টাঙ্গুয়ার হাওরে নিভে গেল ছোট্ট সৌম্যতার জীবনপ্রদীপ

আপলোড সময় : ০৬-০৬-২০২৬ ০৮:৫৮:৪৮ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৬-০৬-২০২৬ ০৯:৩০:৩৮ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার::
টাঙ্গুয়ার হাওরের নির্মল জলরাশি, প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য আর আনন্দভ্রমণের স্মৃতি নিয়ে ফেরার কথা ছিল ছোট্ট সৌম্যতা সরকার নিঝুমের। কিন্তু সেই ভ্রমণই হয়ে উঠল তার জীবনের শেষ যাত্রা। মুহূর্তের এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিভে গেল আট বছরের এক নিষ্পাপ প্রাণ। আর কখনো স্কুলের শ্রেণিকক্ষে বসবে না সে, শোনা যাবে না তার হাসির শব্দ, জেলা শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চেও আর নাচবে না ছোট্ট নিঝুম। শুক্রবার (৫ জুন) বেলা ৩টার দিকে তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকবাহী ‘ভ্রমণশৈলী’ নামের একটি হাউসবোটে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় সৌম্যতা সরকার নিঝুম (৮)। সে ধর্মপাশা উপজেলার কামলাবাজ গ্রামের বাসিন্দা স্বপন চন্দ্র সরকারের মেয়ে। সৌম্যতা সুনামগঞ্জ শহর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে নতুন চালু হওয়া একটি হাউসবোটের উদ্বোধনী ভ্রমণে টাঙ্গুয়ার হাওরে গিয়েছিল তারা। হাওরে গোসল শেষে নিলাদ্রী লেকের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়ার সময় হাউসবোটের পেছনের প্রান্ত থেকে সামনের প্রান্তে যাওয়ার সময় পা পিছলে চলন্ত ইঞ্জিনে পড়ে যায় সৌম্যতা। সঙ্গে সঙ্গে ইঞ্জিন বন্ধ করা হলেও গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। সংবাদটি ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে স্বজন, বিদ্যালয়, সহপাঠী ও শিক্ষকদের মাঝে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সৌম্যতা সরকার নিঝুমকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন তার শিক্ষক ও শুভাকাক্সক্ষীরা। সৃজন বিদ্যাপীঠের শিক্ষিকা শতাব্দী দাস ফেসবুকে লিখেছেন, “আমাদের স্টুডেন্ট সৌম্যতা আর নেই। মেয়েটা এত মিষ্টি আর শান্ত ছিল যে সবার চোখে পড়ত। ক্লাসে গেলেই হাসিমুখে বন্ধুদের সঙ্গে মিশে থাকত। নাচে তার ছিল অসাধারণ প্রতিভা। আজও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে, সে আর আমাদের মাঝে নেই।” শিক্ষিকার স্মৃতিতে ভেসে ওঠে সেই ছোট্ট মেয়েটির সাংস্কৃতিক প্রতিভার কথা। বিদ্যালয়ের বার্ষিক অনুষ্ঠানে পুতুলের মতো সেজে নেচেছিল সৌম্যতা। তার নাচ দেখে মুগ্ধ হয়ে শিক্ষকরা ছবি তুলেছিলেন। একদিন ক্লাসে শিক্ষক গান খুঁজছিলেন নাচের জন্য। তখন সৌম্যতাই বলেছিল তার প্রিয় গান ‘সোহাগ চাঁদ’-এর কথা। ছোট্ট মেয়েটির সরলতা, প্রাণবন্ত উপস্থিতি আর মিষ্টি হাসি আজ শুধুই স্মৃতি। আরেকটি হৃদয়বিদারক স্মৃতি তুলে ধরে তিনি ফেসবুক পোস্টে লিখেন, বছরের শেষ ক্লাসে সৌম্যতা বলেছিল, “ম্যাডাম, আগামী বছর এই স্কুলে আমি আর থাকব না, অন্য স্কুলে চলে যাব।” তখন হয়তো কেউ ভাবেননি, সে শুধু স্কুলই নয়, পৃথিবীর মায়াও ছেড়ে চলে যাবে চিরদিনের জন্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মল্লিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সম্পা তালুকদার লিখেছেন, “কার মেয়ে, কি সমাচার কিচ্ছু জানিনা কিন্তু সে নাকি টাঙ্গুয়া বেড়াতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু বরণ করেছে। এই ফুটফুটে সুন্দর মুখটা দেখে বুকটা কেমন ভার হয়ে গেল। দমবন্ধ লাগছে। সে হয়তো ছুটিতে খুব মজা করেছে আবার রবিবারে স্কুলে যাবার জন্যও ছটফট করছিল। রবিবারে সে আর শহর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাবে না। জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে তার নুপূরের রিনিঝিনি আওয়াজ আর কখনোই শোনা যাবেনা...., আহারে মেয়েটার মা, বাবা পরিবার কি করে সইবে! তার সহপাঠীরা তাকে খুঁজবে, অথচ সে এখন কেবলই ছবি, কেবলি স্মৃতি......। ওপাড়ে ভালো থাকিস রে মা।” তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে শিশুটির সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং বাবার আবেদনের প্রেক্ষিতে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com