সুনামগঞ্জ , শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই বাংলাদেশি, কোনো বৈষম্য থাকবে না : এমপি কামরুজ্জামান কামরুল মেয়েকে হারিয়েছেন পানিতে, এখন অন্য শিশুদের বাঁচাতে সাঁতার শেখান বাবা লোকজ পরিবেশনায় চিত্রায়িত হল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অযত্ন-অবহেলায় অকেজো কোটি টাকার রেসকিউ বোট, সেবাবঞ্চিত হাওরবাসী সুনামগঞ্জে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে জন্মাষ্টমী উদযাপন সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু নয়, আমরা সবাই গর্বিত বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনকেও পেছনে ফেললো বাংলাদেশ, খেলাপি ঋণে বিশ্বে শীর্ষে বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার কয়েক হাজার মানুষের উল্টোপথে মন্ত্রীর গাড়ি, দুই মামলায় ৬ হাজার টাকা জরিমানা বিশ্বম্ভরপুরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি কলিম উদ্দিন মিলন হাতকড়াসহ পলায়ন, ফেসবুক লাইভ; শেষ রক্ষা হলো না আসিরের জ্বালানি সংকট কাটাতে ৫ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী হাওরে ধানের বাজার মন্দা, চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী দিরাই বিএনপিতে ঐক্য নেই, বাড়ছে বিভক্তি লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে দেশে বিশেষ অভিযান শুরু হচ্ছে : র‌্যাবের মহাপরিচালক খেলাপি ঋণ আবারও ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়ালো আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু হাওর ও কৃষক-মৎস্যজীবীদের রক্ষায় ১০ দফা দাবি সিলেটে দেশের প্রথম সীমান্ত নজরদারি ও ড্রোন যুদ্ধ প্রশিক্ষণকেন্দ্র উদ্বোধন, যা বললেন মন্ত্রী

বজ্রপাত মোকাবেলায় দায়সারা প্রকল্প : মানুষের জীবনের মূল্য কি এতই কম?

  • আপলোড সময় : ২৪-০৪-২০২৬ ০৮:৩১:৩৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৪-০৪-২০২৬ ০৮:৩১:৩৬ পূর্বাহ্ন
বজ্রপাত মোকাবেলায় দায়সারা প্রকল্প : মানুষের জীবনের মূল্য কি এতই কম?
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বজ্রপাত যেন এক নীরব ঘাতক। প্রতি বছর বোরো মৌসুম এলেই কৃষক-জেলে পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল পৃথক বজ্রপাতে ৫ জনের মৃত্যু সেই আতঙ্ককে আবারও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। অথচ প্রশ্ন হলো- এত মৃত্যুর পরও কেন কার্যকর কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে উঠছে না? সরকার বজ্রপাতকে ২০১৬ সালে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে - এটি নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু ঘোষণার পর বাস্তবায়নের যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা হতাশাজনকই নয়, বরং উদ্বেগজনক। কোটি টাকার প্রকল্পে বজ্র নিরোধক দ- স্থাপন ও তালগাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে এর সুফল মানুষ পাচ্ছে না - এমন অভিযোগ এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়, বরং ব্যাপক। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিয়ে। যেখানে হাওরের খোলা মাঠে কৃষকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন, সেখানে বজ্র নিরোধক দন্ড স্থাপন না করে জনবহুল হাটবাজার বা তুলনামূলক নিরাপদ স্থানে এগুলো বসানো হয়েছে - এটি কেবল অব্যবস্থাপনা নয়, এটি দায়িত্বহীনতার স্পষ্ট উদাহরণ। প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে স্থানীয় বাস্তবতা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা কিংবা বিশেষজ্ঞ মতামত - এসব কি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল? আরও উদ্বেগজনক হলো, স্থাপিত দন্ড-গুলো আদৌ কার্যকর কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছেই কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। কোনো যন্ত্র বসিয়ে তা অচল পড়ে থাকলে সেটি কেবল অর্থের অপচয় নয়, মানুষের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণাও। জনগণের করের টাকায় নির্মিত প্রকল্পের এমন দায়সারা ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তালগাছ রোপণ প্রকল্পের অবস্থাও প্রায় একই। হাজার হাজার গাছ লাগানোর কথা বলা হলেও বাস্তবে তার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। রোপণের পর পরিচর্যার অভাব, নজরদারির ঘাটতি এবং জবাবদিহিতার অভাবে প্রকল্পটি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। প্রশ্ন হলো- কেবল প্রকল্প নেওয়াই কি লক্ষ্য, নাকি তার কার্যকারিতা নিশ্চিত করাও দায়িত্বের মধ্যে পড়ে? এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য এখনই কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, বজ্রঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে বৈজ্ঞানিকভাবে বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, স্থাপিত যন্ত্রগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও কার্যকারিতা যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, তালগাছ বা অন্যান্য প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও তদারকি জরুরি। চতুর্থত, স্থানীয় জনগণ, বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। এবং সর্বোপরি, প্রতিটি প্রকল্পে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে - কারণ ব্যর্থ প্রকল্পের দায় কারো না কারো নিতে হবে। বজ্রপাত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ - এটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু পরিকল্পিত উদ্যোগ, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এর ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। সেই দায়িত্ব রাষ্ট্র এড়িয়ে যেতে পারে না। আমাদের মনে রাখতে হবে, মানুষের জীবন কোনো পরিসংখ্যান নয়, কোনো প্রকল্পের সংখ্যা নয়। প্রতিটি মৃত্যু একটি পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়, একটি সমাজকে ক্ষতবিক্ষত করে। তাই সময় এসেছে দায়সারা প্রকল্পের বাইরে এসে বাস্তবভিত্তিক, কার্যকর এবং মানবিক উদ্যোগ গ্রহণের। অন্যথায়, বজ্রপাতের চেয়ে ভয়ংকর হয়ে উঠবে আমাদের অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
অযত্ন-অবহেলায় অকেজো কোটি টাকার রেসকিউ বোট, সেবাবঞ্চিত হাওরবাসী

অযত্ন-অবহেলায় অকেজো কোটি টাকার রেসকিউ বোট, সেবাবঞ্চিত হাওরবাসী