সুনামগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ , ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা আমদানি করা হয়নি : প্রধানমন্ত্রী বিশ্বম্ভরপুরে মোটরসাইকেল চালকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার সিলেটের নতুন বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান শহরে অর্ধ কোটি টাকার স্বর্ণ ও ডলার চুরির ঘটনায় গ্রেফতার ৫ এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২ জুলাই, সূচি প্রকাশ ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ নিয়ে ক্ষোভ দোয়ারাবাজারে যুবকের ওপর হামলা প্রতিবন্ধী কৃষকের জমির ধান কেটে নেওয়া ও হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন অপ্রয়োজনীয় স্থানে বজ্র নিরোধক দন্ড স্থাপন, কাজে আসেনি তালগাছ প্রকল্পও আগাম বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা : হাওরের পাকা ধান দ্রুত কর্তনের অনুরোধ বোরো চাষে বাড়তি খরচ, ধানের ন্যায্য দাম নিয়ে শঙ্কায় কৃষক ডিজেল সংকটে বেড়েছে হারভেস্টারের ভাড়া, বিপাকে হাওরাঞ্চলের কৃষক এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি : ব্যবসায়ীকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা দেশের অস্তিত্বেই তারা বিশ্বাস করে না, তাদের কি বিশ্বাস করা যায় : প্রধানমন্ত্রী হাওরজুড়ে বজ্রপাত আতঙ্ক দোয়ারাবাজারে বিদ্যুতের ভেল্কিবাজিতে অতিষ্ঠ মানুষ হাওর থেকে ধান আনতেই নাভিশ্বাস এসআই সুপ্রাংশু দে’র মৃত্যুতে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি’র শোক শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের নবনির্মিত মন্দির উদ্বোধন

হাওরজুড়ে বজ্রপাত আতঙ্ক

  • আপলোড সময় : ২১-০৪-২০২৬ ০৯:০৯:১৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২১-০৪-২০২৬ ০৯:০৯:১৯ পূর্বাহ্ন
হাওরজুড়ে বজ্রপাত আতঙ্ক
স্টাফ রিপোর্টার :: বোরো ধান কাটার মৌসুমে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে এখন শুধু ফসল ঘরে তোলার ব্যস্ততা নয়, সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বজ্রপাতে মৃত্যুভয়। আকাশে মেঘ জমলেই বুক কেঁপে ওঠে কৃষক-শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের। হাওরে ধান কাটা, খলায় ধান মাড়াই ও শুকানোর সময় বজ্রপাতের আশঙ্কায় আতঙ্ক বিরাজ করছে পুরো হাওরজুড়ে। বিশ্বম্ভরপুরসহ জেলার বিভিন্ন হাওরাঞ্চলে কৃষকরা জানান, বৈশাখের আগেই বজ্রপাত শুরু হওয়ায় এবারও প্রাণহানির শঙ্কা বাড়ছে। প্রতি বছরই ধান কাটার মৌসুমে বজ্রপাতে কৃষক-শ্রমিক নিহত হলেও কার্যকর প্রতিরোধে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। খরচার হাওরের কৃষক আরিফ আহমেদ বলেন, আকাশে মেঘ দেখলেই ধান ত্রিপাল দিয়ে ঢেকে খলা ছেড়ে চলে যাই। শ্রমিকরাও কাজ বন্ধ করে দেয়। বজ্রপাতের ভয় এখন আমাদের নিত্যসঙ্গী। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) জেলার জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও দিরাই উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় একদিনেই ৫ জন নিহত, ৭ জন আহত এবং ৫টি গৃহপালিত পশু মারা গেছে। এতে হাওরাঞ্চলে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ধর্মপাশার টগার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন কলেজ ছাত্র হাবিবুর রহমান (২২)। একই দিনে বজ্রপাতে প্রাণ হারান রহমত উল্লাহ (১৪) ও জামালগঞ্জের নুর জামাল (৩০)। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। আঙ্গারউলি হাওরের কৃষক রফিক মিয়া বলেন, আগে বজ্রপাত ছিল, কিন্তু এভাবে মৃত্যুর খবর শুনতাম না। গত কয়েক বছরে বজ্রপাতে মৃত্যু অনেক বেড়েছে। এখন ধানের আনন্দের সঙ্গে আতঙ্কও থাকে। সুনামগঞ্জ জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে ১১ জন, ২০২১ সালে ১১ জন, ২০২২ সালে ২৪ জন, ২০২৩ সালে ২৯ জন, ২০২৪ সালে ১১ জন, ২০২৫ সালে ১৫ জন এবং চলতি বছর ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত ৭ জন বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন। বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি স্থানীয়দের। সচেতন মহলের দাবি, গত ১০ বছরে হাওরাঞ্চলে দুই শতাধিক কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ বজ্রপাতে মারা গেছেন। নিহতদের পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা অপ্রতুল বলেও অভিযোগ রয়েছে। হাওর নিয়ে কাজ করা সংগঠনের নেতারা বলছেন, দেশের অন্যতম বজ্রপাতপ্রবণ এলাকা হওয়ায় সুনামগঞ্জে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর টেকসই বজ্রপাত প্রতিরোধ ব্যবস্থা জরুরি। শুধু সচেতনতা নয়, কার্যকর প্রতিরোধমূলক অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকার ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে দুর্যোগ ঘোষণা করে। এর অংশ হিসেবে ২০২৪ সালে সুনামগঞ্জের ৬ উপজেলায় ১৮টি লাইটনিং অ্যারেস্টার স্থাপনে ব্যয় করা হয়েছে ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় রয়েছে ৩টি মেশিন। তবে এসবের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। সুনামগঞ্জ জেলা দুর্যোগ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসিবুল হাসান বলেন, ১৮টি বজ্র নিরোধক মেশিন স্থাপন করা হয়েছে, তবে কার্যকারিতা নিয়ে মূল্যায়ন প্রয়োজন। পাশাপাশি সচেতনতা কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন খান বলেন, বৃষ্টি-ঝড় শুরু হলে কৃষক-শ্রমিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হচ্ছে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স