স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চলতি বোরো মৌসুমে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে ফসলের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দ্রুত ধান কর্তনের বিষয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সুনামগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। উল্লেখ্য, সুনামগঞ্জের হাওরের ফসল রক্ষায় এবার ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭১০টি প্রকল্পে ৬০২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছে। সভায় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এবারের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। গত বছর বন্যা না হওয়ায় অধিকাংশ বাঁধ অক্ষত থাকা সত্ত্বেও এসব বাঁধে দ্বিগুণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নির্মাণকাজে যথাযথ নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়নি এবং ফসল সুরক্ষায় কার্যকর পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়নি। এর ফলে হাওর এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ইতোমধ্যে ফসলের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। দেখার হাওরের উথারিয়া বাঁধ প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে বাঁধ কেটে তিন দিনের মধ্যে তা পুনরায় বন্ধ করার সিদ্ধান্ত থাকলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। এতে নদীর পানি হাওরে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাকা ধান কাটতে শ্রমিক সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে বক্তারা বলেন, পিআইসি গ্রহণকারীরা দ্বিগুণ বরাদ্দ পাওয়ায় তাদেরই শ্রমিকদের উপযুক্ত পারিশ্রমিক দিয়ে ধান কাটার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি হারভেস্টার মেশিনের সংকট দূর করার দাবি জানানো হয়। বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, চালু থাকা হারভেস্টার মেশিনগুলো তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সংকটের অজুহাতে তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায় করছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যে অসঙ্গতির বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। সভায় বক্তব্য দেন জেলা বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মল্লিক মইনুদ্দীন সোহেল, আকবর আলী, অ্যাডভোকেট শেরেনূর আলী, অ্যাডভোকেট আব্দুল হক, অ্যাডভোকেট মাসুক আলম, মুনাজ্জির হোসেন সুজন, রেজাউল হক, সেলিম আহমদ, জুনেদ আহমদ, জেলা হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি ইয়াকুব বখত বাহলুল, দৈনিক সুনামগঞ্জের ডাক স¤পাদক ও প্রকাশক শেরগুল আহমেদ, সুনামগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি লতিফুর রহমান রাজু, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর স¤পাদক পংকজ দে, সাংবাদিক রাজু রমজান, দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী ও শহীদ নুর আহমদ। সভায় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, এ পর্যন্ত ১৮ শতাংশ ধান কর্তন স¤পন্ন হয়েছে এবং হাওরাঞ্চলে শ্রমিক সংকট রয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক অসীম চন্দ্র বণিক বলেন, একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে মানবসৃষ্ট সমস্যাও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। তিনি ফসল রক্ষা বাঁধ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে সবাইকে সম্মিলিতভাবে শ্রমিক সংগ্রহ করে দ্রত ধান কাটার উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। কৃষকেরা ধান কাটতে পারবেন না, এটি আমাদের জন্য লজ্জার হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের যেখানে যে রকম উদ্যোগ নেওয়া দরকার, সেটি নিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, উথারিয়া বাঁধের মাটি ভরাটের কাজ আজকের মধ্যেই স¤পন্ন করা হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন, কৃষকেরা যাতে কোনো ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সমর কুমার পাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান রাসেল এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার। সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মতিউর রহমান খান।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
দ্রুত ধান কর্তন বিষয়ে জরুরি সভা
ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ নিয়ে ক্ষোভ
- আপলোড সময় : ২৩-০৪-২০২৬ ১২:০২:৫২ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৩-০৪-২০২৬ ১২:২১:১০ অপরাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