সুনামগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ , ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হল শারদীয় দুর্গোৎসব ৩০ অক্টোবর শুরু হচ্ছে হাজীপাড়া ফুটবল প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় আসর, ২৩ অক্টোবর প্লেয়ার নিলাম সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পূজা করবে আর আনন্দটা সবার, বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মসিউর রহমান সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদে শাস্তির দাবি তাহিরপুরে মানববন্ধন মধ্যনগরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে ইনামুল গণি তালুকদার রুবেল সুনামগঞ্জে দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা সন্তোষজনক: সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি সাংবাদিক আলিফ হত্যা ও মোত্তালিব ভূঁইয়ার ওপর হামলার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন দিরাইয়ে মাদকবিরোধী সভার পর প্রবাসী লিমনের ওপর হামলার অভিযোগ ‎সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ি : প্রধানমন্ত্রী ‎সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে আমাদের কোনো দ্বিধা নেই : আইনমন্ত্রী শান্তিগঞ্জে ১৬২ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত ‎মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক দুর্গাপূজা উপলক্ষে পশ্চিম নতুনপাড়ায় ৮৮ প্রবীণকে সম্মাননা দিরাইয়ে মোটরবাইক দুর্ঘটনায় আহত ২ সাংবাদিক আলিফ হত্যার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন, খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি সুনামগঞ্জে দুই যুব সংগঠন পেল ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা অনুদান দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ : রাষ্ট্রপতি দুর্গাপূজার শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, মাঠে তৎপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

তোপের মুখে হাসনাত আবদুল্লাহ

  • আপলোড সময় : ১৬-০৪-২০২৬ ১২:০২:৪৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৬-০৪-২০২৬ ১২:০২:৪৪ পূর্বাহ্ন
তোপের মুখে হাসনাত আবদুল্লাহ
সুনামকণ্ঠ ডেস্ক :: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়ে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দেওয়া কয়েকজনের তোপের মুখে পড়েন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে নগরের কাট্টলি এলাকায় মনজুর আলমের বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন তিনি। খবর পেয়ে মনজুর আলমের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন একদল লোক, যারা নিজেদের জুলাই যোদ্ধা বলে পরিচয় দেন। তারা বেশ কিছুক্ষণ হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে রাখেন এবং বিভিন্ন প্রশ্ন করেছেন। এ সময় তাদের শান্ত করেন হাসনাত। প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানিয়েছেন, সাক্ষাৎ শেষে হাসনাত আবদুল্লাহ ওই বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাকে নানা প্রশ্ন করেন জুলাই যোদ্ধা পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ ঘটনার একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, মনজুর আলমের বাসার সামনে হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে কয়েকজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছেন। এ সময় একজন হাসনাত আবদুল্লাহকে প্রশ্ন করেন, আপনি আওয়ামী লীগের দোসরের বাসায় কাজ কী? আপনি একজন জুলাই যোদ্ধা। সংসদে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার কথা বলছেন। তাহলে আওয়ামী লীগের দোসরের বাসায় কেন? আরেকজন জানতে চান, কেন আপনি স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করতে এসেছেন, পরীক্ষিত দোসরের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্য কী এবং আওয়ামী লীগের একজন নেতার বাসায় উপস্থিতির কারণ কী। একইসঙ্গে তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় হাসনাতকে হাত নাড়িয়ে তাদের শান্ত করতে দেখা যায়। পরে একজন এসে বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের সরে যেতে বলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুপুরের দিকে দুটি গাড়ি নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ সাবেক মেয়রের বাড়িতে পৌঁছান। তার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়ে হঠাৎ করে সেখানে জড়ো হন কিছু লোকজন। একপর্যায়ে তারা বাড়ির মূল ফটক ঘিরে বিক্ষোভ করে হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে রাখেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে হাসনাত আবদুল্লাহ বাইরে এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথা বলেন। এরপর পুলিশের উপস্থিতিতে গাড়িতে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. সাইফুল আলম বলেন, একজন জুলাই যোদ্ধা হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি কী কারণে সাবেক আওয়ামী লীগের মেয়র মনজুর আলমের বাসায় গেছেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমি সারাদিন পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে ব্যস্ত ছিলাম। তবে হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে সেখানে কী হয়েছে, তা খবর নিয়ে আমাকে জানতে হবে। তবে বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়ে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের সমন্বয়কারী সদস্য ও মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়কারী রিদুয়ান হৃদয় সাংবাদিকদের বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ মূলত ব্যক্তিগত কাজে চট্টগ্রামে এসেছিলেন। এ সময় সাবেক মেয়র মনজুর আলমের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। এর বেশি কিছুই নয়। আগামীর রাজনীতি হবে এমন সৌহার্দপূর্ণ। সাবেক মেয়র মনজুর আলম বলেন, সংসদ সদস্য এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ চট্টগ্রামে এসেছিলেন। পরে তিনি আমার বাসায় আসেন। বাসায় তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। এর বেশি কিছু নয়। এনসিপির প্রার্থী হয়ে আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে মনজুর আলম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে। এর মধ্যে তার বাসায় হাসনাত আব্দুল্লাহর যাওয়া নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে মনজুর আলম বলেন, রাজনৈতিক কোনও বিষয়েই আমাদের মধ্যে আলাপ হয়নি। এর মধ্যে রাত ৮টায় এনসিপির পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে তারা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনস¤পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন। বৈঠকে উভয় নেতাই আগামী দিনে পার¯পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মনজুর আলম ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিএনপির সমর্থন নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় আসেন। ‘রাজনৈতিক গুরু’ হিসেবে পরিচিত সাবেক মেয়র প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে পরাজিত করে চমক সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। মেয়র হওয়ার পর বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাও হয়েছিলেন। ২০১৫ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশনের নির্বাচনেও বিএনপির সমর্থনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। একপর্যায়ে নির্বাচনের দিন সকালে কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। এরপর থেকে বিএনপির রাজনৈতিক কার্যক্রমে তাকে দেখা যায়নি। এর মধ্যে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের একটি আসনে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন মনজুর আলম। ওই বছর আর নির্বাচন করেননি। ২০২০ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কেনেন মনজুর আলম। তবে সেবারও তাকে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। বিএনপির রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার পর দুই দফায় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইলেও দলটির কোনও পদে ছিলেন না মনজুর আলম।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হল শারদীয় দুর্গোৎসব

বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হল শারদীয় দুর্গোৎসব