন তারা। শাল্লা উপজেলার মনুয়া গ্রামের কৃষক নূর উদ্দিন জানান, হাইব্রিড ও উন্নত জাতের ধান প্রতি ত্রিশ শতাংশ জমিতে ২০-২৫ মণ পর্যন্ত ফলন দিচ্ছে। আর দেশি আগাম জাতের ধান ১০-১২ মণ হচ্ছে। যদি আবহাওয়া ভালো থাকে, তাহলে ক্ষতির পরও মোট ফলন সন্তোষজনক হবে। কৃষকদের আরেকটি বড় দুশ্চিন্তা শ্রমিক সংকট ও যান্ত্রিক সহায়তার অভাব। ধান কাটার মৌসুম ঘনিয়ে আসায় অনেক এলাকায় শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে হারভেস্টার যন্ত্রের চাহিদাও বেড়েছে কয়েকগুণ। জেলার জগন্নাথপুর, শাল্লা, জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা উপজেলার বিভিন্ন হাওরে আগাম ধান কাটা শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই কৃষকেরা কিছু না কিছু জমির ধান কেটে ঘরে তুলছেন। সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওমর ফারুক জানান, বিভিন্ন হাওরে দেশি ও হাইব্রিড জাতের ধান বিচ্ছিন্নভাবে কাটা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও বা¤পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকৃতির অনুক¤পা আর কৃষকের শ্রমে ভর করে হাওরের এই সোনালি স্বপ্ন এখন বাস্তবতার দোরগোড়ায়। সবকিছু ঠিক থাকলে কৃষকের ঘরে উঠবে ফসল - আর সুনামগঞ্জের অর্থনীতিতে যোগ হবে নতুন গতি - এমনটাই প্রত্যাশা করছেন হাওরবাসী।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
হাওরজুড়ে সোনা ধান
সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার ফসল উৎপন্নের আশা
- আপলোড সময় : ১৪-০৪-২০২৬ ১০:৩৬:৩৮ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৪-০৪-২০২৬ ১০:৩৭:১৫ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