সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ , ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ন্যায়বিচারের দাবি বাদীর, হয়রানির অভিযোগ এলাকাবাসীর বিশ্বম্ভরপুরে অবৈধ জাল জব্দ, আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস সুবিপ্রবি’র ভিসি অপসারণ ও স্থায়ী ক্যাম্পাস সদর উপজেলায় বাস্তবায়নের দাবি নির্যাতিত ৬ শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে আজ হাওরে আনন্দভ্রমণে যাচ্ছেন এমপি কামরুল আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল পুশ-ইন ও সীমান্ত হত্যা ইস্যুতে মাঠে নামছে ১১ দল পাঁচ বছরের মেগা কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্যচুক্তি নয়, এটি মার্কিন প্রশাসনের ‘হুকুমনামা’ : আনু মুহাম্মদ প্রণোদনা ছাড়াই হাওরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, বিপাকে লক্ষাধিক জেলে জনগণকে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে যুক্ত করতে চায় বিএনপি ৯৬% অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না শিশুদের শরীরে হাউজবোটের লোকজনের হামলায় যুবক নিহতের অভিযোগ : ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা এবার লাইভ করতে করতে থানায় আশ্রয় নিলেন সেই মাহদী সালমান শাহ’র দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ সুনামগঞ্জে পৃথক মামলায় আ.লীগের দুই নেতাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ জেলা যুবদলের আনন্দ মিছিল বারবার ত্রুটিতে ক্ষোভ “মনে হচ্ছিল, জীবিত আর বের হতে পারব না” নতুন ব্রি ধান-১১৮ : দুই মাস আগেই ঘরে উঠবে বোরো, কমবে ঝুঁকি প্রীতি ফুটবল ম্যাচে সাংবাদিকদের ৪-১ গোলে হারালেন আইনজীবীরা সড়কের পাশ থেকে নবজাতক উদ্ধার
বজ্রপাত থেকে সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ

হাওরাঞ্চলে ‘মাল্টিপারপাস শেড’ নির্মাণের পরিকল্পনা

  • আপলোড সময় : ২৭-০৪-২০২৬ ১০:২৮:২৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৭-০৪-২০২৬ ১০:২৯:০৯ পূর্বাহ্ন
হাওরাঞ্চলে ‘মাল্টিপারপাস শেড’ নির্মাণের পরিকল্পনা
স্টাফ রিপোর্টার::
বজ্রপাতে প্রাণহানি রোধে দেশের হাওরাঞ্চলে ‘মাল্টিপারপাস শেড’ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বিশেষ করে সুনামগঞ্জসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওর এলাকায় কৃষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বজ্রপাতপ্রবণ এলাকাগুলোতে এমন শেড নির্মাণ করা হবে, যেখানে আকাশে বজ্রমেঘ দেখা দিলে কৃষকরা দ্রুত আশ্রয় নিতে পারবেন। শেডগুলোতে আধুনিক বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা থাকবে, যা বজ্রপাতের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হাওরাঞ্চলে কৃষকরা দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে কাজ করেন। বজ্রপাতের সময় আশ্রয় নেওয়ার মতো নিরাপদ কোনো স্থাপনা না থাকায় প্রতিবছর বহু কৃষক প্রাণ হারান। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই মাল্টিপারপাস শেড নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এ শেডগুলো শুধু বজ্রপাতের সময় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং ধান মাড়াই, অস্থায়ীভাবে ফসল সংরক্ষণ এবং বন্যাকালে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। ফলে এটি হবে বহুমুখী ব্যবহারের একটি গ্রামীণ অবকাঠামো। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়,, ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ হাওরপ্রবণ জেলার উপজেলা পর্যায় থেকে প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে। এসব প্রস্তাবের ভিত্তিতে প্রকল্পটি চূড়ান্ত করা হবে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি শেড এক বিঘা জমির ওপর নির্মাণ করা হতে পারে। তবে কতটি শেড নির্মাণ করা হবে, ব্যয় কত হবে - এসব বিষয় এখনো নির্ধারিত হয়নি। প্রস্তাব পাওয়ার পর সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রকল্পের চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে বজ্রনিরোধক দ- স্থাপন, তালগাছ রোপণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলোর অনেকই কার্যকর হয়নি। তাই এবার বাস্তবসম্মত ও ব্যবহারযোগ্য অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, সাধারণত মার্চের শেষ ও এপ্রিলের শুরুর দিকে বজ্রপাতের মৌসুম শুরু হয়। জুন ও জুলাই পর্যন্ত তা থাকে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেখা গেছে, এখন বজ্রপাতের কোনো হিসাব মিলছে না। বর্ষাকালেও এখন বজ্রপাত হচ্ছে, মানুষ মারা যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা বজ্রপাতের বিষয়ে মানুষের সচেতন করার কাজটি করছি। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আমাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি আছে। আমাদের এক পৃষ্ঠার একটি সতর্কবার্তা আছে, সেটা আমরা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি যেন মানুষ সচেতন হন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও এ সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে কাজ করছি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর একটি প্রকল্প প্রণয়নে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকল্পের আওতায় বজ্রপাতে মৃত্যুরোধে বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় মাল্টিপারপাস শেড নির্মাণ করা হবে। এ শেডে বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা থাকবে। এ শেড কৃষকরা ধান মাড়াই, স্বল্প সময়ের জন্য ধান মজুতসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। বন্যার সময় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবেও এগুলো ব্যবহার করা হবে। মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন আরও বলেন, সিলেট, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মৌলভীবাজার জেলার সব উপজেলা থেকে প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। প্রস্তাব পেলে আমরা প্রকল্প নেবো। প্রাথমিকভাবে চিন্তাভাবনা হচ্ছে। তবে জেলার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। সব প্রস্তাব পাওয়ার পর একটার সম্ভাব্যতা যাচাই হবে। তিনি বলেন, প্রতিটি শেড করতে কত টাকা লাগবে, পুরো প্রকল্পের কত ব্যয় হবে, কতটি শেড নির্মাণ হবে- সেসব বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়। প্রস্তাব পাওয়ার পর প্রকল্প তৈরি হবে। এরপর বলা যাবে। আমাদের আরও দুই মাস সময় লাগবে। আমরা প্রকল্প চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়কে দেবো। তারা তাদের পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করবে। কিছুটা সময় তো লাগবেই।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নির্যাতিত ৬ শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে আজ হাওরে আনন্দভ্রমণে যাচ্ছেন এমপি কামরুল

নির্যাতিত ৬ শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে আজ হাওরে আনন্দভ্রমণে যাচ্ছেন এমপি কামরুল