সুনামগঞ্জ , শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সুনামগঞ্জে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে জন্মাষ্টমী উদযাপন সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু নয়, আমরা সবাই গর্বিত বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনকেও পেছনে ফেললো বাংলাদেশ, খেলাপি ঋণে বিশ্বে শীর্ষে বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার কয়েক হাজার মানুষের উল্টোপথে মন্ত্রীর গাড়ি, দুই মামলায় ৬ হাজার টাকা জরিমানা বিশ্বম্ভরপুরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি কলিম উদ্দিন মিলন হাতকড়াসহ পলায়ন, ফেসবুক লাইভ; শেষ রক্ষা হলো না আসিরের জ্বালানি সংকট কাটাতে ৫ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী হাওরে ধানের বাজার মন্দা, চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী দিরাই বিএনপিতে ঐক্য নেই, বাড়ছে বিভক্তি লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে দেশে বিশেষ অভিযান শুরু হচ্ছে : র‌্যাবের মহাপরিচালক খেলাপি ঋণ আবারও ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়ালো আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু হাওর ও কৃষক-মৎস্যজীবীদের রক্ষায় ১০ দফা দাবি সিলেটে দেশের প্রথম সীমান্ত নজরদারি ও ড্রোন যুদ্ধ প্রশিক্ষণকেন্দ্র উদ্বোধন, যা বললেন মন্ত্রী বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য খুলল যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসার পথ সুরমা নদীর তীর দখল করে স্থাপনা তৈরির হিড়িক উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ে শিক্ষকের শূন্যপদ দ্রুত পূরণের আহ্বান সুনামগঞ্জে উড়াল সড়ক : সম্ভাবনার নতুন দুয়ার
গানই তাঁর আনন্দ, গানই তাঁর জীবন

সুনামগঞ্জের সংগীতাঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র রূপশ্রী রায়

  • আপলোড সময় : ২০-০৫-২০২৬ ০৯:২৭:২৩ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২০-০৫-২০২৬ ০৯:২৮:১৩ পূর্বাহ্ন
সুনামগঞ্জের সংগীতাঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র রূপশ্রী রায়
সৌরভ অধিকারী অয়ন::>
রূপশ্রী রায় বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। শাস্ত্রীয় সংগীত, লোক সংগীত, কীর্তন, নজরুল সংগীত ও আধুনিক সংগীত জুড়ে রয়েছে তাঁর অবাধ বিচরণ। তিনি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোক্তারপাড়ার এক সংগীতানুরাগী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম সুকুমার রায় এবং মাতার নাম মালতী রায়। পারিবারিকভাবেই তিনি সংগীত চর্চার সাথে সম্পৃক্ত হন। সংগীত জগতের সাথে যুক্ত হওয়ার পেছনে তাঁর পরিবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ভাইবোনদের মধ্যে তাঁর অবস্থান ষষ্ঠ। সাংস্কৃতিক পরিবারে থাকার সুবাদে ছোটবেলা থেকেই বড় ভাই-বোনদের সংগীত চর্চা সরাসরি দেখার সুযোগ হয়। তা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি নিজেও সংগীতের প্রতি আগ্রহ অনুভব করেন। বিশেষ করে তাঁর বড় ভাই প্রদীপ রায়ের সংগীত চর্চা তাকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করে এবং ভাইকে অনুকরণ করার মাধ্যমে একসময় তাঁরও সংগীতের প্রতি ভালোবাসা জন্মে। তাঁর বোনেরা যখন গোপাল দত্ত উস্তাদজী এবং রাসবিহারী চক্রবর্তী উস্তাদজীর নিকট গান শিখতেন তখন তিনি উনাদের সাথে বসে থাকতেন, উনাদের গান শুনতেন এবং শুনে