সুনামগঞ্জ , বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ , ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সুনামগঞ্জে দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা সন্তোষজনক: সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি সাংবাদিক আলিফ হত্যা ও মোত্তালিব ভূঁইয়ার ওপর হামলার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন দিরাইয়ে মাদকবিরোধী সভার পর প্রবাসী লিমনের ওপর হামলার অভিযোগ ‎সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ি : প্রধানমন্ত্রী ‎সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে আমাদের কোনো দ্বিধা নেই : আইনমন্ত্রী শান্তিগঞ্জে ১৬২ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত ‎মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক দুর্গাপূজা উপলক্ষে পশ্চিম নতুনপাড়ায় ৮৮ প্রবীণকে সম্মাননা দিরাইয়ে মোটরবাইক দুর্ঘটনায় আহত ২ সাংবাদিক আলিফ হত্যার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন, খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি সুনামগঞ্জে দুই যুব সংগঠন পেল ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা অনুদান দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ : রাষ্ট্রপতি দুর্গাপূজার শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, মাঠে তৎপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সুনামগঞ্জে এসআরবি উইং কমান্ডার দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত ছেলের হাতে মা খুন সীমান্তবর্তী পূজামন্ডপের নিরাপত্তায় ৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন সুনামগঞ্জে সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা সহ্য করা হবে না : এমপি নূরুল ইসলাম পতিত জমিতে মাল্টার বাগান, প্রবাসফেরত সাইফুরের সাফল্য

স্থান সংকটে জগন্নাথপুর খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহ বন্ধ, চরম বিপাকে কৃষক

  • আপলোড সময় : ২০-০৫-২০২৬ ০১:০২:৫৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২০-০৫-২০২৬ ০১:০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন
স্থান সংকটে জগন্নাথপুর খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহ বন্ধ, চরম বিপাকে কৃষক
মো. শাহজাহান মিয়া::
জগন্নাথপুর উপজেলায় সরকারি খাদ্যগুদামে স্থান সংকটের কারণে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে সরকার নির্ধারিত উচ্চমূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা। বাধ্য হয়ে তারা কম দামে মিলার ও ফড়িয়াদের কাছে ধান বিক্রি করছেন। কৃষকদের ভোগান্তি নিরসনে দ্রুত নতুন খাদ্যগুদাম নির্মাণের দাবি উঠেছে। উপজেলা সদর এলাকায় ৫০০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার একটি মাত্র সরকারি খাদ্যগুদাম রয়েছে। সারা বছর চাল আদান-প্রদানের মাধ্যমে কোনোমতে কার্যক্রম চললেও বোরো মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ শুরু হলেই তৈরি হয় সংকট। লটারিতে নির্বাচিত কিছু কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করতেই গুদাম পূর্ণ হয়ে যায়। একই সময়ে মিলারদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ এবং আগের মজুদ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। খাদ্যগুদাম সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রায় ২ হাজার ৪০০ কৃষক সরকারের কাছে ধান বিক্রির জন্য আবেদন করেন। এর মধ্যে লটারির মাধ্যমে ৯৯১ জন কৃষক নির্বাচিত হন। জগন্নাথপুর ও রাণীগঞ্জ খাদ্যগুদামে বিভাজনের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ শুরু হয়। তবে জগন্নাথপুর সদর খাদ্যগুদামে মাত্র ২০২ জন কৃষকের কাছ থেকে জনপ্রতি ২ মেট্রিক টন করে ধান সংগ্রহের পরই জায়গা সংকট দেখা দেয়। ফলে মঙ্গলবার থেকে ধান সংগ্রহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এদিকে চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় হাওরাঞ্চলের অনেক কৃষকের ধান নষ্ট হয়ে গেছে। নিচু এলাকার জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিন বৃষ্টির কারণে কাটা ধান শুকাতে না পেরে অনেকের ধানে চারা গজিয়েছে। শ্রমিক ও হারভেস্টার সংকটেও দুর্ভোগ বেড়েছে। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে ধান ঘরে তুললেও বাজারে মিলছে না কাক্সিক্ষত দাম। বর্তমানে খোলা বাজারে প্রতি মণ ধান ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি হলেও সরকার নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৪৪০ টাকা হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ ছিল সরকারি গুদামে ধান বিক্রিতে। ধান সংগ্রহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন হতাশ কৃষকদের ভিড় আর নেই খাদ্যগুদামে। কয়েকদিন আগেও যেখানে ধান বিক্রির আশায় কৃষকদের উপচেপড়া ভিড় ছিল, সেখানে এখন বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। হাওর বাঁচাও আন্দোলন জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি ও চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, কৃষকদের স্বার্থে জগন্নাথপুরে দ্রুত আরেকটি খাদ্যগুদাম নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রতি বছর গুদাম সংকটের কারণে কৃষকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সামনে ঈদ, অথচ ধান বিক্রি করতে না পেরে কৃষকরা চরম বিপাকে রয়েছেন। জগন্নাথপুর সদর খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা শিবু ভূষণ পাল জানান, গুদামে জায়গা না থাকায় ১৯ মে মঙ্গলবার থেকে ধান সংগ্রহ বন্ধ রয়েছে। আর ঈদের পর ধান নিয়ে আসতে আগ্রহী কৃষকদের তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন খাতের চাল ডেলিভারি হলে গুদাম কিছুটা খালি হবে। এছাড়া সংগ্রহকৃত ধান ক্রাসিংয়ে পাঠানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠনো হয়েছে। তবে আরেকটি খাদ্যগুদাম হলে কৃষকদের আর বিড়ম্বনায় পড়তে হতো না। জগন্নাথপুর উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. সাহাব উদ্দিন জানান, নতুন আরেকটি খাদ্যগুদাম নির্মাণের প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠনো হয়েছে। ইতোমধ্যে সয়েল টেস্ট হয়ে গেছে। আশা করছি, কাজ শুরু হয়ে যাবে। আরেকটি গুদাম হলে এ সমস্যা থাকবে না। জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন জানান, ধান ক্রয় বন্ধের বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সুনামগঞ্জে দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা সন্তোষজনক: সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি

সুনামগঞ্জে দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা সন্তোষজনক: সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি