বাদাম চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ালেও ফলন নিয়ে শঙ্কা

আপলোড সময় : ০৬-০৬-২০২৬ ০৯:২১:২৪ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৬-০৬-২০২৬ ০৯:২২:৩৭ পূর্বাহ্ন
হাসান বশির::
সুনামগঞ্জে চলতি মৌসুমে বাদাম চাষে আবারও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে কৃষকরা। তবে মৌসুমজুড়ে অতিবৃষ্টির কারণে ফলন প্রত্যাশিত না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন চাষিরা। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের প্রণোদনা সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যদিকে কৃষি বিভাগ বলছে, আগামী মৌসুমে জেলায় বাদাম চাষের পরিধি আরও বাড়বে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালে সুনামগঞ্জে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৮৬৫ হেক্টর জমি। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদিত বাদামের সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ২৭ কোটি টাকা। তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার, সদর, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, ছাতক, শান্তিগঞ্জ, জগন্নাথপুর ও দিরাই উপজেলার উঁচু জমিতে প্রতিবছরই বাড়ছে বাদামের আবাদ। কৃষকদের মতে, বাজারে বাদামের ভালো দাম পাওয়ায় এ ফসলের প্রতি আগ্রহও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে বাদাম চাষে খরচ হয় প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। স্বাভাবিক অবস্থায় বিঘাপ্রতি ১৫ থেকে ১৭ হাজার টাকা পর্যন্ত মুনাফা পাওয়া যায়। কিন্তু চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে অনেক ক্ষেত্রেই ফলন কম হয়েছে। ফলে প্রত্যাশিত লাভ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। সদর উপজেলার কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ফসলের অবস্থা ভালো ছিল। কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে অনেক ক্ষতি হয়েছে। এবার লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদন পাওয়া কঠিন হবে।
এক নারী কৃষক জানান, প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে বাদাম চাষ করেছিলেন তিনি। কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বাদামচাষিদের অভিযোগ, হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত বোরো চাষিরা সরকারি প্রণোদনা পেলেও বাদামচাষিরা এখনো কোনো সহায়তার আওতায় আসেননি। তাদেরও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিকে বাদাম সংগ্রহ, রোদে শুকানো, বাছাই ও বাজারজাতকরণের বিভিন্ন ধাপে স্থানীয় নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি আমন ধান কাটার পর দীর্ঘদিন পতিত পড়ে থাকা জমিতেও এখন বাদাম চাষ হচ্ছে। ফলে অনাবাদি জমি কৃষি উৎপাদনের আওতায় আসছে এবং কৃষকদের আয়ও বাড়ছে। 
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বাদাম চাষ সম্প্রসারণ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওমর ফারুক বলেন, জেলায় ১ হাজার ৮৬৫ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু কৃষকদের আগ্রহে আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে। কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় সব ধরনের কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। বাদাম চাষে আবাদ বৃদ্ধি কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুললেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com