শুনে নিজেও চর্চা করতেন। তাতে করে গানের প্রতি ভালোবাসা আরও বেড়ে যায়। সংগীতের হাতেখড়ি : রূপশ্রী রায়ের সংগীতে হাতেখড়ি হয় সুনামগঞ্জ জেলার বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ব্রজলাল দাশের কাছে। ব্রজলাল দাশের কাছেই তিনি সংগীতের প্রথম তালিম শুরু করেন এবং সারেগামাপা সহ সংগীতের প্রাথমিক ধারণা লাভ করেন তাঁর কাছ থেকেই। এরপর তিনি সুনামগঞ্জ শহরের ইমরান উস্তাদজী, সাব্বির আহমেদ সোহেল এবং মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন এই তিন জনের কাছেও গান শিখেন। উনাদের নিকট আধুনিক, নজরুল ও লোকসংগীতের তালিম গ্রহণ করেন। পরবতীতে তিনি প-িত রামকানাই উস্তাদজীর কাছে শাস্ত্রীয় সংগীতের তালিম গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ভারতের কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে সেখানে তিনি গুরু অসিত মুখার্জীর নিকট হতে তালিম নেন। সেখানে তিনি পাতিয়ালা ঘরানার শাস্ত্রীয় সংগীতের গভীর পাঠ নেন। এছাড়া ¯œাতক চলাকালীন তিনি কঙ্কনা মিত্রের নিকট কীর্তন আঙ্গিকের গানের তালিম নেন এবং নুপূর গাঙ্গুলীর নিকট গানের চর্চা করেন। সংগীত বিষয়ে ¯œাতক ডিগ্রি : শুরুর দিকে সংগীতের উপর পড়াশোনা না করলেও পরবর্তীতে সংগীতের উপর উচ্চশিক্ষা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। সেই আকাক্সক্ষা থেকেই ২০০৮ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পাড়ি জমান এবং সেখানে তিনি সংগীতের উপর ¯œাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। সেখানে ভর্তির ব্যাপারে সর্বতোভাবে সহায়তা করেন পারিবারিক বন্ধু ও আত্মীয় প্রসেন রায়। তার সহযোগিতায় তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। এজন্য তিনি প্রসেন রায়ের নিকট কৃতজ্ঞ। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ ও কৃতিত্ব লাভ : তিনি ১৯৭৭ সালে সুনামগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমিতে আধুনিক গানের প্রতিযোগিতায় ২য় স্থান অধিকার করেন। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালের জাতীয় ”শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা”য় সিলেট বিভাগের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন। সেই সাথে ঢাকায় আয়োজিত “বেঙ্গল বিকাশ প্রতিযোগিতা”য় অংশগ্রহণ করে কৃতিত্বের সাথে সফলতার স্বাক্ষর রেখে আসেন। ক্যাসেট যুগে অবদান : লোক সংগীতের উপর উনার একটি যৌথ অ্যালবাম বের হয়েছিল। যার নাম ‘বিয়ের গান’। তাতে লোক বিয়ের গানের উপর অ্যালবাম তৈরি করা হয়, যার শিল্পী ছিলেন তিনি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত শিল্পী হিসেবে অংশগ্রহণ : এছাড়া উনি ২০০০ ও ২০০৩ সালে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং শহরে অনুষ্ঠিত মিউজিক ফেস্টিভালে আমন্ত্রিত শিল্পী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন এবং সেখানে তিনি সংগীত পরিবেশন করেন। