অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ডুবছে জমির ধান
- আপলোড সময় : ২৯-০৪-২০২৬ ১০:২৮:০৬ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৯-০৪-২০২৬ ১০:২৮:০৬ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
অব্যাহত ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানের পাহাড়ি ঢলে আগাম বন্যার আশঙ্কায় চরম সংকটে পড়েছেন সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষকরা। জলাবদ্ধতা, বাঁধ ভাঙন ও শ্রমিক সংকট - এই ত্রিশঙ্কু অবস্থায় জেলার বিস্তীর্ণ হাওরের পাকা ধান এখন পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৭ হাজার ৫৭ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় রেকর্ড ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর ফলে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীসহ জেলার সবকটি নদ-নদীর পানি আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাহাড়ি ঢলে যাদুকাটা নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত তা বিপদসীমার মাত্র ১৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
এদিকে, মঙ্গলবার সকালে মধ্যনগর উপজেলার বংশীকু-া দক্ষিণ ইউনিয়নের চান্দালীপাড়া গ্রামে ইকরাছই হাওরের একটি বাঁধ ভেঙে অন্তত ৮-১০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে যায়। একইভাবে দেখার হাওরের গুজাউনি বাঁধও ভেঙে গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরের হরিমণ বাঁধেও লিকেজ দেখা দেয়, যদিও তাৎক্ষণিক মেরামতে পানি প্রবেশ আপাতত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে বাঁধটি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, অতিবৃষ্টির কারণে সুরমা নদীর পানি ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে। আগামী দুই দিন আরও ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও অতিবৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় নতুন করে পাহাড়ি ঢল নামতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলোতে জিও ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ধান কাটতে পারছেন না কৃষকরা। বজ্রপাত ও ঝড়বৃষ্টির আতঙ্কে শ্রমিকরা হাওরে যেতে অনীহা প্রকাশ করছেন। ফলে তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে।
খরচার হাওরের কৃষক তোলা মিয়া বলেন, টানা বৃষ্টিতে আমার ১০ বিঘা জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে। এক মুঠো ধানও ঘরে তুলতে পারিনি।
একই এলাকার কৃষক জাহিদ হাসান আরিফ জানান, হরিমণ বাঁধ খুবই দুর্বল। নদীর পানি বাড়লে পুরো হাওর ডুবে যাবে - এই আতঙ্কে আছি।
দেখার হাওরের কৃষক রমিজ উদ্দিন বলেন, অতিরিক্ত টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। মেশিন দিয়েও ধান কাটা যাচ্ছে না। আমরা বড় বিপদে আছি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, ইতোমধ্যে প্রায় ৭০৫৭ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় মোট আবাদকৃত জমির মাত্র ৪৭ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে, বাকি অর্ধেক এখনও মাঠে রয়েছে। জেলায় এ বছর ১৩৭টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, হাওরের ফসল রক্ষায় চলতি মৌসুমে ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭১০টি প্রকল্পের আওতায় ৬০২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছে। আগাম বন্যা মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলোতে দিনরাত নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