সুনামগঞ্জ , শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সুনামগঞ্জে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে জন্মাষ্টমী উদযাপন সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু নয়, আমরা সবাই গর্বিত বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনকেও পেছনে ফেললো বাংলাদেশ, খেলাপি ঋণে বিশ্বে শীর্ষে বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার কয়েক হাজার মানুষের উল্টোপথে মন্ত্রীর গাড়ি, দুই মামলায় ৬ হাজার টাকা জরিমানা বিশ্বম্ভরপুরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি কলিম উদ্দিন মিলন হাতকড়াসহ পলায়ন, ফেসবুক লাইভ; শেষ রক্ষা হলো না আসিরের জ্বালানি সংকট কাটাতে ৫ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী হাওরে ধানের বাজার মন্দা, চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী দিরাই বিএনপিতে ঐক্য নেই, বাড়ছে বিভক্তি লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে দেশে বিশেষ অভিযান শুরু হচ্ছে : র‌্যাবের মহাপরিচালক খেলাপি ঋণ আবারও ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়ালো আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু হাওর ও কৃষক-মৎস্যজীবীদের রক্ষায় ১০ দফা দাবি সিলেটে দেশের প্রথম সীমান্ত নজরদারি ও ড্রোন যুদ্ধ প্রশিক্ষণকেন্দ্র উদ্বোধন, যা বললেন মন্ত্রী বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য খুলল যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসার পথ সুরমা নদীর তীর দখল করে স্থাপনা তৈরির হিড়িক উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ে শিক্ষকের শূন্যপদ দ্রুত পূরণের আহ্বান সুনামগঞ্জে উড়াল সড়ক : সম্ভাবনার নতুন দুয়ার
জলাবদ্ধতায় হাওরে ফসলহানি

