স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জের লোকসংগীতাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নাম, বরেণ্য গীতিকার ও সুরকার পল্লী বাউল জবান আলী। তাঁর লেখা ও সুর করা অসংখ্য গান দীর্ঘদিন ধরে লোকসংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। এই গুণী শিল্পীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে রবিবার (৭ জুন) বিকেলে সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাসন রাজা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল।
সুনামগঞ্জ জেলা বাউল সমিতি আয়োজিত শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি তসকির আলী। এতে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সুনামকণ্ঠের স¤পাদক ও প্রকাশক বিজন সেন রায়, দৈনিক সুনামগঞ্জের ডাক সম্পাদক ও প্রকাশক এবং সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শেরগুল আহমেদ, শিক্ষক ও গবেষক জাকির হোসেন, লোকগবেষক সুবাস উদ্দিন, শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ এনামুল কবির, জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী, মনির নবী, মোশারফ হোসেনসহ জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা।
শোকসভায় বক্তারা বলেন, জবান আলী ছিলেন সুনামগঞ্জের লোকসংগীতের এক নিবেদিত প্রাণ সাধক। তাঁর রচিত অসংখ্য গান মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে আছে। গ্রামীণ জনজীবন, মানুষের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ ও আধ্যাত্মিক ভাবনা তাঁর গানের প্রধান অনুষঙ্গ ছিল। একজন শিল্পী হিসেবে তিনি যেমন জনপ্রিয় ছিলেন, তেমনি শিল্পীসমাজে ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধেয়।
বক্তারা আরও বলেন, জবান আলীর মতো গুণী মানুষের শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য তিনি ছিলেন অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর কাছ থেকে অনেকেই গান, সুর ও লোকসংগীতের নানা দিক সম্পর্কে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তাঁর সৃষ্টিকর্মই তাঁকে মানুষের হৃদয়ে চিরদিন জীবিত রাখবে।
শোকসভায় জবান আলীর জীবন ও কর্ম নিয়ে স্মৃতিচারণ করা হয় এবং তাঁর রচিত গানসমূহ সংরক্ষণের লক্ষ্যে বই ও পাÐুলিপি প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণের আহŸান জানান বক্তারা। তারা বলেন, জবান আলীর সৃষ্টিগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুনামগঞ্জের লোকসংগীত ঐতিহ্যের এক মূল্যবান অধ্যায়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে। শেষে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।