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতেন এবং জোড়াসাঁকোর বসন্ত উৎসবে নিয়মিত সংগীত পরিবেশন করতেন। পুরস্কার ও সম্মাননা : ২০২৩ সালে সুনামগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমি তাঁকে সংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শিল্পকলা পদক প্রদান করে। পরবর্তীতে সুনামগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন লোকদল শিল্পীগোষ্ঠী তাঁকে সংগীতের উপর বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেন। এছাড়া সারেগামা নামক আরও একটি সংগঠন তাঁকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেন। সংগীত বিদ্যালয় পরিচালনা : বর্তমানে উনার একটি নিজস্ব গানের স্কুল আছে। যার নাম সোহিনী সংগীত বিদ্যালয়। সেখানে তিনি শিশুদেরকে গানের তালিম দিয়ে থাকেন। সুনামগঞ্জের ছোট ছোট বাচ্চারা তার নিকট গান শিখে থাকে। এর পাশাপাশি তিনি সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সাধারণ সংগীত বিভাগে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৮৭ সাল থেকে বাংলাদেশ বেতার সিলেট কেন্দ্রতে তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে সংগীত পরিবেশন করে আসছেন। নেপথ্যে অবদান যাদের : পারিবারিকভাবে তিনি সংগীত চর্চায় অনুপ্রেরণা পেয়ে আসছেন। ছোটবেলায় মা-বাবা, পরে ভাই বোনেরা এবং পরবর্তীতে ভাই-বোনের সন্তানেরাও তাঁকে অনুপ্রেরণা দিয়ে আসছেন। যাদের কারণে সংগীত নিয়ে চলার পথ তুলনামূলক সহজ হয়েছে। আরও রয়েছেন প্রসেন রায়, যার সাহায্য-সহযোগিতায় রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ হয়। গান চর্চায় আদর্শ : সংগীত চর্চার ক্ষেত্রে উনার আদর্শ হলেন- আশা ভোঁসলে, ইন্দ্রানী সেন, শবনম মুস্তারী, ফিরোজা বেগম, খেয়া চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ বিখ্যাত সংগীতানুরাগীগণ। ব্যক্তিগত আগ্রহ : উনার বিশেষ দক্ষতা ও আগ্রহ হচ্ছে নজরুল সংগীতে। তিনি তা ভালোবেসে আনন্দের সাথে চর্চা করে থাকেন। গান করার পাশাপাশি তাঁর বই পড়ারও চর্চা আছে। বিশেষ করে সংগীত বিষয়ক বই তাঁকে সবসময় অধিক আকর্ষণ করে থাকে। এবং সংগীত বিষয়ক বইসমূহ অধিক পাঠ করে থাকেন। স্মরণীয় ঘটনা : যখন ক্লাস টু তে পড়ে তখন শিল্পকলা একাডেমির একটি প্রতিযোগিতায় পুরস্কার লাভ করেন। এই প্রতিযোগিতায় তিনি বাসার কাউকে না জানিয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। যখন তিনি পুরস্কার পান তখন বাসার কেউই সেটা বিশ্বাস করতে চায়নি। পরে পুরস্কার দেখে বিশ্বাস করে। জীবনের প্রথম এই পুরস্কার প্রাপ্তির মজার স্মৃতি আজও তাঁর হৃদয়ে অমলিন। উত্তরসূরিদের প্রতি বার্তা এবং ইচ্ছা : নবীন তথা তরুণ প্রজন্মের শিল্পীদের প্রতি উনার বার্তা এই, “সবসময় সংগীত চর্চার মধ্যে থাকতে হবে। সংগীত চর্চার মাধ্যমে যে কণ্ঠ তৈরি হয় তা দীর্ঘমেয়াদী গানের সুযোগ তৈরি করে দেয়। তাই গানের ভিত্তি যদি রেওয়াজের মধ্যে তৈরি করা যায়, তাহলে গান শেখা এবং গান চর্চা করাটা তোমাদের জন্য সহজ হবে। তাই তোমরা যারা সংগীতকে লালন করো তোমাদের প্রতি আমার অনুরোধ- তোমরা নিয়ম করে দৈনিক অন্তত এক ঘণ্টা করে হলেও রেওয়াজ করবে।” সংগীত নিয়ে উনার অনুভূতি হলো- “সংগীত হলো আনন্দের বিষয়, এটি আমাদেরকে আনন্দ দিয়ে থাকে এবং আমাদেরকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে থাকে।“ তিনি সারাজীবন সংগীত নিয়ে কাজ করে গেছেন এবং বাকি জীবনও তিনি সংগীতকে সাথে নিয়েই অতিবাহিত করতে চান। তিনি চান যেন উনার গানের স্কুল যেন সবসময় টিকে থাকে এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যেন সংগীত চর্চার মাধ্যমেই কাটিয়ে দিতে পারেন। আর এভাবেই সুনামগঞ্জের সংগীত ক্ষেত্রকে আরও সমৃদ্ধ করতে চান।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনকেও পেছনে ফেললো বাংলাদেশ, খেলাপি ঋণে বিশ্বে শীর্ষে

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনকেও পেছনে ফেললো বাংলাদেশ, খেলাপি ঋণে বিশ্বে শীর্ষে