ঋণের বোঝা নিয়ে ফিরছে ৫ শতাধিক জিরাতি পরিবার

  • আপলোড সময় : ১৩-০৫-২০২৬ ১১:৫৬:১৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৩-০৫-২০২৬ ১১:৫৯:১৮ পূর্বাহ্ন
ঋণের বোঝা নিয়ে ফিরছে ৫ শতাধিক জিরাতি পরিবার
বিশ্বজিত রায়::
অতিবৃষ্টির ধাক্কায় সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো মৌসুমে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে লক্ষাধিক কৃষক পরিবার। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাঁচ শতাধিক জিরাতি পরিবার, যারা প্রতিবছর আবাদ মৌসুমে বাড়িঘর ছেড়ে হাওরে অস্থায়ীভাবে বসবাস এবং জীবিকা নির্বাহ করে। বৈশাখ শেষে যেখানে স্বস্তি নিয়ে ঘরে ফেরার কথা, সেখানে এবার তারা ফিরছে ঋণের ভারের চাপ এবং অনিশ্চয়তা নিয়ে। ব্যয় মেটানো এবং দেনা পরিশোধের দুশ্চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটানোর কথা জানিয়েছে তারা।
ধর্মপাশা উপজেলার সানবাড়ি গ্রামের জিরাতি অখিল তালুকদার জানান, জিরাতিদের সব পরিবারই বাস্তুচ্যুত। বর্ষায় আফাল (বড় ঢেউ) এবং ভাঙন দুর্যোগে বাড়িঘর হারিয়ে অন্যত্র বাড়ি করেছেন তাঁরা। হাওরপারের পৈতৃক ভিটাবাড়ি বিলীন হলেও মালিকানাধীন জায়গা-জমি রয়ে গেছে। হেমন্তকালের পুরো সময়টাই হাওরের কুঁড়েঘরে থেকে এক ফসলি এই জমি চাষাবাদ করেন তাঁরা। জলে গেছে ছয় মাসের হাড়ভাঙা পরিশ্রম - উল্লেখ করে অখিল বলেন, ‘এবার ঋণ মেটানোই দায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাওরের নির্জন কান্দায় (গো-চর) খড়কুটোর অস্থায়ী কুঁড়েঘর তৈরি করে বোরো মৌসুমের পুরোটা সময় পার করেন জিরাতিরা। এ সময় জামালগঞ্জের হালি হাওরের রাইঙ্গা ও হেরাকান্দি, পাগনা হাওরের এলংজুড়ি বিল ও আইলা বিলের পার এবং ধর্মপাশা উপজেলার সোনামড়ল হাওরের সানবাড়ি এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয় পাঁচ শর বেশি জিরাতি (ক্ষুদ্র কৃষক) পরিবার। অগ্রহায়ণ মাসের শুরু থেকে বৈশাখ পর্যন্ত বোরো চাষাবাদ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকে পরিবারগুলো।
জামালগঞ্জের হালি হাওরের রাঙ্গিয়া কান্দায় স্ত্রী নাছিমা বেগমকে নিয়ে কাটা ধান মাড়াই করছিলেন জিরাতি সুজন মিয়া। তাঁর বাড়ি জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের উত্তর কামলাবাজ গ্রামে। বাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে হাওরের জিরাতি এলাকার অস্থায়ী ঘরে থেকে বোরো জমি আবাদ করেছেন তিনি। ১০ কিয়ার (৩০ শতকে কিয়ার) জমির মধ্যে প্রায় অর্ধেক পানিতে ডুবে নষ্ট হয়েছে জানিয়ে সুজন বলেন, এইখানে ৪ কিয়ার জমির ধান ভাঙানি হইতাছে। এইটি কাটাইতে খরচ হইছে ২৬ হাজার টাকা। নৌকা দিয়া আনা ও ভাঙানির (মাড়াই) খরচও আছে। ১০ কিয়ার জমিন করতে (সার, বীজ, হাল চাষ, রোপণ) লাগছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। এরপরে থাকা-খাওয়া আর পরিশ্রম তো আছেই। বছরের খোরাক হবে কি না, এমন প্রশ্নে সুজন বলেন, ৪ কিয়ারে ৫০-৬০ মণ ধান হবে। ভাঙানির পরে বিক্রি করে ধান কাটা শ্রমিকের ২৬ হাজার টাকা দিয়া দিমু। আনুষঙ্গিক খরচ যা আছে, তা-ও শোধ করা লাগব। সবকিছু দেওয়ার পরে বাকি ঋণের চাপ থাইক্যাই যাইব। রাঙ্গিয়া কান্দায় হুরার (বাঁশ-ছন দিয়ে তৈরি অস্থায়ী বাসস্থান) সামনে বাবার সঙ্গে ধান ওড়াচ্ছিলেন একই গ্রামের মো. নবী হোসেন। কয় মণ ধান পেয়েছেন জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, ৮ কিয়ার জমির মধ্যে ৩ কিয়ার কাটতে পেরেছেন। হালি হাওরের পাট্টিয়াজুরা জাঙ্গালের পাশে ৫ কিয়ার জমি ডুবে গেছে। ৩ কিয়ারে যতটুকু ধান হয়েছে, তাতে কোনোরকমে ছয় মাসের খোরাক হবে। বাকি ছয় মাস ঋণ করেই চলতে হবে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবার বোরো মৌসুমে ছোট-বড় ১৯৩টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমি আবাদ হয়েছে। জেলা কার্ডধারী কৃষক ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৭ জন। তাঁদের মধ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক ২ লাখ ২৩ হাজার ৮০৭ জন। গত রোববার পর্যন্ত হাওরে ৮২ দশমিক ২৩ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, জেলায় গত সোমবার সকাল পর্যন্ত ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। নদ-নদীর পানি কমেছে ১৩ সেন্টিমিটার। নদীর পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ৭২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সামনে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। হাওরে অবশিষ্ট ধান দ্রুত কেটে ফেলার নির্দেশনা দিয়েছে পাউবো।

জিরাতিদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা কৃষি বিভাগের কাছে নেই উল্লেখ করে সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওমর ফারুক বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনায় ক্যাটাগরি নির্ধারিত হবে। বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এমন কৃষকেরা প্রত্যেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা এবং এক বস্তা চাল সহায়তা পাবেন। কম ক্ষতিগ্রস্তদের বেলায় সহায়তা আরেকটু কমবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনকেও পেছনে ফেললো বাংলাদেশ, খেলাপি ঋণে বিশ্বে শীর্ষে

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনকেও পেছনে ফেললো বাংলাদেশ, খেলাপি ঋণে বিশ্বে শীর্ষে